ক্রুস তার পিছনে খুব কাছাকাছি ফলার ঘর্ষণ ও চিৎকার শুনল এবং প্রতিবাদে পিছনে ধাবিত হল। সেতুটা লাফিয়ে উঠল এবং তার নিচে ওটা নড়ে চড়ে উঠল। এবং একটা ভয়ংকর মুহূর্তের জন্যে মনে হল ঘোড়াটা হয়তো তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে এবং পাশ দিয়ে পড়ে যাবে। কিন্তু কোন অলৌকিক ভাবে সে তার চারপায়ে ভারসাম্য রাখল এবং কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়াল হিংস্রভাবে দুল্যমান সরু পথটার উপর।
রাসতাফাও হোঁচট খেল এবং কিনারে টলমল করতে করতে দাঁড়ালো, সে তার বাহু বাতাসে ছড়িয়ে দিল তার ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে। নেফার তার দিকে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং ফলাটা ঢুকিয়ে দিল তার উঁচু করা বাহুর নিচে। ব্রোঞ্জের ফলাটা পাজরের মধ্য দিয়ে পিছলে গেল এবং গভীরে চলে গেল। রাসতাফা তার দিকে মৃদু বিস্ময় নিয়ে তাকাল এবং বলল, লেগেছে, সেথের কসম, এটা আঘাত করেছে!
নেফার হেঁচকা টান দিয়ে ফলাটা বের করে নিতেই রাসতাফার হৃদপিন্ডের রক্ত এটার পিছনে ঝরে পড়ল। রক্তিম পদার্থটা বের হল দ্রুত বেগে। সে নড়বড়ে হয়ে গেল এবং পিছন দিকে পড়ে অতল গহ্বরে চলে গেল, হাত ও পা চাকার স্পোকের মতো ছড়িয়ে। তার কণ্ঠ ছিল বন্য, চিৎকার ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে গেল যখন সে পড়ে গেল এবং শব্দটা হঠাৎ বিছিন্ন হয়ে গেল। তার বর্ম গিরিখাতের পাথরে লেগে ঠনঠন শব্দ করল। তার সঙ্গীরা সেতুর মাথায় ইতস্তত করল, ঐ মৃত্যুর ভয়ে আতংকিত।
নেফার সুযোগটা নিল, পিছু ঘুরে ক্রুসের কম্পমন পশ্চাৎ দেশে হাত বুলালো, স্থির হও, ক্রুস, আমি এখানে, আমার প্রিয়, হাঁট। কুস তার কণ্ঠ পেয়ে শান্ত হল এবং তারপর যখন সেতুর বন্য ঘূর্ণন শান্ত হল, সে এক কদম সামনে বাড়ল, তারপর আরেক বার।
হাঁট, ক্রুস, হেঁটে এগিয়ে যাও। তারা প্রায় অর্ধেক রাস্তা অতিক্রম করেছে এমন সময় ম্যারন চিৎকার করে তাকে সতর্ক করল, তোমার পিছনে দেখো, ভ্রাতা।
নেফার ঠিক সময়ে ঘুরল অন্য একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে। নেফার তাকে নামে জানত। সে একজন লিবিয়ান দাস এবং তার স্বাধীনতার অধিকার চাচ্ছিল। ভয়হীন ভাবে সে সরু ডেকে দৌড়ে নেমে এল সোজা নেফারের দিকে। সে তার পুরো শক্তি ব্যবহার করল এবং নেফার শুধুমাত্র প্রথম আঘাতটা পাশে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হল। তারা ফলা আবদ্ধ করে একে অন্যকে জিঘাংসু আলিঙ্গনে আবদ্ধ করল তাদের মুক্ত হাত দিয়ে। তারা তাদের সবলে টান দিল এবং কুস্তি করল, ধাক্কা দিল সুবিধার জন্য। কুস তার পিছনে লড়াই শুনল এবং তা তাকে তাড়না দিল। সে আবার সামনে ঝুঁকে পড়ল আরো কয়েক পদক্ষেপ, অন্য তীরের নিরাপত্তার দিক দিয়ে।
