চিৎকার করে একটা দাসী মেয়েকে ডাকলাম আমি। কিন্তু একজনও ভয়ে টাইটার ভুতের কাছে আসতে রাজী হলো না। শেষমেষ, ওদের প্রকোষ্ঠে ছুটে গিয়ে চুল ধরে টেনে বের করতে হলো বিছানার তলা থেকে।
কেমন করে তোমাদের কর্ত্রীর এ অবস্থা করলে? বিশাল চর্বিবহুল পাছায় এক লাথি ঝেড়ে জানতে চাইলাম। ভয়ে মুখ ঢেকে, তোতলে বলতে লাগলো মেয়েটা।
সে কিছুই খায়নি। এই কয়েক সপ্তাহে কেবল দুই এক গ্রাস খাবার খেয়েছে। মহৎ-প্রাণের উপত্যকায় ট্যানাস, প্রভু হেরাবের মমি কবরে রাখার সংবাদের পর থেকে এই চলছে। এমনকি, উনার পেটে ফারাও-এর সন্তান পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করো, মহান আত্মা আমি ওর খেয়াল রেখেছিলাম।
অবাক বিস্ময়ে ওর দিকে চেয়ে রইলাম আমি, শেষমেষ বুঝলাম কী ঘটেছে। লসট্রিসের কাছে আমার পাঠানো বার্তা পৌঁছেনি। ক্ৰাতাস যাকে পাঠিয়েছিলো ট্যানাসের মৃত্যু সম্পর্কিত কথা জানিয়ে, সে লোক আদৌ আসেনি গজ দ্বীপে। নির্ঘাত যাত্রাপথে শ্রাইকদের শিকারে পরিণত হয়েছিলো। খোদা জানে, ওই বার্তাটা কার হাতে পড়েছে।
দৌড়ে মিসট্রেসের কাছে ফিরে গিয়ে ওর পাশে বসলাম আমি। প্রিয়, ফিসফিস করে বললাম। এই যে আমি টাইটা তোমার দাস।
সামান্য নড়ে উঠে কী যেনো বললো ও। খুব বেশি সময় নেই, যা করার খুব দ্রুত করতে হবে ওকে বাঁচাতে হলে। প্রায় মাসখানেক পেরিয়ে গেছে ট্যানাসের কথিত মৃত্যু-সংবাদের পরে । যদি দাসী মেয়েটার কথা সঠিক হয়, এতোটা সময় কিছু না খেয়ে আছে লসট্রিস, মরে যে যায়নি এখনো, এ-ই ঢের।
লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের কক্ষে ছুটে চললাম। কিছুই পাল্টেনি ওখানে। আমার ঔষধের বাক্সটা জায়গামতোই আছে। দুই হাতে ওটা জড়িয়ে ধরে মিসট্রেসের প্রকোষ্ঠে ফিরে এলাম। ওর বিছানার পাশের রাখা বাতির শিখার নিচে কঁকড়াবিছের দাঁড়া পুড়িয়ে, জ্বলন্ত প্রান্তটা ধরলাম লসট্রিসের নাকের তলায়। ভীষণ বিচ্ছিরি গন্ধে হাঁচি দিয়ে উঠলো ও, সরিয়ে নিতে চাইলো মুখ ।
মিসট্রেস, আমি টাইটা কথা বলো!
চোখ মেলে চাইলো লসট্রিস, দৃষ্টিতে আনন্দের ঝিলিক। সরু, রুগ্ন হাত মেলে ধরে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।
টাইটা, ক্ষীণ স্বরে বললো ও, ও মরে গেছে। ট্যানাস মরে গেছে।
না! না! ও বেঁচে আছে। মাত্রই তার কাছ থেকে এসেছি আমি। ভালোবাসা জানিয়েছে সে তোমাকে।
ও রকম নিষ্ঠুর কৌতুক করো না আমার সাথে। আমি জানি ও মরে গেছে ওর কবর–
শক্রর চোখে ধোকা দেওয়ার জন্যে ওটা বলা হয়েছিলো, প্রায় কেঁদে ফেললাম আমি। বিশ্বাস করো স্ট্যানাস বেঁচে আছে। ও তোমাকে ভালোবাসে। তোমার অপেক্ষায় আছে।
ওহ, টাইটা! কেমন করে তোমার কথা বিশ্বাস করবো? মিথ্যে কথা বলে কেনো কষ্ট দিচ্ছে আমাকে? ঘৃণা করি আমি আমার হাত সরিয়ে দিতে চাইলো লসট্রিস।
কসম! ট্যানাস জীবিত।
মায়ের নামে শপথ করে বলো। দেবতাদের নামে বলো, করুণ স্বরে বললো ও। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা আর স্নেহের নামে শপথ করে বলছি–
কেমন করে এটা হবে? আশার শক্তি ফিরে এসেছে লসট্রিসের মাঝে। মুখে যেনো রঙ ফিরে এলো তার। ওহ টাইটা! এটা সত্যি হয় কেমন করে?
