-ভালোই। খুব একটা বাইরে বেরোন না আজকাল।
–একটা দারুণ ছবি (সিনোমা) এসেছে কিলচেস্টারে।
–ভেবেছিলাম কাল যাব, কিন্তু আর হয়ে উঠল না।
পোস্ট অফিস থেকে মেয়েটি বেরিয়ে গেলে মিসেস অলিভার বললেন, মিসেস ওয়েদারবি পঙ্গু, না?
–সম্ভবত। এদের হাত পা একটু চালনা করা দরকার।
–হ্যাঁ, আমিও ও কথা বলবো ভাবছি মিসেস আপওয়ার্ডকে।
সবাই ইচ্ছে করলেই এঁরা উঠতে পারেন।
–সত্যি নাকি?
যাবার জন্যে মিসেস অলিভার পা বাড়ালেন। ডীডার হেণ্ডারসনের সাথে পথেই দেখা হল। ডীডারের সঙ্গে ছিল তার কুকুর।
-কি সুন্দর কুকুর!
–সত্যি খুব সুন্দর না? বেন, খুব সুন্দর তুমি। আহ্লাদে কুকুরটা ল্যাজ নাড়তে লাগল।
–তোমার বেন কি ঝগড়া করে? খুব ঝগড়াটে হয় এই জাতের কুকুররা।
–ঠিক বলেছেন। সেজন্য আমি ওকে সঙ্গে নিয়ে বেরোই।
–তাই ভাবছিলাম আমিও। হঠাৎ ডীডার বলে উঠল, এরিয়েন অলিভার আপনি তাই না?
–হ্যাঁ। মিসেস আপওয়ার্ডের ওখানে আমি আছি।
–আপনি আসছেন রবিন বলেছিল। আমার খুব ভালো লাগে আপনার বই।
মিসেস অলিভার লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন।
–জানেন, এই ধরনের বই পড়তে আমি খুব ভালোবাসি কিন্তু স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে বলে মা বিশেষ পড়তে দেন না।
-আপনাদের এখানে তো সত্যিকারের খুন হয়েছে।
–হ্যাঁ, ওই বাড়িটায়।
মিসেস অলিভার তাকালেন মিসেস ম্যাগিনটির বাড়ির দিকে। একটা বেড়ালকে দুটি বাচ্চা জ্বালাতন করছিল। বেড়ালটা সুযোগ পেয়ে আঁচড় দিয়ে পালালো।
বেশ হয়েছে। স্বগোতোক্তি করলেন মিসেস অলিভার।
-মনেই হয় না এই বাড়িটা দেখে কেউ খুন হয়েছে এখানে, তাই না?
—যা বলেছেন।
-বৃদ্ধা একজন মহিলা। না? আর বোধহয় ওর টাকাও খুনী চুরি করেছিল?
–ওঁর পেয়িংগেস্ট। টাকা ছিল মাটির নিচে।
–ও।
হঠাৎ ডীডার বলে উঠল, হয়ত ও মোটেই খুন করেনি। এক বিদেশী ছোটোখাটো চেহারার ভদ্রলোক। এরকুল পোয়ারো এই সব বলছিলেন।
–এরকুল পোয়ারো? আমি খুব ভালোভাবে ওকে জানি?
–সত্যি কি উনি ডিটেকটিভ?
উনি খুব চালাক আর অসম্ভব জনপ্রিয়।
-উনি হয়ত তাহলে সত্যিই প্রমাণ করতে পারবেন যে ও খুনটা করেনি।
কে?
–ওই জেমস বেন্টলী। মনেপ্রাণে আমি চাই যেন ও মুক্তি পায়।
–তুমি চাও, কিন্তু কেন?
–আমি চাই না যে ও খুনী প্রতিপন্ন হোক। এ ধরনের মানুষ নয় ও ঠিক।
–ওকে তুমি চেন?
-না, ওর ঠিক পরিচিত নই আমি, আমার কুকুর বেন একবার আটকা পড়েছিল ফাঁদে। বেনকে মুক্ত করার সময় আমাকে ও সাহায্য করেছিল। অল্পক্ষণ কথাবার্তা হয়েছিল। আমাদের মধ্যে।
-কেমন ছেলেটি?
