নেফার ম্যারনকে দ্রুত ঘোড়ার হার্নের্স বাধতে তাড়া দিল এবং হেঁচকা টান দিয়ে ওগুলোকে দীর্ঘ জোড়া দন্ডে তুলল। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে পাদানিতে উঠে নির্দেশিত পতাকার সারি ধরে চলতে শুরু করল। তারা এ সমতলের উপর ঘোড়াগুলোকে সর্বোচ্চ গতিতে তুলল, কারণ এটার শেষে তাওরিনের খামা এবং ইনডাসের ড্রোসা অপেক্ষা করছে। ঘোড়াগুলো তখন দীর্ঘ বিশ্রাম পাবে যখন তাদের চালক বৃত্তে পৌঁছে কুখ্যাত এই দুই আর্টেলার তলোয়ারধারীর সাথে লড়বে। নেফার গতি তুলল এবং নির্দেশিত পতাকাগুলো দ্রুত ফেলে এগিয়ে চলল। তারা শেষ ঢালের শীর্ষে উঠল এবং দেখল তাদের সামনে দীর্ঘ সরু উপত্যাকার অপর প্রান্তে গালালা শহর তার ফটক নিয়ে তাদের স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ খুলে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু উপত্যকার মাথায় তাদের ও শহরের মাঝে, পাহাড়ের অগভীর অংশে লোকের বৃহৎ ভীড়। মনে হল যেন শহরে প্রতিটি শেষ সদস্য শহর থেকে বেড়িয়ে এসেছে তলোয়ারের পরীক্ষা দেখার জন্য। তারা দ্রুত চালিয়ে এল এবং জনতার হৈ চৈ অভিবাদন জানাল।
জনতার ভিড়ের মধ্যে দিয়ে একটা সরু রাস্তা কাঠের রেলিং দিয়ে সীমা চিহ্নিত করা। তারা কেন্দ্রস্থলের দুটো সাদা পাথরের বৃত্তে গেল এবং লাফিয়ে নিচে নামল, এবং সহিসরা দৌড়ে আগে বাড়ল ঘোড়াগুলোকে ধরতে, নেফার ম্যারনকে আলিঙ্গন করল তারা।
তুমি মারাত্মকভাবে আহত; নেফার ম্যারনকে ফিসফিসিয়ে বলল। এতে কোন লজ্জা নেই। কারণ এটা একটা ক্ষত যা সম্মানের সাথে গৃহীত কিন্তু এটা তোমাকে ব্যাহত করবে। তোমাকে ড্রোসার মোকাবেলা করতে হবে না। সে দ্রুত ও শক্তিশালী এবং পুরোপুরি বর্ম পরিহিত। তার থেকে দূরে থাকবে এবং ভাগতে থাকবে যততক্ষণ না আমি তোমাকে সাহায্য করতে না আসি।
তারপর তারা আলাদা হলো। প্রত্যেকে তাদের নিজেদের আম্পায়ার কর্তৃক নির্ধারিত বৃত্তের দিকে গেল এবং নেফার সাদা রঙের পাথরের সারির কাছে থামল ও কেন্দ্রস্থলে যোদ্ধার দিকে তাকাল। তাওরিনের খামা পুরো বর্মে সজ্জিত, শিরস্ত্রাণ বুকে ও পায়ে বাঁধা। যদি নেফার ও ম্যারন একই নিরাপত্তা চাইত তবে শুরু থেকে তাদের রথে তা বহন করতে হত। কিন্তু দুটি পোশাকের ওজন এমনকি ক্রুসের শক্তিকেও শুষে নিত। পাথরের বৃত্তের কিনারা হতে নেফার তার প্রতিপক্ষকে পর্যবেক্ষণ করল। খামার হেলমেটা তার বিভৎস মুখের কানের উপরে পর্যন্ত ছড়ানো এবং নাকের অংশটা ঈগলের মতো চোখা। চোখটা যা ফুটোর পিছনে ঝিকমিক করে উঠলছিল অমানবিক ও কৃপাহীন দেখাল। তার বুক ব্রোঞ্জের বর্মে সুরক্ষিত। তার দস্তানা সোনালি মাছের আঁশে ঢাকা। সে তার বাম কাঁধে একটা ছোট বৃত্তাকার ঢাল বহন করছে।
