হ্যাঁ, এটা অত্যন্ত উদ্ভাবনী দক্ষতার পরিচয়, শুকনো গলায় বললো শার্প। আপনার কথা শুনেই আমি বুঝতে পারছি আমি নিজেকে অভিযুক্ত করলাম। আর তৃতীয় উপায়টা কি জানতে পারি?
সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না নিজেল। অনেকক্ষণ পরে মুখ খুললো : দেখুন উপায়টা কি ভাবে বর্ণনা দেব বুঝতে পারছি না!
গাড়ির দজা খুলে ড্রাগ চুরি করা, বললো ইনসপেক্টর শার্প। প্রেসক্রিপশন নকল করে।
না, এটা প্রেসক্রিপশন নকল করা নয়। বাধা দিয়ে বললো নিজেল, তখন আমার কাছে যথেষ্ট টাকা ছিল না। তাই এবার ডাক্তারের সই নকল করা নয়। এবার সম্পূর্ণ নতুন এক পন্থায় কাজ করতে হবে।
তা সেটা কি মিঃ চ্যাপম্যান? হঠাৎ আবেগ বিজড়িত কণ্ঠে বলে উঠলো নিজেল, খুন আমি পছন্দ করি না। একাজ জানোয়ারসুলভ, ভয়ঙ্কর। বেচারী সিলিয়া খুন হওয়া তার প্রাপ্য নয়। বরং আমি তাকে সাহায্য করতে চাই। কিন্তু তাতে কি তার কোনো সাহায্য হল। আমি তো তার কোনো লক্ষণ দেখতে চাই না। মানে, আমি আপনাকে আমার দোষ বা ত্রুটির কথা বলছি।
দেখুন মিঃ চ্যাপম্যান, পুলিসের সহৃদয়তা আছে। তারা সব দিক দিয়ে ভালো ভাবে বিচার-বিবেচনা করে তবেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে থাকে। আপনি যে এই মেয়েটির খুনের একটা সমাধান করতে চাইছেন, আপনার এই আশ্বাসবাণী আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি। এখন আপনি দয়া করে সেই তৃতীয় উদ্ভাবনী দক্ষতার কথাটা বলুন।
ঠিক আছে, নিজেল বললো, আমরা সেটার প্রায় শেষ প্রান্তে এসে গেছি। আগের দুটোর থেকে এটার ঝুঁকি বেশি ছিল। তবে এক সঙ্গে একটা মজার ব্যাপারও ছিল। দেখুন সিলিয়ার ডিসপেনসারিতে মাত্র একবার কি দুবার আমি যাই। সেখানকার সব আঁটঘাঁট আমার জানা ছিল!
তার মানে আপনি কাপবোর্ড থেকে বোতলটা চুরি করেন?
না, না অত সহজ ছিল না। তাছাড়া ওটা ভালো দেখায় না। তাছাড়া যদি কেউ দেখে ফেলে তো আমাকে ধরে ফেলবে। যদিও কাউকে খুন করার মোটিভ নিয়ে আমি সেখানে যাইনি। আসলে ছয় মাস আগে সিলিয়ার ডিসপেনসারিতে যাই। আমি জানতাম, রোজ এগারোটা পনেরোতে সে ও আরো দুটো মেয়ে পিছনের ঘরে চলে যায় টিফিন করতে। আর একটি মেয়ে ছিল, সে ছিল নতুন। আমাকে চিনত না। সে তখন বাইরে রুগী দেখছিল। আমি তখন ডিসপেনসারিতে ঢুকে পড়ি। পরণে সাদা কোট আর গলায় স্টেথোস্কোপ। আমি সিজেনবিষের কাপবোর্ডের কাছে যাই। একটা বোতল বের করে একেবারে শেষ প্রান্তে পার্টিসনের কাছে চলে যাই। সেখান থেকে পিছন ফিরে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি আমাকে কয়েকটা ভেগানিন ট্যাবলেট দিতে পারো? ভীষণ মাথা ধরেছে। মেয়েটি ভেগানিন ট্যাবলেট হাতে নিয়ে এসে আমার কাছে দাঁড়ায়, পিছন ফিরেই ট্যাবলেটগুলো আমি তার হাত থেকে নিই এবং গলাধঃকরণ করে ফেলি তার সামনেই। তার কখনো সন্দেহই হলো না, আমি সেখানকার কোনো ডাক্তার কিংবা মেডিক্যাল ছাত্র নই এ যেন এক শিশুসুলভ খেলা। এমনকি সিলিয়াও জানতে পারল না, আমি সেখানে গিয়েছিলাম, অথচ কাজ আমার হাসিল হয়ে গেলো।
সেই স্টেথোস্কোপটা, কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো ইনসপেক্টর শার্প, আপনি পেলেন কোথা থেকে?
