ভালো কথা, আমি মনে করি এর থেকে বেশি ভালো আর কিছু আশা করা যায় না। নিজেল বলে, তাহলে ব্যস, এখন দেখো আমার কথামতোই আমিও লোকটা ভালো। এই বলে সে টেবিলের উপর তিনটি জিনিস ছুঁড়ে দিল। আর সেই তিনটি জিনিস যথাক্রমে : হিসিন ট্যাবলেট, টিনচার ডিজিটালিসের বোতল ওমরফিন টারট্রেটের বোতল।
সঙ্গে সঙ্গে ইনসপেক্টর শার্প বলল : মরফিন টারট্রেট? বোতলের ওপর কোনো কোবেল ছিল না?
হা সেন্ট ক্যাথেরিন হাসপাতালের লেবেল।
আর অন্যগুলোয়?
আমি লক্ষ্য করিনি। তবে বলতে পারি, ওগুলো হাসপাতালের ছিল না।
তারপর কি ঘটলো?
তারপর অনেক কথা, অনেক তর্ক চললো তাদের মধ্যে। লেন বেটসন বলে : এখন তুমি যদি খুন করো, ধরা পড়ে যাবে। উত্তরে নিজেল বলে, একদমই নয়। আমি অতি সাধারণ লোক। ক্লিনিক বা হাসপাতালের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তাই কেউ আমার টিকিও স্পর্শ করতে পারবে না, আর ওগুলো কোনো ফার্মেসির কাউন্টার থেকেও কিনিনি।
কলিন ম্যাকনার বলে, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওগুলো তুমি কোনো কেমিস্ট-এর কাছ থেকেও কিনতে পার না, শেষে অনেক তর্কের পর লেন বলে, আমি এর মধ্যে নেই। আমার হাতে টাকা নেই। আমি ওগুলো তার বক্তব্যের প্রমাণ রেখেছি। তারপর সে বলে, আমরা ওই ভয়ঙ্কর জিনিসগুলো নিয়ে কি করব? দাঁত বার করে হেসে নিজেল বলে, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওগুলোর হাত থেকে আমাদের রেহাই পেতে হবে। তাই তারা টিউব থেকে ট্যাবলেটগুলো বার করে আগুনে ফেলে দেয়। আর মরফিন টারট্রেটের বোতল থেকে পাউডার বার করে আগুনে ফেলে দেয়। তবে টিনচার ডিজিটালিস ল্যাবেটারিতে ফেলে দেয়।
আর বোতলগুলো?
জানি না। তবে মনে হয় বোতলগুলো ওয়েস্টপেপার বাস্কেটে ফেলে দেয়।
এ ঘটনা কবেকার?
মনে হয় ঠিক এক পক্ষকাল আগে।
তাই বুঝি। ধন্যবাদ মিস টমকিনসন।
জিন চলে যাওয়ার পর শার্প কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। তারপর নিজেল চ্যাপম্যানকে ডেকে পাঠায়।
নিজেল ঘরে ঢুকতেই সে বলে ওঠে, এইমাত্র মিস টমকিনসনের কাছ থেকে একটা জরুরী তথ্য পেলাম মিঃ চ্যাপম্যান।
ওঃ। তা সে আমার বিরুদ্ধে কিভাবে আপনার মনটাকে বিষাক্ত করে তোলে?
বিষের প্রসঙ্গে আলোচনা করছিল সে। আর তা আপনাকে কেন্দ্র করে।
বিষের ব্যাপারে আমাকে কেন্দ্র করে? কেন কি ব্যাপার?
যেভাবেই হোক আপনি কয়েকটা মারাত্মক বিষ সংগ্রহ করেন। কিন্তু কেউ তার হদিশ পায় না–এ ব্যাপারে কয়েকদিন আগে মিঃ বেটসনের সঙ্গে আপনি বাজী ধরেছিলেন, তা আপনি অস্বীকার করতে পারেন?
ওহো, একথা? হঠাৎ নিজেলের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল।
হা। অবশ্যই। আশ্চর্য, আমি ভাবতেও পারিনি জিন সেখানে উপস্থিত থাকতে পারে।
আড়াল থেকে শুনলে কেউ জানতেও পারে না। সেকথা থাক, এখন আপনি বলুন, ঘটনাটা আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন তো?