গলা, কবজি, বগল, গোড়ালির গাট এবং চোখ। টাইটা নেফারকে নির্দেশনা দিয়েছে, এছাড়া সব ঢাকা। নেফার তার মাথার উপর লসট্রিসের মাদুলিটা তুলল এবং সোনার চেইনটা তার বাম কব্জিতে প্যাঁচালো। তারপর সে ক্ষুদ্র সোনার আবরণটা তার ঠোঁটের কাছে ধরল এবং ওটাতে চুমু খেল। সে সাদা পাথরের উপর দিয়ে পা বাড়াল এবং সামনে এগোলো তাওরিনের খামাকে মোকাবেলা করতে।
তারা ডান দিক দিয়ে একবার ঘুরল, তারপর ফিরল এবং হঠাৎ খামা আঘাতের পর আঘাত ও কোপের উপর কোপ দিতে লাগল, সেগুলো এতো দ্রুত ছিল যে চোখ এড়িয়ে যায়। বর্মের ওজন বহন করে নেফার তাকে এতো দ্রুত হওয়ার আশা করে নি। তাকে হারাতে তাকে তার সব দক্ষতা ও শক্তি প্রয়োগ করতে হবে এবং এখনই সে তার চামড়া দেহ বর্মের মধ্য দিয়ে একটা কোপ খেল যা তার পাজরে লাগল। সে গরম রক্ত তার টপটপ করে ঝরতে অনুভব করল এবং আবার বৃত্তাকারে খামা ঘুরল।
জনতা চিৎকার ও গর্জন করছিল। তাদের চতুর্দিকে একটা সাগরের ঝড়ের মত তা মনে হল। কিন্তু হঠাৎ নিরবতায় যখন তারা চুপ হল সে ব্যথার একটা চিৎকার শুনল। অন্য বৃত্ত থেকে তা এল এবং সে ম্যারনের কণ্ঠ চিনল। ম্যারন একটা আঘাত পেল এবং শব্দটায় মনে হল আঘাত মারাত্মক। তার নেফারের সাহায্যে দরকার। সম্ভবত তার জীবন এর উপর নির্ভর করছে। কিন্তু নেফারের নিজের জীবনই এখন ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে। কারণ সে পূর্বে কখনোই খামার মতো প্রতিপক্ষের সাথে মোকাবেলা করেনি। এমনকি টাইটও তার কোন দুর্বলতা সম্পর্কে ভবিষৎবাণী করতে পারেনি। তারা আবার এক সাথে বৃত্তের মধ্যে আক্রমণ চালাল ধাতুর উপর ধাতুর আঘাতে ঢং ঢং শব্দ তৈরি করল। হঠাৎ নেফার প্রতিপক্ষের একটা ক্ষুদ্র দোষ লক্ষ্য করল। যখন খামা মাথা নিচু করে কোপ দেয় তখন তার বাম দিকটা এক মুহূর্তের জন্য খুলে যায় এবং তার মাথা তখন সামনে বাড়ায় একটা অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে।
নেফার জানে সে বেশিক্ষণ টিকতে পারবে না। খামা তার তুলনায় অতিরিক্ত দক্ষ ও শক্তিশালী।
সব কিছু পাশার একটা চালের উপর, সে ঝুঁকিটা নিল এবং তার ডান নিতম্ব অরক্ষিত রাখল টোপ হিসেবে। খামা সেদিকে এগিয়ে গেল নিচু কোপ দিতে। তার সম্মুখ খুলে গেল এবং তার মাথা সামনে এগোলো। এর জন্য নেফার প্রস্তুত ছিল, সে তার নিতম্ব দুলিয়ে আঘাত এড়িয়ে গেল এবং ফলাটা তার স্কার্টের আঁচল ভেদ করে গেল রক্ত না ঝড়িয়েই।
লসট্রিসের সোনার মাদুলিটা ঝিকমিক করে উঠল যখন সে তা ঘুরালো, তারপর নেফার চেইনটার শেষ প্রান্ত দিয়ে গুলতির আঘাতের মতো তাকে কশাঘাত করল। চেইনটাকে ব্যবহার করল আঘাতটার গতি সঞ্চার করতে। এটা রোদে আলোর শানিত রশ্মি হয়ে গেল যাতে খামার হেলমেটের অক্ষি কোঠার ঝলসে উঠল এবং তীক্ষ্ণ ধাতব প্রান্ত তার অক্ষি গোলকে ঢুকে গেল।
