–না, তা পারেন না। তবে ধর তোমাকে যদি খুন করেন!
-না, তোমাকে খুন করা হোক আর বরং মিস হেণ্ডারসন হল খুনী তাকে কেউ কোনোদিন খুনী ভাবতেই পারবে না।
রবিন বলল, দেখুন এরিয়েন আপনার বইয়ের প্লট মজুত। ও বাবা, কি ভয়ংকর মরিনের কুকুরগুলো।
দুটো আইরিশ নেকড়ে কুকুর ছুটে আসছে চেঁচাতে চেঁচাতে সকলে তাকিয়ে দেখলেন। একটা বালতি হাতে বেরিয়ে এল মরিন। ডাক দিল কুকুরদের, ফ্লিন, করমিক, এদিকে এস। ও আপনারা, এতক্ষণ শুয়োরগুলোর ঘর আমি পরিষ্কার করছিলাম।
রবিন বলল, তা জানি আমরা। সেই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তোমার গায়ে। তা কেমন আছে শুয়োরগুলো?
ওদের নিয়ে আমরা কাল খুব ভয়ে ছিলাম। কিছু খেতে চায়নি। তবে ভালোই আছে আজ। জনিকে তো আজ প্রায় গুঁড়িয়ে ফেলেছিল।
রবিন বলল, তোমরা কি দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ জীবনযাপন করছ।
–জনিকে নিয়ে তুমি আজ সন্ধ্যেবেলার পার্টিতে আসছ তো, জিজ্ঞাসা করল ইভ।
–হ্যাঁ।
–আলাপ করতে চাও মিসেস অলিভারের সাথে? ইনিই মিসেস অলিভার।
–নমস্কার। একটা নাটক নিয়েছেন না আপনি আর রবিন একসঙ্গে?
–চমৎকার এগোচ্ছে কাজটা, রবিন বলল, জানেন এরিয়েন, চরিত্রগুলো কিভাবে বন্টন করলে ভালো হয় তা নিয়ে আমি ভেবেছি আপনি বেরোবার পরই।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মিসেস অলিভার। –ও চরিত্র বন্টন রবিন বলল, সিসিল লীচকে খুব মানাবে এরিকের চরিত্রে, এখন ও নিটলরেপ এ অভিনয় করছে। গিয়ে দেখে আমার একদিন।
ইভ বলল, মরিন, আমরা তোমার পেয়িংগেস্টকেও নিমন্ত্রণ করব। কোথায় উনি?
–ঠিক আছে। আমরা ওঁকে সঙ্গে নিয়ে যাব।
–না ওঁকে আমি নিজে করতে চাই। কারণ ওঁর সঙ্গে রূঢ়ভাবে আমি কথা বলেছিলাম।
-বোধহয় বাগানেই আছেন উনি। করমিক, ফ্লিন, কি হচ্ছেটা কি? মরিন বালতি ফেলে ছুটে গেল পুকুরের দিকে। ঐ পুকুরের দিক থেকে হাঁসেদের কোলাহল ভেসে এল কানে।
.
১৩.
পার্টি প্রায় শেষ হবার মুখে। হাতে পানীয় নিয়ে মিসেস অলিভার এগিয়ে গেলেন পোয়ারোর দিকে। এতক্ষণ সান্ধ্য সমাবেশে তাদের দুজনকে ঘিরেই মাতামাতি হচ্ছিল। সচরাচর হয়, পরিচিতেরা পাড়ার কেচ্ছা, নানা রকম স্থানীয় তথ্য সরবরাহ করা শুরু করলেন নিজেদের মধ্যে।
এই সুযোগে পোয়ারো এবং মিসেস অলিভার নিজেদের মধ্যে নিশ্চিন্তে কথা বলার সুযোগ পেলেন। ওঁরা কথা বলতে বলতে বাইরে বাগানে বেরিয়ে এলেন।
একটা কাগজ ছিল মিসেস অলিভারের হাতে। চুপিচুপি উনি সেটা গুঁজে দিলেন পোয়ারোর হাতে। সেটা পোয়ারো খুলে দেখলেন। তাতে ডঃ রেগুল লেখা আছে।
মিসেস অলিভারের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই উনি বললেন, ডঃ রেগুলই খুনী।
–জানলেন কি করে?
–ওঁর ধরন দেখে।
–হতে পারে কিন্তু খুনের কারণটা কি?