হঠাৎ দাঁত বার করে হাসলো নিজেল, সেটা ছিলো লেন বেটসনের, বললো সে, আমি সেটা চুরি করেছিলাম।
এর থেকে বোঝা গেলো সিলিয়া সেটা চুরি করেনি।
হা তারপরেই একদিন সন্ধ্যায় আমি তাদের সঙ্গে মিলিত হই এবং সেই তিন-তিনটি বিষ তাদের সামনে মেলে ধরি।
তার মানে কাউকে বিষপ্রয়োগ করার জন্য তিনটি ভিন্ন ধরনের বিষ সংগ্রহের জন্য আপনাকে তিন-তিনটি উপায় বার করতে হয়েছিল, ইনসপেক্টর বলে উঠলো, আপনি তাই বলতে চাইছেন?
মাথা নাড়ল নিজেল।
যথেষ্ট ভালো পথগুলো, বললো সে, তবে এটা ঠিক মেনে নেওয়া যায় না অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে, তবে কথা হচ্ছে সে সব বিষগুলোই নষ্ট করে ফেলা হয় আজ থেকে দিন পনেরো কিংবা তারও কিছুদিন আগে হবে হয়তো। হ্যাঁ আপনি যেটা চিন্তা করছেন মিঃ চ্যাপমান, কিন্তু সত্যি সেটা নাও হতে পারে।
স্থির চোখে তার দিকে তাকালো নিজেল, আপনি কি বলতে চাইছেন?
এই বিষগুলো আপনার কাছেই ছিলো, কতদিন ধরে?
চিন্তা করলো নিজেল।
তা প্রায় দশদিন। মরফিন টারট্রেট প্রায় বারদিন। আর টিনচার ডিজিটালিন সেই দিনই বিকেলে পেয়েছিলাম।
আর সেগুলো কোথায় আপনি রেখেছিলেন? মানে সেই হিসিন হাইড্রোব্রোমাইড আর মরফিন টারট্রেট।
আমার আলমারির ড্রয়ারে।
ওগুলো যে সেখানে ছিলো অন্য কেউ জানতো?
না, না, আমি এ ব্যাপারে একেবারে নিশ্চিত, তা কেউ জানতো না, বললো সে, তবে তার কথার মধ্যে একটু ইতস্ততঃ ভাব লক্ষ্য করলো ইনসপেক্টর শার্প। তবে ঠিক তখনি এ বিষয়ে চাপ দিতে চাইলো না।
আপনি কি করতে যাচ্ছেন, কাউকে সে কথা বলেছিলেন, মানে আপনার সেই উপায়গুলোর কথা? যেভাবে আপনি সেই বিষগুলো সংগ্রহ করেছিলেন?
না অন্তত নয়, আমি বলিনি।
আপনি অন্তত বলছেন কেন মিঃ চ্যাপম্যান?
আসলে আমি বলিইনি, সত্যিকথা বলতে কি জানেন, আমি প্যাটকেই কেবল বলতে যাচ্ছিলাম–ডাক্তারের গাড়ি থেকে, প্রেসক্রিপশন নকল করে কিংবা হাসপাতাল থেকে মরফিয়া চুরি করবার কথা। কিন্তু পরক্ষণেই আবার পিছিয়ে যাই আমি এই ভেবে যে, সে হয়তো মেনে নেবে না। খুব কঠোর প্রকৃতির সে। তাই
তার মানে আপনি তাকে এমন কিছুই বলেননি?