নেফার আবার লোকটার মুখোমুখি হল, তার দাঁতগুলো কালো এবং অমসৃণ এবং তার নিঃশ্বাসে পঁচা মাছের গন্ধ। সে ঐ নোংরা তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো নেফারের মুখে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল। একটা কুকুরের মতো তাড়া দিয়ে কামড়ে এল। কিন্তু নেফার পিছিয়ে গেল। তারপর সে তার কপাল বরাবর হেলমের চূড়া ও নাকের সংযোগের উপর সজোরে আঘাত করল। সে বুঝল লোকটার হাড় ও কোমলস্থি ভেঙ্গেছে এবং লোকটা তার মুঠি ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেল। সে তার পদ স্থাপন হারিয়ে ফেলল এবং নিজেকে স্থির করতে সেতুর পাশের রশি ধরল। তার পিঠ খাদের উপর নেমে গেল। নেফার তার আকড়ে রাখা আঙ্গুলগুলো মুক্ত করে দিল এবং সে পিছলে গেল বাতাসে চিৎকার করতে করতে।
মনে হল দীর্ঘ সময় ধরে পড়ল সে, তারপর অনেক নিচে পাথরে দুম করে পড়ার শব্দ হল
তার পিছনে সরু পথে তিনজন লোক ছিল ডায়ামিওসের নেতৃত্বে। তার ক্ষতটা সে বেঁধেছে এবং মনে হলো অক্ষত। কিন্তু তার দুই সঙ্গীর কি হয়েছে সে তা দেখেছে এবং এখন সে আরো বেশি সর্তক। নেফার তাকে আক্রমণ করল। হঠাৎ ম্যারন বিজয়ের চিৎকার দিল, আমরা পেরিয়ে গেছি, মহামান্য। এবং সে শুনল ক্রুসের খুর পাথুরে তীরে ঠনঠন আওয়াজ করছে। ক্রুস পেরিয়ে গেছে।
নেফার ঘুরে দেখল না কারণ ডায়ামিওসের ফলাটা তার চোখের সামনে ঝিকমিক করে উঠল রোদে। নেফার তখন চিৎকার করে বলল, সেতু কেটে দাও ম্যারন, প্রধান অবলম্বনটা কেটে দাও এবং তাকে পড়ে যেতে দাও।
ডায়ামিওস আদেশটা শুনল এবং বিপদসংকেতে লাফিয়ে পিছু হটল। সে তার কাঁধের উপর দিয়ে পিছনে দেখল এবং পরিমাপ করল সে সরু পথে কতটুকু চলে এসেছে ও অন্য প্রান্ত কত দূরে।
ম্যারন দুটো পুরু রশির উপর দাঁড়াল সেগুলো সরু পথের সম্পূর্ণ ভার বহন করছে। সে একটা কোপ দিল এবং তার প্রথম আঘাত অর্ধেক পর্যন্ত দেবে গেল। তম্ভগুলো ফট করে শব্দ করে আলাদা হয়ে গেল এবং মিলিত হওয়া সাপের মতো খুলতে শুরু করল। ক্ষীণ ভয় ডায়ামিওসের ঘর্মাক্ত চেহারায় খেলল এবং ঘুরে পালাল, তার সঙ্গীরাও তার সাথে সরু পথে ফিরে গেল। নেফার ঘুরে দৌড়ে ম্যারনের সামনে চলে এল। সে সেতুর প্রান্তে পৌঁছে লাফ দিয়ে নিরাপদ স্থানে। গেল। সঙ্গে সঙ্গে তখন ম্যারন অন্য প্রধান অবলম্বনটা কেটে দিল এবং সমগ্র সেতুটি কেঁপে উঠল। তারপর ভয়ংকরভাবে এক দিকে কাত হয়ে থাকল ওটা। ডায়ামিওস নিজেকে টেনে শক্ত ভূমিতে তুলল, আর ঠিক তখন সেতুটা বেঁকে অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল। নেফার গিরিখাতের অপর প্রান্তে তা দেখতে কয়েক সেকেন্ড নষ্ট করল। সে দেখল ডায়ামিওস ও বেঁচে যাওয়া ধাওয়াকারীরা ইতোমধ্যে তাদের রথে চড়ে বসেছে এবং জ্বলন্ত ঘাসের বেড়ার শেষ ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে এক সারি করে গতি তুলে এগিয়ে যাচ্ছে। গিরিখাতের কিনার বরাবর রাস্তা অনুসরণ করে চলছে তারা যা তাদেরকে ওপাশে নিয়ে যাবে যেখানে পর্বতগুলো সমতল হয়ে গেছে। সেখানে পৌঁছে তারা আবার তাদের ধাওয়া করতে পারবে।
