অনেকেই যে আমাদের জন্য সৌন্দর্যকে বিচিত্র জায়গায় খুঁজে বেড়ান। বিজ্ঞের মতো বললো পোয়ারো।
মেয়েটা ভালো ছিল দেখতে ঠিকই, মেখেছিলো দারুন সাজগোজ আর রঙচঙ। আর পোষাক ছিলো না বললেই চলে। ওভাবে মেয়েদের পক্ষে পোষাক পরাটা শোভন নয়। মনে রাখবেন ষোল বছর আগেকার ঘটনাটা। অবশ্য এখন তো ঐ ধরনের পোষাক পরছে সব মেয়েরাই। কিন্তু আমার তখন খুব খারাপ লেগেছিলো। ফুলপ্যান্ট আর তার সঙ্গে সূতীর জামা, বুক খোলা। আর কিছু না।
খুব ভালো ভাবে মনে আছে অনেক কিছুই আপনার-বিড় বিড় করে পোয়ারো বলতো ধূর্তের মতো তাকিয়ে।
লজ্জা পেয়ে হেল বললেন, মানে, আমার যা মনে হয়েছিলো তখন আপনাকে তাই বলছি।
তা তো বটেই তা তো বটেই, হেলকে ভোলাবার জন্যে মিষ্টি করে বললো পোয়ারো। তারপর বললো, মিসেস ক্রেলের বিরুদ্ধে তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রধান সাক্ষী ছিল ফিলিপ ব্লেক ও এলসা গ্ৰীয়ার?
হ্যাঁ, খুব ক্ষেপে ছিলো দুজনেই। জোর সাক্ষ্য দিয়েছিলো। তবে গভর্নেস সিসিলকেও ডাকা হয় সরকার পক্ষ থেকে। ওর বক্তব্য আবার বেশি গুরুত্ব পেয়ে গিয়েছিলো ঐ দুজনের চেয়েও; প্রথম থেকেই মিসেস ক্রেলের সঙ্গে সিসিল পক্ষ নিতে শুরু করেছিলো। তবে সৎ বলে মহিলাটি কোনোকিছু লুকোছাপা না করে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেছিলো সত্যি কথাই।
আর মেরিডিথ ব্লেক?
বেচারা! পুরো ব্যাপারটাতে এতো বেশি ভদ্রলোক ভেঙে পড়েছিলেন যে বলার নয়। তিনি যেন নিজেই দোষী। তখন নিজেকেই অপরাধী মনে করেছিলেন বিষয়টা তৈরি করার জন্যে। তাকে দোষ দেয় করোনার কোর্টও, বিষ সংক্রান্ত আইনের ১নং সিডিউল কোনাইন আর এই সল্টকে ফেলা হয়েছে। খুব ধমক-ধামক দিয়েছিলো আদালত ভদ্রলোককে। তাছাড়া উভয় পক্ষেরই বন্ধু ছিলেন তো উনি–মনে ওঁর খুব লেগেছিলো। বিশেষ করে এই ধরনের গ্রামাঞ্চলের ভদ্রলোকেরা ভীষণ অখ্যাতিকে ভয় পায়।
সাক্ষ্য দেয়নি মিসেস ক্রেলের ছোট বোনটি?