যদি সত্যি না হতো, আমি এতো আনন্দচিত্তে থাকতাম? তোমার চেয়ে কম ভালোবাসি না আমি ওকে। যদি সত্যিই ট্যানাস মরে যেতো নিশ্চই এমন হাসি-মুখে থাকতাম না আমি।
ধীরে, সবকিছু খুলে বললাম ওকে। কেবল সেই জলাভূমির ধারের ছাপড়ায় ট্যানাসকে কী অবস্থায় পেয়েছি ওটা চেপে গেলাম।
একটা কথাও বললো না লসট্রিস। আমার মুখে চেয়ে থেকে নীরবে সমস্ত কথা গিলতে লাগলো। ফ্যাকাসে, প্রায় স্বচ্ছ মুখে যেনো মুক্তোর উজ্জ্বলতা ফিরে এলো যখন গালালা মরুতে ট্যানাসের নেতৃত্বে আমাদের অভিযানের বর্ণনা দিলাম আমি।
তো, বুঝতেই পারছো, ট্যানাস বেঁচে আছে, শেষ করলাম আমি। মুখ খুললো লসট্রিস।
যদি তাই হয়, তবে ওকে নিয়ে আসো আমার কাছে। ওকে না দেখা পর্যন্ত কিছুই মুখে তুলবো না আমি।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তা করবো আমি। এখন একটা বার্তা পাঠানোর সময় দাও আমাকে। বলে, আমার ওষুধের বাক্স থেকে একটা তামার আয়না বের করলাম।
লসট্রিসের সামনে ওটা ধরে, নরম স্বরে বললাম, তুমি চাও, এই অবস্থায় ও দেখুক তোমাকে?
নিজের কঙ্কালসার, রুগ্ন অবয়বের দিকে চেয়ে রইলো ও।
তুমি বললে, আজই ট্যানাসের কাছে খবর পাঠাতে পারি। সপ্তাহের মধ্যেই এখানে চলে আসবে সে, যদি সত্যিই তাই চাও।
আবেগের সাথে লড়লো লসট্রিস। আমি কুৎসিত হয়ে গেছি, ফিসফিস করে বললো সে। একদম বুড়ি মহিলাদের মতো দেখাচ্ছে।
তোমার সৌন্দৰ্য্য এখনো অটুট, কেবল চাপা পড়ে গেছে।
ট্যানাস এ অবস্থায় আমাকে দেখুক, এটা চাই না। নারীর চিরন্তন অনুভূতি বিজয়ী হলোঅপর সব আবেগের সঙ্গে লড়াইয়ে।
তাহলে তোমাকে খেতে হবে।
তুমি কিন্তু প্রতিজ্ঞা করেছো, একটু যেনো কেঁপে গেলো লসট্রিস। তুমি প্রতিজ্ঞা করেছো-ট্যানাস বেঁচে আছে, আমি সুস্থ্য হয়ে উঠলেই ওকে আমার কাছে নিয়ে আসবে তুমি? আমার হৃদয়ে হাত দিয়ে বলো–
ওর প্রতিটি বুকের হাড় অনুভব করা যায়, হৃদপিণ্ড অত্যন্ত দ্রুত চলছে আমার আঙুলের নিচে। প্রতিজ্ঞা করলাম। বললাম।
এবারের মতো বিশ্বাস করলাম তোমাকে। কিন্তু মিথ্যে কথা যদি বলে থাকো, জীবনেও আর তোমাকে ডাকবো না। খাবার নিয়ে এসো আমার জন্যে!