–পেশাসুলভ আচরণের অভাব। সেটা বুঝতে পেরেছিলেন মিসেস ম্যাগিনটি। কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন, খুনী উনিই।
–জানেন, কিলচেস্টার স্টেশনে কাল রাত্রে কেউ আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চেষ্টা করেছিল রেল লাইনের ওপর ফেলে দিতে।
-হে ভগবান! মানে আপনাকে খুন করার মতলবে?
–হ্যাঁ, আমার সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
–ডঃ রেগুল কিন্তু বাইরে গিয়েছিলেন রুগীর কল পেয়ে কাল রাত্রে, আমি সে খবর . জানি।
-হ্যাঁ, উনি কাল রাত্রে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন।
–তা হলে তো খুনী উনিই।
–নাও হতে পারেন কাল রাত্রে কার্পেন্টার দম্পতিও কিচেষ্টারে ছিলেন। কিন্তু একসঙ্গে না এসে আলাদা আলাদা ভাবে ওঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। মিসেস রেগুল বলেছেন কাল সারাদিন উনি বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু সে কথার নিশ্চয়তা কি? মাঝে মাঝে মিস হেণ্ডারসনও সিনেমা দেখতে যান কিলচেস্টার-এ।
-কাল রাত্রে মিস হেণ্ডারসন যায়নি, বাড়িতে ছিল। আমাকে ও বলেছে।
–আপনার বিশ্বাস করা উচিত নয় সকলের কথা। কাল রাত্রে ওদের পরিচারিকা ফিজা সিনেমায় গিয়েছিল। তাই বাড়ির কেউ বাইরে গিয়ে থাকলে ওর তো জানতে পারার কথা নয়।
ঐ ব্যাপারটা স্টেশনে কটা আন্দাজ ঘটেছিল?
–নটা বেজে পঁয়ত্রিশ মিনিটে। আমরা, মানে আমি, রবিন আর তার মা, তাস খেলছি রাত আটটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত।
–হয়ত আপনি আর রবিন দুজনেই খেলাতে মেতেছিলেন বড্ড বেশি।
–আর মিসেস আপওয়ার্ড আমাদের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। আপনি না মঁসিয়ে পোয়ারো পাগল হলে না আমাদের চোখের সামনে উনি বরাবর ছিলেন। আপনি বোধহয় স্বপ্ন দেখছেন। যদি মিঃ স্পেন্সের মুখে এখন বিরাট কালো একজোড়া গোঁফ লাগিয়ে বলা হয় ইনিই মঁসিয়ে পোয়ারো তাহলে যা হয়, আপনার কল্পনাও ঠিক তেমনই অবাস্তব। কোনো কারণে বোধ হয় আপনি শারীরিক বা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
–হ্যাঁ হয়েছি মরিন সামারহেসের রান্না খেয়ে। শুধু যে খেয়ে তাই নয়, নানা জিনিস দেখেও। সর্বত্র ফাটল দেওয়ালে, ঠান্ডা হাওয়া, পেটের গণ্ডগোল, বেড়াল, লোমওয়ালা কুকুর, হাতলভাঙা পায়াভাঙা চেয়ার, আমার বিছানা-বড্ড পীড়াদায়ক এ সবই। বাথরুমের কল, ফুটো কার্পেট, বাজে কফি–এ সমস্তই যে কি খারাপ, বিশ্বাস করা যায় না, না দেখলে।
-ওঃ। কিন্তু সত্যিই মরিন সামারহেস সরল প্রকৃতির মহিলা।
–হ্যাঁ, বড্ড ভালো মানুষ। আমাকে সেটাই আরও গোলমালে ফেলেছে।
–ওই যে, এদিকেই আসছেন দেখছি উনি।
একটা গ্লাস মরিনের হাতে ধরা। পোয়ারো আর এরিয়েনকে দেখতে পেয়ে স্নিগ্ধ হাসি হাসলেন। বললেন, আমার কিন্তু অল্প নেশা হয়েছে। আমি পার্টি ভালোবাসি। এখানে আমাদের এসব বড় একটা হয় না। এটা আজ হচ্ছে আপনাদের আসা উপলক্ষে। আপনারা কত বিখ্যাত। ইস, যদি–আমিও বই লিখতে পারতাম। আসলে মুশকিল হল কোনো কাজই আমি নিখুঁতভাবে করতে পারি না।
