নেফার ও ডায়ামিস আড়াআড়ি বেঁকে গেল। একে অন্যকে কোপ দিল এবং আঘাত করল। যদিও নেফার লাগামের দিকে পিছনে হেলে ছিল কিন্তু ব্রোঞ্জের ফলায় বুকের বর্মের চামড়া কেটে গেল এবং সে ফলার কিনারের তীক্ষ্ণতা অনুভব করল। তখন সে বল্লমের অগ্রভাগ ডায়ামিওসের মুখের দিকে বাড়াল এবং তাকে ঘুরে যেতে বাধ্য করল।
ডোভ খুব কষ্ট করছে। বল্লমের কাটা এখনো তার চামড়ায় ঢুকে আছে এবং বানটা প্রতি পদক্ষেপে তার পায়ে আঘাত করছে। নেফার অনেক কণ্ঠের আওয়াজ শুনল প্রথমে কোমল এবং ধনুকের আওয়াজে এবং চাকার কাঁচ কাঁচ ও গুড়ম গুড়ম শব্দে প্রায় হারিয়ে গেল তা। কিন্তু শব্দটি প্রতি পদক্ষেপে জোরালো হচ্ছে। সে চোখ তুলল এবং গড়িয়ে পড়া ঘামের মধ্য দিয়ে যা তার চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিল, দেখল ফটকগুলো সরাসরি সামনে। শহরের দেয়ালগুলো ও ছাদগুলো মানুষে পূর্ণ। তাদের জয়ধ্বনি কোলাহলের মধ্য দিয়ে যেন সে মিনটাকার কণ্ঠের আওয়াজ শুনল। এটা তার নিজের ক্লান্তির ভ্রম ছাড়া কিছুই না। কিন্তু তা তাকে শক্ত করে তুলল এবং সে ঘোড়াগুলোকে হাক দিল এবং লাগাম দিয়ে তাদের একত্রিত করল। কিন্তু ডোভ দোলছিল ও পড়ে যাচ্ছিল। ডায়ামিওস আবার এল, এবার নেফারের উপর দিকে আক্রমণ করল। শত্রু তার পূর্ণ আঘাত মানুষটার দিকে নয় বরং বল্লমটার দিকে চালাল। তার ফলা নেফারের মুঠির উপর থেকে বল্লমটাকে কেটে আলাদা করে দিল এবং তার হাতে রইল অপ্রয়োজনীয় কাঠের দন্ড। নেফার তা ডায়ামিওসের মাথার দিকে সজোরে নিক্ষেপ করল। কিন্তু সে মাথা নিচু করে তা এড়িয়ে গেল এবং নেফারকে আক্রমণ করল, তাকে পা-দানির অন্যপাশে সরে যেতে বাধ্য করল উজ্জ্বল ফলাটা এড়ানোর জন্য।
ডায়ামিওস তৎক্ষণাৎ সুযোগটা নিল এবং নেফারের সামনে তার পথ নিল। যখন সে আক্রমণ করে কাছে এল তখন সে হাত বাড়িয়ে দন্ডটা ধরল যার উপর নেফারের চুলের বিনুণী নাচছিল এবং বাতাসে দোল খাচ্ছে। সে এটাকে ভেঙে নেওয়ার চেষ্টা করল। যদিও এটা প্রায় দ্বিগুণ বেঁকে গেল তবুও এটা তার প্রয়াসকে রুখে দিল। তখনও এক হাতে লম্বা দন্ডটা ধরে রেখে ডায়ামিওস অন্য হাত বাড়াল পুরু চুলের গোছাটা ধরতে। এটা ঝাঁকি খেল এবং তার আঙুলের ডগায় নেচে উঠল। কিন্তু একই সাথে তলোয়ারের বাটে তার মুঠি আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে সে এবং সে পুরস্কারটা সম্পূর্ণ ধরতে পারল না। সে তার তলোয়ার ফেলে দিয়ে এবার বিনুণিটা ধরল এবং তা ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু বাঁশটা ছিল স্থিতিস্থাপক ও শক্ত এবং বিনুণিটাও শক্ত করে বাঁধা। ক্রুস ও ডায়ামিওসের ডানপাশের ঘোড়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছুটছে। ডায়ামিওস সম্পূর্ণ মগ্ন তার পুরস্কার