“খুব ভাল হবে তাহলে,” জুডিথ বলে, “তাহলে আমি আরও একটা রাত উপকূলে কাটাতে পারব। সত্যিকারের বিছানায় আমার ঘুমটাও বেশ ভাল হবে, আর আরেকটা কাজও খুব ভালভাবেই করা যাবে…”
হাল ভেতরে গিয়ে দেখতে পায় জুডিথ ছোট ছোট কম্বল সেলাই করছে বাচ্চার জন্য। আর মসি অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে সেটা দেখছে। এমন সময়ে মি. পেট দেখা করতে আসল।
“গুড ইভিনিং মি. পেট,” হাল তাকিয়ে দেখে পরিচিত চেহারার চিকন চাকন লোকটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। “গ্রে কী আপনাকে সাহায্য করতে রাজি হয়নি?”
“ঠিক তা নয় ক্যাপ্টেন,” হাল এবং অ্যাবোলি উভয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু মাথা ঝাঁকিয়ে পেট জবাব দেয়। বরং তিনি আমাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করতে একমত হয়েছে এবং অফিসিয়ালি কোম্পানির পক্ষ থেকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে। এমনকি তিনি আমাকে কিছু অগ্রিমও দিয়েছেন যাতে আপনি আমাকে যে আতিথেয়তা দেখিয়েছেন আমি যেন তা কিছু প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে পারি। আপনি এবং অ্যাবোলি আমার সাথে ডিনার করবেন। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে অন্তত এক কাপ চা বা পানীয় হলেও আহার করবেন।”
হাল উত্তর দেয়ার আগেই পেট সামনে ঝুঁকে আরও বিনয়ের সুরে বলতে শুরু করল, “যখন আমি রাষ্ট্রদূত-এর বাড়িতে ছিলাম তখন একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর সেখানে পৌঁছায়। আমার মনে হয় সেই খবরটা আপনার শোনা উচিত। তবে আপনাকে অনুরোধ করব জেনারেল নাজেত-এর সামনে খরবটা না শুনতে।”
“এখন পর্যন্ত এমন কিছু নেই যেটা আমি জেনারেল নাজেকে বলি নি,” হাল উত্তর দেয়।
“এমনও হতে পারে যে এটা শোনার পর সে ইথিওপিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়বে-এমনকি যদি আপনি তার সাথে না যান তবুও…”
হাল কঠোর দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে বলল, “এরকম কিছু ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপনি এসব হেয়ালিপনা বন্ধ করে সত্যি করে বলুন আসলে কী বলতে চান?”
পেট দীর্ঘশ্বাস ফেলে এদিক সেদিক তাকিয়ে এরপর হাল-এর দিকে তাকিয়ে বলল, “দ্য গ্রেইল, ক্যাপ্টেন কার্টনি। আমি হলি গ্রেইল নিয়ে কথা করতে এসেছি। এরপরও কী আপনার মনে হয় না ব্যাপারটা নিয়ে গোপনে কথা বলা প্রয়োজন?”
হাল অদৃশ্য দৃষ্টি দিয়ে সুদূর অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মন চলে গিয়েছে ইথিওপিয়ার অ্যাডেন-এর গালফ পাহাড় এবং রক পাহাড়ের বাইরে। অনেক রক্ত ঝরেছে সেখানে। অনেক মৃত্যু ঘটেছে শুধু গ্রেইল উদ্ধার করার জন্য। এটাই সেই পাত্র যেটার মধ্যে খ্রিস্টের ক্ষত থেকে ঝরে পড়া রক্ত জমা করা হত, খ্রিশ্চিয়ানদের জন্য যেটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। ইথিওপিয়ার খ্রিশ্চিয়ান মহারাজার হয়ে জুডিথ এই হলি গ্রেইল রক্ষা করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছে। নউটনিয়ার নাইট হিসেবে হলও একই রকম শপথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইথিওপিয়া থেকে যখন এটা চুরি যায় তখন হাল এবং জুডিথ দুজনে মিলে এটা উদ্ধারে সহায়তা করে। পেট হয়ত ঠিকই বলেছে। এখন যদি আবার এটার কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে জুডিথ-এর সম্মান তাকে ইথিওপিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য করবে।”
অ্যাবোলিও একই দিক বিবেচনা করে বলে, “আমাদের মি. পেট-এর সাথে যাওয়া উচিত। এমন অনেক সময় আসে যখন কোনো পুরুষের তার নারীর প্রতি মনোযোগ দেয়া দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আবার এমনও কিছু সময় আসে যখন নারীর স্বার্থেই কিছু-কিছু কথা তাকে না বলাটাই উচিত কাজ হিসেবে ধরা যায়। তাই এ ব্যাপারটা নিয়ে আমাদেরই আলোচনা করা উচিত।”
হাল হাঁ-সূচক মাথা নাড়ায়। “আচ্ছা ঠিক আছে মি. পেট। আমাদের আলোচনার পর আপনি আমাকে এবং অ্যাবোলিকে পথ দেখিয়ে এখানে ফিরিয়ে আনবেন, ঠিক আছে?” এরপর হাল বাড়ির ভেতর ফিরে যায় এবং জুডিথ-এর একটা হাত নিজের হাতের ওপর নিয়ে বলে, “মাই ডিয়ার, মি. পেট আমাকে এবং অ্যাবোলিকে নিমন্ত্রণ করার মাধ্যমে কিছুটা প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কথা দিচ্ছি, আমরা যতদ্রুত সম্ভব তোমার কাছে ফিরে আসব।”
জুডিথকে বেশ ভাল করেই জানে যে কোনো সম্মানিত নারীর এধরনের পুরুষালি আয়োজনে যাওয়া উচিত নয়। জুডিথ বলল, “খুব তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।” এবং এরপর পেটকে শুনিয়ে বলে, “ক্যাপ্টেন কার্টনিকে দ্রুত ছেড়ে দেবেন কিন্তু। কাল ভোরেই আমাদের এখান থেকে চলে যাওয়ার কথা। তাই যাত্রার আগে আমাদের অন্তত কিছুটা সময় একান্তে কাটানো দরকার।”
“আমি বুঝতে পেরেছি ম্যাডাম। আপনার কথার অন্যথা হবে না,” পেট উত্তর দিল। “তবে ম্যাডাম, ক্যাপ্টেন কার্টনি আমাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে আমার যে উপকার করেছেন সেটুকুর কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ আমাকে দিন।”
হাল দেয়ালের কাছে গিয়ে হুক থেকে তলোয়ার লাগানো বেল্টটা খুলে নিয়ে কোমড়ে পরতে শুরু করল। হালকে অস্ত্র সাথে নিতে দেখে পেট বলল, “এসবের কোনো প্রয়োজন নেই ক্যাপ্টেন। আমার মনে হয় না আমরা মিষ্টি এবং পানীয় খেতে গিয়ে কোনোরকম বিপদের সম্মুখীন হব।”
“আমি রাতের বেলা একটা বিদেশি শহরের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, স্যার। কে জানে কখন কী ঘটতে পারে?” হাল উত্তর দেয়।
পেট অদ্ভুত দৃষ্টিতে হাল-এর দিকে তাকায় এবং কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে। “আপনার যেমন ইচ্ছে, ক্যাপ্টেন। আমার সাথে আসুন।”
