কিন্তু, আমার আর সিলিয়ার মধ্যে তো কোনো মতপার্থক্য ছিল না।
হস্টেলে কয়েকটা জিনিস চুরির ব্যাপারে আপনি তাকে সন্দেহ করতেন?
না, কখনো নয়। আমি সবসময় সিলিয়াকে উচ্চ আদর্শের মেয়ে বলে ভাবতাম। স্বপ্নেও ভাবিনি, সে এ কাজ করতে পারে।
অবশ্যই, সতর্কতার সঙ্গে তার দিকে তাকিয়ে শার্প বললো, সত্যিই ক্লিপ্টোম্যানিয়াকরা কখনোই নিজেদের সাহায্য করতে পারে না, পারে তারা?
আমি বলতে পারি না। এরকম ধারণা সহজেই আমি সমর্থন করতে পারি। পারে?
না, নিজেলের কাজ নয়। আমার মনে হয় মিঃ অ্যাকিমবো করতে পারে, তার সম্ভাবনাই বেশি।
সত্যি? এ কাজ কেনই বা সে করতে গেল?
বিদ্বেষ। এসব কালো চামড়ার মানুষরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়।
এটা খুব আগ্রহের ব্যাপার মিস টমকিনসন। এখন বলুন আপনি শেষ কখন মিস সিলিয়াকে দেখেছিলেন?
শুক্রবার রাতে নৈশভোজের পর।
মিস অস্টিনের কফির পেয়ালায় কে মরফিন মেশাতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণাই নেই।
আচ্ছা, এই বাড়ির কোথাও বা কোনো ঘরে মরফিয়া থাকতে দেখেননি?
না, না, আমার তো মনে হয় না।
আপনি সেরকম মনে করেন না বলতে কি বোঝাতে চাইছেন মিস টমকিনসন?
তাহলে বলি শুনুন, আমি আজও অবাক হই সেই বাজে বাজী ধরার কথায়।
কিসের বাজী?
ওঃ একদিন দু-তিনজন যুবক তর্ক করছিল খুনের ব্যাপারে। কিভাবে খুন করা হয়, বিশেষ করে বিষ খাইয়ে।
তা এ সব আলোচনায় কারা ছিল বলতে পারেন?
কেন বলতে পারব না। আমার মনে হয়, প্রশ্নটা প্রথমে সিলিয়া আর নিজেল তোলে। তারপর লেন বেটসন আসে। প্যাট্রিসিয়াও সেখানে ছিল।
আপনার মনে আছে, এই আলোচনায় কে কি বলেছিল আর তর্কই বা কি ভাবে হয়েছিল?
কয়েক মুহূর্ত ভাবল জিন টমকিনসন। তারপর বলতে লাগল–আমার মনে হয়েছে। বিষপ্রয়োগ করে কাউকে হত্যা করার ব্যাপারে প্রধান অসুবিধা হল প্রয়োজনীয় বিষ সংগ্রহ করা। আর এই বিষ সংগ্রহ করার জায়গা থেকে খুনীর সন্ধান পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিজেল বলে ওঠে যদি তিনটি উপায়ে বিষ সংগ্রহ করা যায় তাহলে খুনীর ধরা পড়ার সম্ভাবনা নাও থাকতে পারে, ইনসপেক্টর শার্প। আমার মনোভাব সেকেলে ধরনের। আর এও বিশ্বাস করি, চুরি তা কোনো তুচ্ছ জিনিসই হোক না কেন, তা চুরিই।
তার মানে আপনি মনে করেন। সেই জিনিসগুলো নেবার জন্যই সিলিয়া চুরি করেছিল?
অবশ্যই আমি সেটা বিশ্বাস করি।
বস্তুত অসাধুতার লক্ষ্মণ এটা, এই তো?
