-হ্যাঁ, জানত। আমি নিজেই সে কথা তাকে বলেছিলাম।
ডিভোর্সের মামলা ডিক্রি হলেও টাকা নিশ্চয়ই তিনি পেতেন না। তাই না?
–কি বলতে চাইছেন আপনি?
–কিছুই বলতে চাইছি না। আমি শুধু ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করছি।
উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো। ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে তাকিয়ে বললেন, এবার আমি চলি, আশা করি শীগগিরই কিছু নতুন খবর জানাতে পারব আপনাকে।
-না মঁসিয়ে। এই মুহূর্তে আপনার কাছে জানার আর কিছু নেই।
–আপনার না থাকলেও আমার আছে। চলুন, বাইরে গিয়ে সে কথা বলছি।
কোর্ট থেকে বেরিয়ে দুজনে হাঁটতে লাগলেন। মিঃ আলডিন বললেন, আপনি হয়তো জানেন যে আমার কিছু টাকা কড়ি আছে।
-হ্যাঁ, কয়েক শো কোটি ডলার।
–এবং রুথ আমার একমাত্র সন্তান।
–তাও জানি।
–তাহলে আমার মনের কথাটা শুনুন। পুলিশ তদন্তের ওপরে আমি আস্থা রাখতে পারছি না। আমি রুথ-এর হত্যাকরীকে খুঁজে পেতে চাই। আমার জীবনটা যে পাষণ্ড হতাশায় ভরে দিয়েছে তাকে আমি উপযুক্ত শাস্তি দিতে চাই।
–আপনি কি আইনকে নিজের হাতে নিতে চান?
দরকার হলে তাও আমি নেব। হত্যাকরীকে যদি আপনি খুঁজে বের করতে পারেন। অথচ আইনের চোখে সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তখন আর আমি আইনের তোয়াক্কা করি কেন। আপনি কি হত্যাকারীকে বের করতে পারবেন?
–এরকুল পোয়ারো আজ পর্যন্ত যতগুলো কেস হাতে নিয়েছে, তার কোনোটাতেই সে বিফল হয়নি, মিঃ আলডিন।
-বেশ, তাহলে আজ থেকেই কাজে লেগে যান। টাকাকড়ির দরকার হবে কি কিছু?
-এখুনি দরকার হবে না। আপনার মতো আমার কোটি কোটি ডলার না থাকলেও টাকাকড়ির অভাব আমার নেই। আমাকে যা দেবার তা পরে দিলেও চলবে।
–আমার কাছ থেকে আর কিছু জানতে চান কি?
–হ্যাঁ, আর একটা কথা জানতে চাই।
–কি বলুন।
–আপনার মেয়ে যে ডিভোর্সের মামলা রুজু করতে যাচ্ছে একথাটা আপনার জামাইকে কবে এবং কোথায় বলেছিলেন?
–আটদিন আগে তাকে আমার ড্রয়িংরুমে ডেকে এনে বলেছিলাম।
–কথাটা শুনে তিনি কি বলেছিলেন?
–সে আমার মেয়ের চরিত্র সম্বন্ধে কথা তুলেছিল।
–আপনি কি তাকে মামলাটা কনটেস্ট করতে নিষেধ করেছিলেন?
–হ্যাঁ, মানে, একরকম তাই বটে।
–আপনি কি তার পরেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন?
–না।
না শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে পোয়ারো থমকে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, এ কেস আমি হাতে নেব না। আচ্ছা। চলি মঁসিয়ে আলডিন।
-সে কি! হঠাৎ এভাবে বেঁকে বসলেন কেন বলুন তো?
–আপনি আমার কাছে ঘটনা গোপন করছেন, মিঃ আলডিন। আমি জানি যে, এর পরেও আপনি মিঃ ক্যাথারিন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমার কাছে যারা ঘটনা গোপন করেন, তাদের কেস আমি হাতে নিই না।
খুবই দুঃখিত এবং লজ্জিত মঁসিয়ে। সত্যিই আমি ঘটনাটা গোপন করেছিলাম। আমি টাকা দিয়ে তার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
টাকার অঙ্কটা বলবেন কি?
