মহান ফারাও, শেষপর্যন্ত বলে উঠে আতন। আপনি অনুমতি দিলে, আজকে রাতের জন্যে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে আসতে পারি আমি। ওই যে, সেই ছোট্ট হারিয়ার মেয়েটা–
না, না, বাধা দিয়ে বললেন রাজা। আমার স্ত্রী সুস্থ হলে এর জন্যে অনেক সময় পাওয়া যাবে। এখন তুমি বিদায় হও, পরিচর্যক। কিছু ব্যাপার নিয়ে চিকিৎসক মানে, ক্রীতদাস টাইটার সাথে কথা আছে আমার।
আমরা একা হতে কাপড় তুলে নিজের বিশাল পেট দেখালেন রাজা। এর কারণ কী, টাইটা? তাঁর উন্মুক্ত পেটের দানা দানা লালচে দাগগুলো পরীক্ষা করে দেখলাম আমি। সাধারণ ছত্রাক সংক্রমণ। নির্ঘাত নিয়মিত স্নান করে না, এমন কোনো মেয়ের শরীর থেকে ওই রোগ ধরেছে ফারাও-কে। আমি জানি, দারুন চুলকানি হয় এই রোগে।
সারাতে পারবে তুমি? ভয় আমাদের সবার কাছেই একই রকম। যে কোনো কাতর রোগীর মতোই এই মুহূর্তে ব্যবহার করছেন ফারাও।
তার অনুমতি নিয়ে আমার প্রকোষ্ঠ থেকে ওষুধের বাক্সটা নিয়ে এলাম। নিজের স্বর্ণ এবং আইভরি মন্ডিত বিছানায় শুয়ে রইলেন ফারাও, তাঁর লালচে ক্ষতে মল লাগিয়ে দিলাম আমি। আমার নিজের আবিস্কৃত এই মলমে তিন দিনে ঠিক হয়ে যান। এই রোগ–আশ্বস্ত করে জানালাম তাকে।
এই যে একটা বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করেছি, তা অনেকাংশে তোমার কারণে, বলে চললেন ফারাও। তোমার মলমে হয়তো এই রোগ সারবে, কিন্তু তোমার কর্ত্রী কী ছেলে সন্তান দিতে পারবে আমাকে? জানতে চাইলেন তিনি। ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় আছি। আরো এক বছরের মধ্যেই পুত্র-সন্তান চাই আমার । সমগ্র সাম্রাজ্য আজ মহাবিপদে রয়েছে।
আমরা, চিকিৎসকেরা, নিজেদের ব্যবস্থায় আরোগ্য লাভ সম্পর্কে সাধারণত কোনো রকম নিশ্চয়তা দিতে চাই না। ঠিক আইনজ্ঞ বা জোতিষীদের মতোই। কিন্তু আমার পথ খুলে দিলেন ফারাও স্বয়ং।
আমি এখন আর যুবক নই, টাইটা। তুমি একজন চিকিৎসক, তোমার কাছে লুকাবো না। বহু যুদ্ধে ক্ষয়ে গেছে আমার অস্ত্র। আগের মতো আর ধার নেই তার ফলায়। সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে ওটা। তোমার বাক্সে কী এমন কিছু নেই, যা পদ্মের নরম ডাটাকে দৃঢ় করে দিতে পারে?