না। দরকার পড়েনি। যখন তার স্বামীকে ধমকাচ্ছিলেন মিসেস ক্রেল তখন ও ছিলো না ওখানে। এমন কিছু মেয়েটা জানতও না যা আমাদের মামলার ব্যাপারে কাজে লাগতে পারতো। শুধু ও দেখেছিলো ফ্রিজ থেকে মিসেস ক্রেল নিয়ে যাচ্ছেন ঠান্ডা বিয়ারের বোতল। মেয়েটাকে আসামী পক্ষ থেকে সমন জারি করে নিশ্চয়ই সাক্ষী হিসেবে আনা যেতো, তবে কোনো দরকার ছিলো না তার, কারণ কোনাইন তো পাওয়া যায়নি বোতলের মধ্যে।
মিসেস ক্রেল দুজনের চোখের সামনে কিভাবে বিষ মেশালেন গ্লাসে? জানতে চাইলো পোয়ারো।
দেখুন, প্রথমতঃ সেভাবে নিশ্চয়ই অ্যামিয়াস বা এলসা গ্ৰীয়ার নজর রাখেনি। তার মানে ছবি আঁকা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন অ্যামিয়াস ক্রেল আর সেখানে বসে এলসা গ্ৰীয়ার পোজ দিচ্ছিলেন সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে ক্যারোলিন ক্রেল বিয়ার ঢেলেছিলেন।
ঘাড় নাড়লো পোয়ারো। আবার হেল বলতে শুরু করলেন, ঐ বলছিলাম যা, মিসেস ক্রেলের দিকে দুজনেই তাকায়নি। নিশ্চয়ই মিসেস ক্রেলের কাছে ফাউন্টেনপেনে কালি ভরার ড্রপার জাতীয় কোনো ছোট্ট কাঁচের নল ছিলো, বিষটা যার মধ্যে ভরে রেখে ছিলেন। কারণ ঐ জাতীয় কাঁচের সরু নল বাড়ি থেকে বাগানে যাবার রাস্তার একধারে একেবারে গুঁড়োনো অবস্থায় আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম।
প্রায় আপন মনে বিড়বিড় করে পোয়ারো বললো, আপনাদের কাছে দেখছি একটা না একটা জবাব আছে সব কিছুরই।
মঁসিয়ে পোয়ারো দেখুন। যা আগে বলেছি কোনো রকম পরিবর্তন সে সম্বন্ধে না ঘটিয়েই এখন বলছি, স্বামীকে খুন করবে বলে ক্যারোলিন ভয় দেখিয়ে ছিলেন। মেরিডিথের গবেষণাগার থেকে মহিলা জিনিসটা সরিয়ে ছিলেন। মহিলাটিরই ঘরে খালি শিশিটা পাওয়া গেছে, এবং সেটা তিনি ছাড়া আর কেউই নাড়াচাড়া করেনি। মহিলা ঠান্ডা করা বীয়ার নিজের থেকেই পৌঁছে দিয়েছিলেন স্বামীকে, অথচ মজার ব্যাপার এই যে কথাবার্তা ওঁদের মধ্যে বন্ধ ছিলো।
আশ্চর্যের ব্যাপার খুবই। আমি আগেই তো এ ব্যাপারে বলেছি, বললো পোয়ারো।
হ্যাঁ ধরা যায় এই ছোট্ট ব্যাপারটা থেকেই, মহিলা হঠাৎ কেন এতো সহৃদয় হয়ে উঠলেন? স্বামী বিয়ারের স্বাদ সম্বন্ধে মন্তব্য করেছিলেন–খুব বিশ্রি কোনাইনের স্বাদও, কামান বাগানে এমনভাবে আসছেন যাতে আবিষ্কার করা যায় দেহটাকে, অন্য মহিলাকে কায়দা করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন টেলিফোন করতে কিন্তু কেন? যাতে বোতোল আর গ্লাশ থেকে ঐ সময়ের মধ্যে আঙুলের দাগটা মুছে ফেলে লাগিয়ে নিতে পারেন স্বামীর আঙুলের ছাপ। যাতে করে স্বামী মনের দুঃখে আত্মহত্যা করেছেন বলতে পারেন। গল্পটা চলে যেতে পারত চালালেও।
তবে মহিলা গল্পটা খুব ভালমতো ফঁদতে পারেননি, বললো পোয়ারো।
তা পারেননি। উনি অতো চিন্তা করার সময় পাননি। ওঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিলো ঈর্ষা। তখন একটাই চিন্তা মহিলার মাথায় কি করে সরিয়ে ফেলা যায় স্বামীকে। এবং তারপর যখন ব্যাপারটা শেষ হলো, যখন স্বামীকে উনি মৃত অবস্থায় দেখলেন ওখানে, তখন, আমার যতোদূর মনে হয়, মহিলা তখনই হঠাৎ সচেতন হয়ে ওঠেন, বুঝতে পারেন তিনি খুন করে ফেলেছেন এবং ফাসী হয় খুন করলে। এবং তখনই উনি মরিয়া হয়ে নিজেকে বাঁচবার একটি মাত্রই পথের কথা চিন্তা করেন, এবং আত্মহত্যা হলো সেটা…।