আমার আশঙ্কা তাই।
আহ! ইনসপেক্টর শার্প তার মাথা নেড়ে বললো, সেটা খুবই খারাপ। একটু থেমে সে আবার বলে, সে যা হোক, একজন ক্রিপ্টোম্যানিয়াককে সত্যিকারের চোর বলে ধরে নেওয়া, তারপর পুলিসকে খবর দেওয়ার কথা চিন্তা করা, তবু এসব সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবকিছুতেই শেষে একটা সুখের ইঙ্গিত ছিলো এই কেসেমিস অস্টিনের জীবনে বিয়ের ঘন্টা বাজতে চলেছিল।
হ্যাঁ, কলিন ম্যাকনার যা করেছে তার জন্য কেউ বিস্মিত হবে না, বললো জন টমকিনসন। জানি নিশ্চিত, সে একজন নাস্তিক, অবিশ্বাসী, উপহাসের পাত্র, অপ্রিয় যুবক। সবার সঙ্গে তার ব্যবহার খারাপ। আমার মতে সে একজন কমিউনিস্ট।
আহ! ইনসপেক্টর শার্প আবার বলে, এ খুবই খারাপ। মাথা নেড়ে সে বললো, সে যা হোক মিস অস্টিন নিজের মুখে দোষ স্বীকার করেছে।
ধরা পড়ার পর, শার্প বলে উঠলো।
তা কার কাছে ধরা পড়ল সে?
সেই মিস্টার কি যেন নাম? হ্যাঁ, মনে পড়েছে, পোয়ারো, যিনি আমাদের কাছে এসেছিলেন।
কিন্তু মিস অস্টিন যে তার কাছে ধরা পড়েছিল সে কথা আপনি ভাবছেন কেন? তিনি তো এধরনের কথা বলেননি। তিনি তো কেবল পুলিসকে খবর দিতে বলেছিলেন।
তিনি নিশ্চয়ই হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি ব্যাপারটা জানেন। সিলিয়া নিশ্চয়ই জেনে গিয়েছিল, তার খেলা শেষ। তাই সে ছুটে যায়। স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য।
তা না হয় হলো, কিন্তু এলিজাবেথের কাগজের ওপর কালি ছেটানোর ঘটনা? সেটা কি সে অস্বীকার করেছিল?
আপনার ধারণা ভুল, বললো শার্প। এ অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছিল সে। আর এ ব্যাপারে তার কোনো হাতই ছিল না। এখন আপনি কি বলবেন, জিজ্ঞাসা করলো শার্প।
এ কাজ নিজেল চ্যাপম্যান করতে পারে। লেন বেটসন তখন তাকে জিজ্ঞেসা করে, তার মাথার ঠিক আছে তো? নিজেল বলে, হ্যাঁ সজ্ঞানেই সে কথা বলছে। প্যাট তাকে সমর্থন করে বলে নিজেল ঠিকই বলেছে। সম্ভবতঃ লেন বা কলিন মনে করল যে কোনো হাসপাতাল থেকে বিষ সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে পারে তারা।–নিজেল বাধা দিয়ে বলেছিল–আদৌ সে নিজেদের সম্পর্কে কথা বলেনি। আসলে সে বলতে চাইছিল, ডিসপেনসারি থেকে সিলিয়া যদি কিছু নিয়ে আসে তাহলে তা কারো না কারো নজরে পড়বেই। তখন প্যাট বলে, না তা : হতে পারে না। ধরা যাক সিলিয়া মরফিয়া বার করে নিয়ে অন্য কোনো পাউডার ভর্তি করে দিল সেই বোতলে। হাসল কলিন, তারপর সে বললো, তাতে রোগীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় ও প্রচুর অভিযোগ আসতে পারে। নিজেল বলে, আমি অবশ্য বিশেষ সুযোগের কথা বলছি না, নিজেল আরো বলে, ডাক্তার বা ডিসপেনসারের খেতাব যদিও তার নেই, কিন্তু তিনটে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে অনায়াসে সে বিষের বোতল হাতাতে পারে। তখন লেন বেটসন জানতে চায়, ঠিক আছে, তোমার বক্তব্য আমি শুনলাম। এখন সেই তিনটি উপদেশের ব্যাখ্যা করে দেখাও তো। নিজেল বলে, এখন আমি তোমাকে বলবো না, তবে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমি তোমার বাজী ধরার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। তখন আমি তিন ধরনের ভয়ঙ্কর বিষের নমুনা তুলে ধরব তোমাদের সামনে। আর লেন বেটসন তখন বলে, সে যদি জয়ী হয়ে ফিরতে পারে, তাহলে সে তখন পাঁচগুণ বেশি অর্থ দেবে।