ফারাও, সমস্ত কিছু খুলে বলার জন্যে আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কোনো কোনো সময় দারুন অদ্ভুত রকম ভাবে কাজ করেন দেবতারা বলে চললাম আমি, আমার কুমারী কর্ত্রীর সঙ্গে আপনার প্রথম রাত সুসম্পন্ন হতে হবে। যে কোনো রকম দ্বিধা, বক্রতা; আপনার পৌরুষের নিদর্শন তুলে ধরতে যে কোনো রকম ব্যর্থতার ফলাফল ভালো হবে না। একটাই মাত্র সুযোগ আছে, প্রথম বারেই সফল মিলন প্রয়োজন। যদি দ্বিতীয়বার চেষ্টা করতে হয়, দেবতা না করুন, আবারো কন্যা সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তর্জনী উঁচিয়ে ধরলাম আমি। যদি আজ রাতে আমরা চেষ্টা করতাম, আর বাকিটুকু না বলে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তর্জনী নামালাম। না, আমরা আসলেই অতি ভাগ্যবান। দেবতারা আর একটা সুযোগ দিয়েছেন আমাদের।
কী করা উচিত এখন? উদ্বিগ্ন স্বরে জানতে চাইলেন ফারাও। বেশ কিছু সময় নিরবে তার পাশে হাঁটুগেড়ে বসে রইলাম আমি।
হ্যাঁ, মহামান্য ফারাও, কিছু তো অবশ্যই করার আছে আমাদের। তবে এতে সময় লাগবে। এই চামড়ার রোগ সারানোর মতো সহজ হবে না সেটা। ঝড়ের বেগে চলছিলো আমার মস্তিস্ক। এই সুযোগ থেকে সবটুকু সুবিধা আদায় করে নিতে হবে আমাকে। খুব কড়া-কড়ি ভাবে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, মালিক।
আর যাঁড়ের বিচি নয়, তোমাকে মিনতি জানাই, কবিরাজ।
না, আমার ধারণা, ওগুলো যথেষ্ট খেয়েছেন আপনি। কিন্তু, আপনার রক্ত গরম করতে এবং ঔরস মিঠে করতে হবে আমাদেরকে, নতুবা চেষ্টা করে লাভ নেই। গরম ছাগ-দুগ্ধ এবং তিনবেলা মধু খেতে হবে; এবং অবশ্যই আমি যে মিশ্রণ তৈরি করে দেবো সেটাও। গন্ডারের শিং-এর গুঁড়ো আর ম্যানড্রেকের গুল্ম থেকে তৈরি হবে সেই রস।
একটু আশ্বস্ত হলেন ফারাও। তুমি নিশ্চিত, এতে কাজ হবে?
এই ব্যবস্থা কখনওই ব্যর্থ হয় নি। তবে আরও একটা বিষয় আছে।
কী সেটা? স্বস্তি উবে গেলো ফারাও-এর, শঙ্কিত ভঙ্গিতে বিছানায় বসলেন তিনি।
ভোগ-বিলাস থেকে সম্পূর্ণ বিরতি। অবশ্যই রাজকীয় সদস্যের পূর্ণ শক্তি এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্যে সময় দিতে হবে আপনাকে। হারেমের সমস্ত সম্ভোগ ত্যাগ করতে হবে। অন্তত কিছু সময়ের জন্যে হলেও। চিকিৎসকের ভাব-গাম্ভির্য নিয়ে বললাম আমি। বিলক্ষণ জানি, লসট্রিসকে অনাঘ্রাতা রাখার এ-ই একমাত্র উপায় । কিন্তু রাজার প্রতিক্রিয়া কী হবে ভেবে ভয় লাগছে। এমনও তো হতে পারে, দাম্পত্য সুখে বাধা পেয়ে ক্ষেপে গেলেন তিনি? আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে এতক্ষণের অর্জিত সমস্ত সুবিধা কোনও কাজে আসবে না। কিন্তু আমার মিসট্রেসের জন্যে এই ঝুঁকি নিতে হবে আমাকে, যতক্ষণ সম্ভব রক্ষা করতে হবে তাকে।
রাজার প্রতিক্রিয়ায় অবাক হলাম। বিছানায় মাথা রেখে আশ্বস্ত ভঙ্গিতে মৃদু হাসলেন ফারাও। কতো দিন? বেশ হাসিখুশি ভাবে জানতে চাইলেন। চরম বিস্ময়ের সাথে বুঝতে পারলাম, আমার এই নিষেধাজ্ঞা বেশ স্বস্তির হয়ে এসেছে তার জন্যে।
আমার কাছে নারীর দেহ-সম্ভোগ যেখানে অসম্ভব এক স্বপ্ন একজন ফারাও-এর কাছে অতি-ব্যবহারে পুরোনো একটা বিষয় সেটা।
