লুকাবে! থিবল্ট বলল, মনে হয় না তাতে কোন লাভ হবে।
কেন হবে না? বলল মাদাম।চেষ্টা করে দেখা যাক। এসো ল্যান্ড্রি।
থিবল্টের চোখ ওদের অনুসরণ করল, ঘটনা তোমার অনুকূলে যাচ্ছে না, বন্ধু! নিজেকেই শোনাল ও, তবে আশার কথা, সৈন্যরা বোকা নয় মোটেও, যেখানেই লুকাক, ঠিক খুঁজে বের করবে। এই কথা বলে নিজের অজান্তেই আরেকটা ইচ্ছা প্রকাশ করে ফেলল থিবল্ট।
কাছেই কোথাও ল্যাভ্রিকে লুকিয়ে ফিরে এল মহিলা। আর তখনই এসে ঢুকল রিক্রুটিং সার্জেন্ট আর তার লোকেরা। দুজন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল যাতে ল্যান্ড্রি পালাতে না পারে। ঘরের চারপাশে নজর বুলাল সার্জেন্ট। মাদাম হাসিমুখে সার্জেন্টকে কিছু খাবার জন্য আমন্ত্রণ জানাল। খাবার ফাঁকে তাদের আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইল। সার্জেন্ট জবাব দিল, তারা একটা ছেলেকে খুঁজতে এসেছে। ছেলেটা নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেছে কিন্তু তারপর আর হাজিরা দেয়নি-জানা গেছে ওর নাম ল্যান্ডি। ক্ৰয়োলের মিল মালকিন বিধবা মাদাম পুলের কাছে থাকে ও। সে কারণেই সার্জেন্টকে এখানে আসতে হয়েছে।
মহিলা জবাব দিল ল্যান্ড্রির ব্যাপারে সে কিছু জানে না। এই নামের কেউ কখনও মিলে কাজও করেনি।
সার্জেন্ট মাদামের চোখ এবং মুখের প্রশংসা করল। তারপর বলল, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই চোখের দৃষ্টি এবং মুখের কথা তার বিশ্বাস করতে হবে। মিলটা খুঁজে দেখতে সে বাধ্য।
মিনিট পাঁচেক পরে সার্জেন্ট এসে মাদামের কাছে তার রুমের চাবি চাইল। বিধবা বিস্মিত হলেও শেষ পর্যন্ত চাবি দিতে বাধ্য হলো। তারও এক-দুমিনিট পর সার্জেন্ট ল্যাভ্রিকে টেনে নিয়ে আসল। এই দৃশ্য দেখে মহিলার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। থিবল্টের হৃদপিণ্ড এত জোরে চলছে যে ভয় হলো ওটা ফেটে না যায়। কালো নেকড়ে পেছনে না থাকলে, বিবল্ট নিশ্চিত সার্জেন্ট ল্যাড্রিকে ওখানে খুঁজতে যেত না।
ব্যঙ্গের সুরে সার্জেন্ট বলল, তো রাজার বদলে সুন্দরীর সেবা করতে চাইছ? বুঝতে পারছি। কিন্তু এটাও তো ঠিক, যে রাজার রাজ্যে জন্ম নিয়েছ। তার স্বাস্থ্য পান করেছ। সময় এলে তার সেবাও করতে হবে। কয়েকবছর রাজার সেবা করে তারপর না হয় আবার এখানে ফিরে এসো। চলল।
বিধবা প্রতিবাদ করল, কিন্তু ওর বয়স এখনও বিশ হয়নি। তোমরা ওকে নিতে পারো না।
উনি ঠিকই বলেছেন, আমার এখনও বিশ হয়নি। কবে হবে?
