“আমি কখনো সেটা ব্যবহার করিনি ক্যাপ্টেন কার্টনি, মি. পেট অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলে। “কার্যকরী ওষুধ হয়তো বা, আমি জানি না।”
“গুড”, হাল মাথা নাড়ায়। তাহলে আপনি থাকুন, আমি এই রাসকেল গুলোকে কাজে পাঠিয়ে দিয়ে আসি। বাতাস আবার এদিকে আসছে, মি. পেট”, পাল-এর ওপর দিয়ে আকাশের রঙ-এর বদলে যাওয়া দেখতে দেখতে বলে হাল। “আরও উপরে নোঙর করুন”, “মি. টেইলার। মি, মুন, মি. স্ট্যানলি! আপনারা বদমাশগুলোকে কাজে পাঠান, পাল ঠিক করতে বলুন।” কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গোল্ডেন বাউ ব্যস্ত ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়ে যায়। অ্যামাডোডারাও কাজে নেমে পড়ে। তরঙ্গাকারে পাল তুলে দেয়া হয়। জাহাজটাও মৃদুতালে দুলতে থাকে।
অ্যাবোলি মি. পেট-এর ক্ষতটাতে ফ্রেঞ্চ ব্যাক্তি ঢেলে দিচ্ছে। আর মি. পেট হাল-এর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে সেই দৈববাণী তার জন্য কী পরিকল্পনা করে রেখেছে।
ক্যাপ্টেন ট্রাম্পকে হাতের নাগালে পেয়েও মারতে পারেনি সে; এত কাছ থেকে ঠিক কী কারণে তার লক্ষ্যবস্তু ব্যর্থ হয়েছে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছে নাপেট। যদিও, তার মন বলছে, পুরো ব্যাপারটায় সেই অদৃশ্য সাধুর হাত রয়েছে।
পেট-এর দুইজন শিকার এখনো বেঁচে আছে, যাদেরকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল সে। এর আগে তার সাথে কখনোই এ ধরনের কিছু ঘটেনি। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। সে নিশ্চিত-খুব শীঘ্রই এর কারণ খুঁজে বের করে ফেলতে পারবে সে।
*
মি. পেট এবং ট্রোম্প-এর দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দুই দিন পার হয়েছে। সমস্ত শত্রুতাকে নিঃশেষ করে দিয়ে বাউ আনন্দচিত্তে, স্নিগ্ধ বাতাসে দক্ষিণ দিকে যাত্রা শুরু করেছে। তাই ট্রোম্প-এর মনে হচ্ছে এই সময়টাই হাল-এর সামনে গিয়ে কথা বলার জন্য উপযুক্ত সময়।
“আমি কী আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি, ক্যাপ্টেন?”
“একটু নয়, পুরোপুরিই বলুন।” হাল জবাব দেয়। সে এই জাহাজের মালিক। তার পেছনে সূর্য এবং সামনে বাতাস রয়েছে। তার ভালবাসার নারী তার পাশেই আছে। তার মনে হচ্ছে সমস্ত পৃথিবীটাই তার কাছে আছে।
“আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে আমি এবং আমার নাবিকদের আপনার জাহাজে যোগদানের ব্যাপারে বলেছিলাম। অবশ্য অন্য কোনো ব্যাপারে ব্যস্ত থাকার কারণে আপনি এদিকে মন দেয়ার সময়ই পাননি।” ট্রোম্প একটা শুষ্ক হাসি দিয়ে রেলিং-এ দাঁড়ানো পেটের দিকে তাকায়। “তাই নয় কি, মি. পেট?” এরপর আবার হাল-এর দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার কী এ ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখার সময় হবে?”
হাল হেসে ফেলল। “শয়তানও অস্বীকার করতে পারবে না যে তুমি তার চেয়ে কোনো অংশে কম। প্রথমে তুমি আমাদেরকে হত্যা করতে চেয়েছিলে। আর এখন তুমি আমাদের সাথেই যোগ দিতে চাচ্ছ।”
“আমি কখনোই আপনাদেরকে হত্যা করতে চাইনি।” ট্রোম্প বাধা দিয়ে বলল। “এই জাহাজটা আর তার খাবারগুলোর দিকেই শুধু চোখ ছিল আমার।”
অ্যাবোলি এগিয়ে এসে আলোচনায় যোগ দেয়। “আর সেটার জন্য তাকে ঠিক দোষারোপও করা যায় না।”
“আমাকে আপনার নাবিক হিসেবে যোগদানের সুযোগ দিন।” ট্রোম্প বলতে থাকে। “আমি একজন অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন। কিন্তু আপনি এই জাহাজের মালিক। আমি জানি অ্যাবোলি আপনার ফাস্ট মেট, তো আমাকে আপনার সেকেন্ড মেট হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিন। আমি এখানকার জলরাশি সম্পর্কে ভাল করেই জানি। উত্তরে বহুদূর পর্যন্ত আমার চেনা-জানা আছে এবং দক্ষিণের কেপ-এর চারপাশটাও আমার পরিচিত। এই পথ দিয়ে আমি বহুবছর যাবত ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন করেছি। আমার অনেক বন্ধুও আছে ক্যাপ্টেন।”
“সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক”, হাল বলতে থাকে। কারণ তোমার যে পরিমাণ শত্রু আছে বলে আমার মনে হচ্ছে, সে পরিমাণ শত্রুর হাত থেকে বেঁচে থাকতে হলে অনেক বন্ধু থাকতেই হবে।”
ট্রোম্প ভাবগম্ভীর দৃষ্টিতে হাল-এর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল যে সে কেন এই কথা বলছে। এরপর আবার বলতে শুরু করল, “আপনি সবসময় নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য স্থির রেখে চলতে পছন্দ করেন, ক্যাপ্টেন কার্টনি। সেই সাথে সবসময় সময়ের সদ ব্যবহার করেন। আপনার মতো একজন মানুষের সাথে কাজ করতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব।”
অ্যাবোলি আর নেড টেইলর জাহাজের হুইলের কাছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিটি কথা শুনছিল এবং তাদের ক্যাপ্টেন-এর দিকে তাকিয়ে দেখছিল। ট্রোম্প-এর কথা শুনে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে। এখন ক্যাপ্টেন কার্টনি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাই হচ্ছে দেখার বিষয়।
হাল কিছু একটা চিন্তা করতে করতে ট্রাম্প-এর কথার উত্তরে কী বলবে সেটা ভুলেই গিয়েছিল।
এরপর জুডিথ কথা বলে সেই নীরবতা ভেঙে দেয়। “হেনরি, তুমি একবার বলেছিলে যে তোমার নাবিকের ঘাটতি আছে তাই না।”
“হ্যাঁ বলেছিলাম।”
“তাহলে কেন তুমি এরকম একজন অভিজ্ঞ লোককে নাবিক হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছ না, সে জিজ্ঞেস করে।
ট্রোম্প জুডিথ-এর দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। যার জীবন এক সময় সে বিপন্ন করতে চেয়েছিল এখন সে-ই তার পক্ষ হয়ে কথা বলছে।
“তুমি সত্যিই অবিশ্বাস্য, মাই ডিয়ার”, হাল জুডিথকে উদ্দেশ্য করে বলে।
“আমি অনেক মৃত্যু দেখেছি।” জুডিথ ট্রোম্প-এর দিক থেকে হাল-এর দিকে তাকিয়ে আবারো বলতে থাকে। এই লোকটি এবং তার নাবিকদের জীবন রক্ষা করা যদি তোমার সাধ্যের মধ্যে হয়ে থাকে তবে অবশ্যই তোমার তা করা উচিত।”
