মেকলি রিভারস-এর মাথায় আঘাত করতে গেল। রিভারস তাকে প্রতিহত করে নিজের তলোয়ার দিয়ে মেকলির মুখে আঘাত করল। দ্রুত পিছিয়ে গেল লোকটা। কিন্তু রিভারস তাকে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে গেল। মেকলি পুনরায় আঘাত করতে আসলে রিভারস তার তলোয়ার-এর অর্ধেকটা মেকলির ডান বগলের নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। মেকলির হাত থেকে তলোয়ারটা নিচে পড়ে গেল সাথে-সাথে। রিভারস মেকলির খুব কাছাকাছি গিয়ে বাম হাতদিয়ে পেছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরল, এরপর ডান হাতে তলোয়ারটা ধরে এদিক সেদিক নাড়িয়ে ক্ষতটা বড় করতে থাকল যেন হার্টটা দুখণ্ড হয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
যখন মেকলি হাঁটু ভাজ করে নিচে পড়ে গেল তখন সে হ্যাঁচকা টান দিয়ে তলোয়ারটা তুলে ফেলল।
“আর কেউ আসবে?” রিভারস দৃঢ় কণ্ঠে সবার উদ্দেশ্যে চেলেঞ্জ ছুরে দেয়।
তার সমর্থকেরা তার আশেপাশে জড়ো হতে থাকে। মেকলির সমর্থকদের সে খুব ভালভাবেই চিনে ছিল। এরা পুরো সপ্তাহ জুড়ে সবার কাছ থেকে মেকলির ব্যাপারে সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল। এখন কাঁকড়া আর মাছের খাদ্য হওয়া ছাড়া এদের আর কোনো গতি নেই।
“ক্যাপ্টেন,” তার একজন লোক বলে উঠল। এক সেকেন্ড এর জন্য তার মনে হলো আজকের মতো হত্যাযজ্ঞ শেষ হয়নি-আরো বাকি আছে।
“ক্যাপ্টেন। জাহাজ, লোকটি আবার বলে উঠল। সে সাগরের দিকে ইশারা করল। রিভারস আরও ভালভাবে দেখার জন্য ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেল।
“ভেসে আসা রণতরীটা তো বেশ সুন্দর! ডাউলিং বেশ উফুল্ল হয়ে বলে উঠে।” বেশ জাঁকজমকপূর্ণ লাগছে ওটাকে। কী অসাধারণ উজ্জ্বল আলো জ্বলছে ওটার ডেকে।
রণতরীটা যতদ্রুত চলার কথা ঠিক ততটা দ্রুত চলছে না। ওটার অর্ধেকটা পাল তোলা আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটার নাবিক বেশ সতর্কতার সাথেই জাহাজটা চালনা করছে। কিন্তু কেন সে এই দ্বীপের দিকে এগিয়ে আসছে? রিভারস নিজেকেই প্রশ্ন করে। অধিকাংশ জাহাজই দ্বীপ থেকে অনেক দূরবর্তী চ্যানেল-এর মাঝ দিয়ে চলে যায়।
“কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্যাপ্টেন সম্ভবত যে কি-না ধনসম্পদের আশায় ক্যাপ্টেন রিভারস ও তার নাবিকদের পেছনে এসেছে, ডাউলিং ক্যাপ্টেন-এর চিন্তিত মুখ দেখে সম্ভাবনার কথা বলে দিল।
“সে যদি আমাদের জালে ধরা পড়ে তবে আমরা রাজার মতো ধনী হয়ে যাব,” আরেকজন তার মতামত প্রকাশ করল। রিভারস বুঝতে পারে তার নাবিকদের মধ্যে এগিয়ে আসা জাহাজটা নিয়ে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
“আমাদের থেকে অন্তত দ্বিগুণ বন্দুক রয়েছে তার। কোয়াটারমাস্টার ডাউলিং ক্ষুধার্ত চোখে জাহাজটার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে। ওদেরকে আটকানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আমরা লোকবল হারাবো, নৌকো হারাব।”
রিভারস মাথা নাড়ে কারণ সে জানে কথাগুলো সত্যি। কিন্তু তার নাবিকেরা চাচ্ছে জাহাজটাকে আটক করতে। “তারা যদি আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় তাহলে কোনোদিন জানতেও পারবে না যে আমরা এখানে আছি,” “সে এই মতামতটা দিয়ে নাবিকদেরকে আরো জাগ্রত করার চেষ্টা করল। অথবা…”
সে তার পরিবর্তিত প্রস্তাবটা শেষ করল না। সে জানে খুব শীঘ্রই ইলহা কুইফুকুই দ্বীপটা রণতরীর ক্যাপ্টেন-এর নজরে আসবে। তখন সে জাহাজের অগ্রভাগটা পশ্চিম দিকে ঘোরাবে দ্বীপের কিনারে নিয়ে আসার জন্য। তখন যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে জাহাজটাকে ফাঁদে ফেলার জন্য। “আমরা দ্বীপের দক্ষিণ দিক থেকে পানসিতে করে নাবিকদের পাঠাব। ওদের বন্দুকধারীদেরকে চিন্তা করার একটু সময় দিব। যখন ওরা একিলিস-এর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে তখন আমাদের নাবিকেরা পেছন থেকে ওদের জাহাজে আক্রমণ চালাবে।”
ডাউলিং মাথা নাড়ায়। পূর্বেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। ঈশ্বরের ইচ্ছে থাকলে আজকেও সেটা কাজে দিবে।
রিভারস তার নাবিকদেরকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু কিছু একটা তাকে থামিয়ে দেয়।
“জাহাজটা তার দিক পরিবর্তন করছে মি. ডাউলিং। সে জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে থাকল। সেটা সূর্যের তাপের কারণে নয় বরং কিছু একটা তার কাছে অন্যরকম মনে হচ্ছে। রণতরীটা তার সম্মুখভাগ দ্বীপের পশ্চিম দিকে নয় বরং পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছে-তাদের দিকেই আসছে ওটা। কিন্তু কেন?”
“সে আমাদেরকে দেখতে পেয়েছে। ডাউলিং বলে উঠল।”
রিভারস মাথা নাড়াল। সে নিশ্চয়ই জানে যে আমরা এখানে আছি। নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য আছে ওর।
“সম্ভবত কিং চার্লিং তার বদমাশ লোকগুলোকে আমাদের পেছনে লাগিয়েছে”, নাবিকদের একজন বলে উঠে।
“কিন্তু তারা কী এতদূরে আসার সাহস দেখাবে?” একজন রমণী চিৎকার দিয়ে বলে উঠল।
কিন্তু এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে জাহাজটি তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। জাঁকজমকপূর্ণ শক্তিশালী জাহাজটা তাদের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছে। কিন্তু দ্বীপে আসতে হলে তাদেরকে বালির পাড় থেকে বেশ খানিকটা দুরে নোঙর ফেলতে হবে। আর একিলিস দ্বীপের কাছেও নোঙর ফেলতে পারে।
“আমাদেরকে এখনই পালাতে হবে, ক্যাপ্টেন ডাউলিং বলে উঠল। যেদিক দিয়েই সুযোগ পাই সেদিক দিয়েই আমাদেরকে যেতে হবে। নষ্ট করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই।”
যদিও জাহাজটা তাদের কাছ থেকে অনেকটা দূরে রয়েছে তবুও কোয়ার্টার মাস্টার-এর কণ্ঠে এক ধরনের দ্রুততা এবং ভয়ার্ত ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