বাঁশের লাঠি থেকে ছিঁড়তে। সে জানত নেফার নিরস্ত্র এবং কোন প্রকৃত বিপদ নেই এবং সে পাথুরে ফটকটা অবহেলা করল যা আবছাভাবে তাদের সামনে আবির্ভূত হলো। ভিতরে বাঁকা হও। নেফার ক্রুসের উদ্দেশ্যে চিৎকার করল, তাকে তোমার সহায়তা দাও! নেফার লাগামগুলোকে করাতের মতো ব্যবহার করল। এটা হলো তা যার জন্য তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে মরুভূমিতে ঐ মাসগুলো জুড়ে। টাইটার সাথে অন্য দল চালিয়ে নেফার ক্রুসকে এ শক্তির প্রতিযোগিতা ভালোবাসতে শিখিয়েছে এবং এবার সে তার বিশাল ডান কাঁধ বেঁকে দিল। অন্য ঘোড়াটার ঠিক পিছনে তা ঠেলে দিল এবং তাকে ভারসাম্যহীন করে দিল। আবদ্ধ রথগুলো ডানদিকে মোড় নিল, প্রবেশদ্বার দ্রুত চলে আসছিল। প্রবেশদ্বারটা টুকরো করা লাল পাথরে সারি এবং শত বছরের কাঁকড় বাহিত বায়ু তাদের মসৃণ করেছে ও আকৃতি দিয়েছে তবু এখনও তারা ভারি ও বিপদাপন্ন।
তাকে নিয়ে চল। নেফার চিৎকার করে ক্রুসকে বলল এবং লাগামে একটা শক্ত হাত রেখে তাকে উৎসাহ দিল। ক্রুস অন্য ঘোড়াকে জোর করে আরো কয়েক কদম নিয়ে গেল যতোক্ষণ না সে সোজাসুজি নিরেট লাল পাথরের দেওয়ালের দিকে ধাবিত হল।
একেবারে শেষ মুহূর্তে ডায়ামিওস কি ঘটছে সে সম্বন্ধে সচেতন হলো এবং একটি বিপদ সংকেতের জন্য চিৎকার দিয়ে সে বাঁশের দন্ড ছেড়ে দিল এবং তার ছুটন্ত রথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবার চেষ্টা করল, কিন্তু ক্রুস অন্য ঘোড়াটাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল তখন এবং তাকে মাথার বরাবর পাথুরে প্রবেশদ্বারের দিকে নিয়ে চলল।
ডায়ামিওস অনুধাবন করল সে উড়ন্ত রথটাকে থামাতে পারবে না এবং সংঘর্ষ এড়াতে পারবে না। সে উৎক্ষিপ্ত ককপিঠ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু সে ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার উভয় ঘোড়া পাথুরে সারির মধ্য দিয়ে পূর্ণ বেগে ধাবিত হল। প্রচন্ড সংঘর্ষ সাথে সাথে তাদের হত্যা করল। নেফার তাদের শেষ ভয়ার্ত আর্তনাদ শুনল যখন তারা প্রবেশ করল। সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার শব্দ, তাদের ভাঙ্গা হাড়ের মড় মড় শব্দ এবং কাঠের টুকরার ছিন্ন ও বিদীর্ণ হওয়ার শব্দে পরিবেশটি ভারি হয়ে গেল। একটা চাকা পরিষ্কার খুলে গেল এবং এক মুহূর্তের জন্য নেফারের যানের পাশে লাফ দিল। ডায়ামিওস তার একটা বল্পমের মতোই সজোরে নিক্ষিপ্ত হল সোজাসুজি দেয়ালে। প্রথমে তার মাথায় টুকরে গেল এবং তার খুলি এমন ভাবে ফেটে গেল যেন সে একটা বেশি পাকা তরমুজ। তার শক্ত সাদা দাঁতগুলো লাল পাথরের উপরি স্তরে পড়ে রইল, বদমায়েশরা পরে যা চাপ দিয়ে খুলে স্মৃতিচিহ্ন বানাবে, সোনার চেইনে বাধবে এবং বাজারে বিক্রি করবে।
