প্রথম দিন তারা দুজন পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ ভূমির পাশে বসে ঘোড়াগুলো দেখে কাটিয়ে দিল। তারা একত্রে বসে নিচে চলাফেরা রত ঘোড়াগুলোকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। নেফার একটি চমৎকার সাদা কোল্ট নির্দেশ করতেই টাইটা মাথা নেড়ে নাকচ করে দিল সাথে সাথে। ধূসর বর্ণের প্রাণীগুলো দেখতেই সুন্দর যা। কিন্তু আমি এদের বিষয়ে সন্তুষ্ট নই। আমি যতদূর দেখেছি তাদের প্রাণশক্তি এবং জোর কম থাকে। আমাদের হয় কালো কিংবা অন্য কোন বর্ণের খুঁজতে হবে।
নেফার পুনরায় একটি ধবধবে সাদা ব্লেজকে নির্দেশ করল, কিন্তু টাইটা আবার মাথা নেড়ে তা খারিজ করে দিল। বেদুইনেরা বলে সাদা প্রাণীর দিকে শয়তান কিংবা জ্বীনের দৃষ্টি বেশি নিবদ্ধ হয়। আমি কোন সাদা প্রাণী পছন্দ করতে ইচ্ছুক নই।
তুমি তাদের ঐ সব কথা বিশ্বাস করো?
টাইটা জোরে মাথা ঝাঁকাল। সাদা হচ্ছে কবরের চিহ্ন। তুমি এবং তোমার দলকে অবশ্যই ফারাও এর মতোই দেখতে হতে হবে।
রাত অব্ধি তারা এভাবে কাটিয়ে দিল। পরদিন ভোরে তাদের সাথে ম্যারন এবং রাজকন্যারাও যোগ দিল। তারা ঘোড়া বাছাই করতে লাগল, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কোন কিছুই হল না। এদিকে ঘোড়াগুলো বেশ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ওগুলোকে একত্রিত হতে দিল এবং অবশেষে সেগুলো একত্রে ঘাস খেতে লাগল।
আমি ঐ কাল কোল্টটা পছন্দ করছি। নেফার বলল।
ওটা খোঁড়া। ইতোমধ্যে ওটা তার সামনের বাঁ-পায়ে খোঁড়াচ্ছে।
ওটা খোঁড়া নয়। নেফার প্রতিবাদ করল।
ওটার বাম কানটা লক্ষ্য করো। প্রতি পদক্ষেপে তা নিচু হচ্ছে। ম্যারনকে বলল ওটাকে পরীক্ষা করতে।
কিছুক্ষণ পর নেফার একটি কাল রঙের ঘোটকী নির্দেশ করল। তার মাথাটা সুন্দর এবং চোখ দুটো বেশ উজ্জ্বল।
ওটা অধিক শক্তিশালী। তার চোখ দুটো যতোটা না বুদ্ধিদীপ্ত প্রখর তার চেয়ে বেশি নার্ভাস। যুদ্ধক্ষেত্রে ওটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ম্যারন ইচ্ছে করলে পরখ করে দেখতে পারে।
ঐ লম্বা লেজ এবং পিঠবিশিষ্ট কালো কোল্ট কেমন হবে?
সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে মাত্র ছয়টি ঘোড়া অবশিষ্ট ছিল পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায়। বেশ কিছুক্ষণ নীরবে তারা ঘোড়াটা পর্যবেক্ষণ করে গেল।
অবশেষে ম্যাগোস কথা বলল, ওটার মাঝে আমি কোন ত্রুটি খুঁজে পাচ্ছি না। তার দ্যুতিময় চোখ দেখে মনে হয় যেন তার হৃদয় থেকে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে।
আমি তাকে ক্রুস নামে ডাকবো। নেফার সিদ্ধান্ত নিল। এটা একটি বেদুইন নাম, যার অর্থ আগুন।
হ্যাঁ, নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার জানা মতে কোন চমৎকার ঘোড়ার কুৎসিত নাম হয় না। কেননা ঈশ্বর তাদের নাম দিয়ে চিনবেন। ক্রুসকে তোমার ডান দিকের বাহক রূপে নিবে। কিন্তু এখন বা দিকেরটা খুঁজা প্রয়োজন।
আরেকটি কোল্ট! নেফার উত্তেজিত ভাবে বলে উঠল। কিন্তু টাইটা তাকে থামিয়ে দিল।
না, আমাদের এখন বা-দিকের জন্যে একটি ফিল্লি ঘোড়া দরকার। পরিশ্রমী, যে শক্ত রাস্তায়ও ক্লান্ত হবে না।
তুমি নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে ওটা পছন্দ করে ফেলেছে, না-কি? নেফার জিজ্ঞেস করল।
এবং তুমিও। টাইটা মাথা নাড়ল সম্মতিতে। আমরা উভয়েই জানি কোনটি হবে তা।
তাদের দৃষ্টি নির্দিষ্ট ফিল্লিটার উপর নিবন্ধিত হল, ওটা প্রধান সেচ নালাটির কাছে তখন ঘাস খাচ্ছিল, ক্রুস থেকে পুরোপুরি আলাদা দেখতে। যেন প্রাণীটা তাদের কথা শুনতে পেল, মাথা তুলে ওটা তাদের দিকে তার উজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকাল।
ঘোটকীটা খুব সুন্দর, নেফার আনমনে বিড়বিড় করে উঠল। আমি কোন দড়ি ছাড়াই তাকে আয়ত্তে নিতে চাই এবং আমি তা চেষ্টা করতে যাচ্ছি।
সে দাঁড়িয়ে ম্যারনের উদ্দেশ্যে বলল; অন্য ঘোড়াগুলোকে সরিয়ে নাও, শুধুমাত্র ফিল্মিটা ছাড়া।
নেফার ফিল্পিটার কাছে এগিয়ে গেল। ওটার মন ভোলাতে সে সুর করে গান গাইতে লাগল।
এসো, প্রিয়তমা।
প্রাণীটা অস্বস্তিতে নাক ফুসল ঘন ঘন।
সুইট হার্ট, সে আদুরে গলায় বলল। আমার ভালোবাসার ধন।
ঘোটকীটা যেন এক পা এগিয়ে এল। নাকটা উঁচু করল। নেফার এগিয়ে গিয়ে তাকে স্পর্শ করতেই প্রাণীটা লাফিয়ে বিদ্যুৎ বেগে সরে গেল।
বাতাসের মতই তার গতি। ম্যারন বলে উঠল।
ডোভ, নেফার বেদুইন শব্দটা ব্যবহার করল যা উত্তরের বাতাস বুঝায়, মৃদু শীতল হাওয়া শীতকালে প্রবাহিত হয়। ডোভ, এর নাম দিলাম।
.
পরবর্তী দিনগুলোতে তারা প্রাণী দুটোকে বশ মানাতে বিভিন্ন কসরত করে গেল। এমন কি নেফার নাওয়া-খাওয়া ভুলে ওদের পিছনে সময় ব্যয় করতে লাগল। মিনটাকাকে পর্যন্ত পর্যাপ্ত সময় দিল না।
একদিন মিনটাকা অভিযোগের সুরে বলল, আমি ঈর্ষায় পুড়ে মরছি। ইতোমধ্যে তারা আমার চেয়েও তোমাকে দেখি বেশি ভালোবাসতে শুরু করেছে।
তুমি দেখছি আর সব সাধারণ মহিলার মতো করে কথা বলছ।
কথাটা বলেই নেফার একটা শীষ বাজাল। ডোভ মাথা উঁচিয়ে তার দিকে তাকাল এবং তার সাথে মিলিত হতে এগিয়ে এল। আরেকবার শীষ দিতে সও এগিয়ে এল। তারা দুজনে প্রাণীগুলোকে আদর করতে লাগল।
টাইটা তখন কাছে এসে দাঁড়াল। একটি রাজকীয় জোড়া। তারা রেড রোড পাড়ি দিতে যথেষ্ট পরিশ্রম করবে।
হ্যাঁ, ডোভ বাতাসের মতো খামসিন হয়ে গতি তুলবে, দেখো। আনন্দে বলল মিনটাকা।
পরবর্তী দিনগুলোতে তারা প্রাণীগুলোকে রেড রোডের জন্যে প্রস্তুত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে গেল। গালালার মরুতে নেফার ও ম্যারনের যুগ্ম অংশ গ্রহণে চলল কঠোর অনুশীলন।