আগামীকালের আগে নয়।
বেশ, আজ রাতটা তাহলে খড়ের বিছানায় কাটাও, সকালেই তুমি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
কাঁদতে শুরু করল ল্যান্ড্রি। বিধবা অনেক অনুনয় বিনয় করল। সৈনিকদের চুমু খাবার অনুমতি দিল। টাকাও সাধল। কিন্তু কোন লাভ হলো না। ল্যাড্রিকে হাত বেঁধে নিয়ে গেল সৈনিকরা। যাওয়ার আগে ল্যান্ড্রি জানিয়ে গেল, কাছে থাকুক বা দূরে, সবসময় ও মাদামকে ভালবাসবে। মৃত্যুর সময়ও মুখে তার নাম নিয়েই মরবে। এই বিপর্যয়ের মুখে, দুনিয়া কী ভাববে তার পরোয়া করল না সুন্দরী বিধবা। ল্যাড্রিকে নিয়ে যাওয়ার আগে জড়িয়ে ধরল। ওরা দৃষ্টির আড়ালে যাওয়ার পর বিধবাকে ধরে ধরে নিয়ে যেতে হলো। উপরে উপরে অনেক আন্তরিকতা দেখাল থিবল্ট। ল্যান্ড্রির প্রতি মহিলার আবেগের প্রকাশ দেখে ও একটু দমে গিয়েছিল। তবে এখন আবার আশা ফিরে পাচ্ছে। মূলসহ আগাছাটা তো উপড়ে ফেলা গেছে। ল্যান্ড্রির নাম নিয়ে কাঁদতে শুরু করল বিধবা। বেচারা! ওর মতো দুর্বল আর নরম ছেলের কী হবে এখন? বন্দুক আর বোঝার ভারেই তো মারা যাবে ও। তারপর অতিথির দিকে ফিরে বলল, এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা বিপর্যয়, মঁসিয়ে থিবল্ট। বুঝতেই পারছেন, আমি ওকে ভালবাসি। ভদ্র, দয়ালু একটা ছেলে। জুয়া, মদ বা কোনরকম বদ-অভ্যাস ছিল না। ও কখনও আমার ইচ্ছার বিরোধিতা করত না। দেখে বোঝা যায় ওর স্ত্রী কখনও আতংকে থাকবে না। দুটো কঠিন বছর মঁসিয়ে পুলের সাথে কাটানোর পর, ও ছিল আমার জন্য সুবাতাস। মঁসিয়ে থিবল্ট, আমার মতো দুঃখী মহিলার জন্য ভবিষ্যৎ সুখ আর শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট হতে দেখাটা যে কতটা কষ্টের!
থিবল্ট ভাবল এটাই নিজের কথা বলার আদর্শ সময়। ও যখনই কোন মহিলাকে কাঁদতে দেখে, ওর মনে হয় মহিলা সান্ত্বনার বাণী শুনতে চায়। অধিকাংশ সময়ই যে এটা ভুল, সেটা অবশ্য ও বুঝতে পারেনি।
আমি আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি। আমিও আপনার সাথে সমব্যথী। ও তো আমারও ভাই। ল্যারি প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আপনার উচিত ওর মতো অন্য কাউকে খুঁজে নেয়া।
ওর মতো! এমন ভাল আর সুন্দর ছেলে আমি আর কোথায় পাব? ওর তরুণ মুখটা দেখতে পাওয়াই আমার সুখের জন্য যথেষ্ট ছিল। দিনরাত কাজ করতে পারত ও। কিন্তু আমি ওর দিকে তাকালেই কুঁকড়ে যেত। ওর স্মৃতিই আমাকে আর কারও দিকে তাকাতে দেবে না। বাকি জীবন আমাকে বিধবা হিসেবেই কাটাতে হবে।
যাহ্! কিন্তু ল্যান্ড্রির বয়স তো খুবই কম ছিল।
সেটা কোন দোষ নয়।
ও যে সবসময় এমনই থাকত সেটা কেউ বলতে পারে না। আমার কথা শুনুন, মাদাম, এমন কাউকে খুঁজে বের করুন যে আপনাকে ওর কথা ভুলিয়ে দেবে। বাচ্চা বাচ্চা মুখ নয়, আপনার দরকার একজন শক্তসমর্থ পুরুষ। ল্যান্ড্রির যে গুণগুলো আছে বা নেই, সব তার ভেতর থাকবে। সে হবে সুবিবেচক, যাতে হঠাৎ করে আবিষ্কার করতে না হয় যে, আপনি ভুল করে একজন খারাপ লোককে বিয়ে করে বসেছেন।