–এক লাখ পাউণ্ড।
–ঠিক আছে। আশা করি পনের দিনের মধ্যেই হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে পারব। মিঃ আলডিন পোয়ারোর কথায় নিশ্চিন্ত হয়ে বললেন, ধন্যবাদ মঁসিয়ে। আপনার কথা আমার কাছে যথেষ্ট মূল্যবান।
.
১৫.
অভিজাত সংস্কৃতি
পরদিন সকালে পোয়ারোর সঙ্গে ভৃত্য জর্জ-এর কথা হচ্ছিলো। পোয়ারো বলেছিলেন, এর আগে তুমি রিভিয়ারায় এসেছিলে কি, জর্জ?
-হ্যাঁ, এসেছিলাম। আমি তখন লর্ড এডওয়ার্ড ফ্রমোটান-এর কাছে চাকরি করতাম।
-মনে কর তুমি লর্ড ফ্রমোটান। এবং কোনো কারণে তোমার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে, অথচ তোমার স্ত্রীর হাতে রয়েছে প্রচুর টাকা। এই অবস্থায় তোমার স্ত্রী যদি তোমার বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা করতে চায়, তাহলে তুমি কি করবে?
-আমি আমার স্ত্রীর মত পরিবর্তন করতে চেষ্টা করবো।
–শান্তিপূর্ণ উপায়ে, না ভয় দেখিয়ে?
–কোনো লর্ড কখনও তার স্ত্রীর সঙ্গে অভদ্র ব্যবহার করেন না।
–কোনো লর্ডের ছেলের সম্বন্ধে কি এ কথা খাটে?
–নিশ্চয়ই। কোনো লর্ড-এর ছেলে যত অভাবেই পড়ুক না কেন সে কখনও তার স্ত্রীর সঙ্গে অভদ্র ব্যবহার করবে না। সে চরিত্রহীন হতে পারে, জুয়াড়ী হতে পারে, কিন্তু কোনোরকম হীন কাজ সে কিছুতেই করবে না।
জর্জ-এর কথা শেষ হতে না হতেই হোটেলের একজন চাকর চিরকূট এনে পোয়ারোর হাতে দিয়ে বলল, একজন পুলিশ অফিসার আপনার উত্তরের জন্যে রিসেপশন রুমে অপেক্ষা করছেন।
স্যার। চিরকূট খানা পাঠিয়েছেন কমিশনার অফ পুলিশ। তিনি লিখেছেন : কাউন্ট দ্য লা রোচিকে আদালতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবার সময় আপনি উপস্থিত থাকলে ভালো হয়। ম্যাজিস্ট্রেটেরও এরকমই ইচ্ছা।-কক্স।
তিনি চাকরটিকে বললেন, পুলিশ অফিসারকে একটু অপেক্ষা করতে বল, আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।
মিনিট পনেরর মধ্যেই কোর্টে হাজির হলে পোয়ারো। তিনি আসতেই ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, আসুন মঁসিয়ে পোয়ারো। আমরা আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছি।
-কাউন্ট মশাই কি এসে গেছেন?
–হ্যাঁ, তাঁকে পাশের ঘরে বসিয়ে রাখা হয়েছে।-বললেন কমিশনার।
–বেশ, এবার তাহলে নিয়ে আসুন তাঁকে। শোনা যাক, মহামান্য কাউন্ট কি বলতে চান!
ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তক্ষুনি আনা হলো কাউন্টকে। সবাই লক্ষ্য করলেন পোশাক পরিচ্ছদ আর চেহারার দিক থেকে লোকটাকে খুব উঁচুদরের লোক বলে মনে হয়। তাঁর দিকে তাকিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, দয়া করে আসন গ্রহণ করুন মঁসিয়ে লা কাউন্ট।