ওহো, হা। আমরা এবিষয়ে আলোচনা করেছিলাম বৈকি। আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল, কাউকে না জানিয়ে, কিংবা সবার অলক্ষ্যে বিষ সংগ্রহ করা যায় কিনা। কলিন আর লেনের ধারণা ছিল, সেটা অসম্ভব। কেউ না কেউ জানতে পারবে। তখন আমি তাদের প্রমাণ করে দেখিয়ে দিই, উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে সবার অজান্তে অবশ্যই বিষ সংগ্রহ করা যায়।
তারপর আপনি বিষ সংগ্রহ করে তিনটি উপায়ের কথা ওদের বলেন, সেগুলো কি কি জানতে পারি কি মিঃ চ্যাপম্যান?
নিজেকে অপরাধী করার জন্য জিজ্ঞাসা করছেন না তো? বললো নিজেল, নিশ্চয়ই আমাকে হুমকি দিচ্ছেন।
আপনাকে হুমকি বা সতর্ক করার সময় এখনো আসেনি মিঃ চ্যাপম্যান। তবে নিজেকে দোষী মনে করার কোনো কারণ নেই। সত্যি বলতে কি অনায়াসে আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অস্বীকার করতে পারতেন
জানি না, আমি অস্বীকার করতে চাই কি? কয়েক মুহূর্ত কি যেন ভাবল নিজেল, তার ঠোঁটে সামান্য হাসিও দেখা গেল। অবশ্যই। তারপর অকপটে সে স্বীকার করল, আমি যা করেছি অবশ্যই আইন-বিরুদ্ধ কাজ, এর জন্য আপনি আমার কাছ থেকে কৈফিয়ৎ চাইতে পারেন। আর সিলিয়ার মৃত্যু একটা খুনের কেস। এ ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো সম্পর্ক থাকে, তাহলে আমার মনে হয় আপনাকে সব খুলে বলা উচিত।
এ খুবই বিচক্ষণতার পরিচয়।
ঠিক আছে, আমি বলছি।
সেই উপায় তিনটি কি কি?
নিজেল তার চেয়ারে আরাম করে বসে বলতে শুরু করল। প্রত্যেকেই সব সময় কাগজ পড়ে তাই না? তাহলে কোনো দিন কাগজে খবর থাকে, কোনো ডাক্তারের গাড়ি থেকে মারাত্মক ধরনের ড্রাগ খোয়া গেছে। এ সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি
হ্যাঁ।
ভালো কথা। এর থেকে একটা অতি সহজ উপায় আমার মাথায় আসে। মফঃস্বলের দিকে কোনো ডাক্তারের অনুসরণ করা–তারপর সুযোগ মতো সেই ডাক্তারের গাড়ি খোলা, ডাক্তারের অ্যাটাচিকেস খুলে দেখা, তারপর আপনার প্রয়োজন মতো বিষাক্ত ড্রাগ বার করে নেওয়া। জানেন ডাক্তাররা মফঃস্বলে রোগী দেখতে গেলে অনেকরকম ড্রাগ নিয়ে যায়। কারণ কোনো রোগীর কোনো ড্রাগের প্রয়োজন হয় এ ভেবে তারা সব রকম ড্রাগ মজুত রাখে। এ হল একনম্বর উপায়। এভাবে তিনতিনটি ডাক্তারকে অনুসরণ করার পর আমার প্রয়োজনীয় বিষ, হিসিন হাইড্রোব্রোমাইডের সন্ধান পাই।
ওঃ! দু নম্বর উপায়টা কি শুনি?
ওহো! সেটা খুব একটা দুঃসাধ্য ব্যাপার নয়। সিলিয়াকে একটু পাম্প দিয়েই কাজটা হাসিল করি। আমি আপনাকে আগেই বলেছি মেয়েটি সরল ও বোকা। তাই সে বুঝতেই পারেনি তাকে দিয়ে আমি কি করাতে যাচ্ছি। তাকে আমি বলি ডাক্তারদের হিজিবিজি হাতের লেখার কথা, আমি তাকে বলি ডাক্তারদের মতো হিজিবিজি করে আমার জন্য টিনচার ডিজিটালিসের একটা প্রেসক্রিপশন লিখে দিতে। সে কোনো সন্দেহ না করেই লিখে দেয়। তারপর আমি ক্লাসিফারে ডঃ ডাইরেক্টরি দেখে লন্ডনের বহুদূরের ডিস্ট্রিক্ট-এর একজন ডাক্তারের নাম দেখে একটা সই করে দিই। বলতে পারেন বেআইনী সই। তারপর লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত দোকান থেকে তা সংগ্রহ করি। মফঃস্বলের সেই ডাক্তার সম্বন্ধে তারা হয়তো বেশি পরিচিত ছিলো না।