–খুব নিঃসঙ্গ। ভেঙে পড়েছিল মায়ের মৃত্যুর পর। খুব বেশি যোগ ছিল মায়ের সঙ্গে।
–তোমার মাকে তুমিও খুব ভালোবাসো।
–হ্যাঁ, তাই আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওর মনের কষ্টটা। শুধু আমি আর মা পরস্পরকে নিয়ে বেঁচে আছি।
-আমাকে রবিন বলেছিল তোমার সৎপিতা আছেন?
–হ্যাঁ, সৎপিতা।
-জানি আমি; এর অনেক তফাত নিজের বাবার সঙ্গে। নিজের বাবার কথা কি তোমার মনে পড়ে?
-না। আমার বাবা মারা যান আমি জন্মাবার আগেই। যখন আমি চার বছরের দ্বিতীয়বার আমার মা বিয়ে করেন। আমি ঘৃণা করি আমার সৎপিতাকে। আমার মা….কোনোদিন ওঁর কাছ থেকে একফোঁটা সহানুভূতি পাননি, বড় নিষ্ঠুর কঠিন উনি।
–জেমস বেন্টলী তাহলে তোমার মতে খুনী প্রকৃতির নয়?
–আমি তো ভাবতেই পারিনি ওকে পুলিশ ধরবে।
হয়ত পোয়ারো পারবেন প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে।
-হ্যাঁ, হয়ত উনি তা পারবেন। ডীডার চলে যাবার পর মিসেস এরিয়েন অলিভার তার নোটবই খুলে লিখলেন, ডীডার হেণ্ডারসন নয়। শেষের নয়কথাটির নিচে দাগ দিলেন এত জোরে যে ভেঙে গেল পেনসিলটা। বাড়ি ফেরার পথে এরিয়েনের সাথে রবিন ও একজন সুন্দরী তরুণীর দেখা হয়ে গেল।
রবিন বলল, এই ভদ্রমহিলা হলেন বিখ্যাত এরিয়েন অলিভার। এত দয়ালু ধরনের এর চেহারাটা যে বোঝাই যায় না ইনি রহস্য গল্প লেখেন। আর ইভ কার্পেন্টার ইনি। আমাদের পরবর্তী লোকসভার সদস্য এর স্বামী। যিনি বর্তমানে নির্বাচিত সদস্য আছেন তিনি একটি বুড়ো ভাম।
ইভ বলল, অনেক সময় তুমি বড় বাজে কথা বল। দলবিরোধী এসব কথা।
–তাতে কি? আমি তো নির্দলীয়। এরিয়েন ইভ আজ সন্ধেবেলা আমাদের সঙ্গে গল্প করতে চায়। এখানে আপনার আসা উপলক্ষ্যে খুশী হয়ে অয়োজন করেছি একটা ছোট্ট পার্টির বরং আপনি পরের বইটা আমাদের লিখুন এই ব্রডহিনির পটভূমিকায়।
-হ্যাঁ, হ্যাঁ, লিখুন। ইভ বলল। রবিন বলল, একবার স্তেনজারসনকে এখানে আনুন। যাকগে, মিঃ পোয়ারোকে আমরা নিমন্ত্রণ করতে যাচ্ছি। ইভ বলছিল, ও কাল ভদ্রলোকের সঙ্গে খুব রূঢ় ব্যবহার করেছে, তাই ক্ষমা চাওয়া দরকার। কিন্তু আপনি সত্যি পরের বইতে এ জায়গার সম্বন্ধে লিখবেন।
-হা মিসেস অলিভার। রবিন বলল, খুনী হবে কে আর কাকেই বা খুন করা হবে?
মিসেস অলিভার জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে মিসেস ম্যাগিনটির জায়গায় কে এসেছে বর্তমানে?
-না না, ও ধরনের নয় বরং খুনের জন্য ইভকে নির্বাচন করুন। ওর বেশ নিজের গলায় নিজের মোজাতেই ফঁস আটকিয়ে মৃত্যু হবে।
-না রবিন আমি না, বরং তুমি খুন হও। গ্রামের কুটিরে তরুণ নাট্যকারকে হত্যা।
রবিন বলল, কে হবে হত্যাকারী?
আমার মা হতে পারেন। হুইল চেয়ারে বসে খুন করলে পায়ের ছাপ থাকবে না।
–ইভ বলল তোমার মা তো আর খুন করতে পারেন না তোমাকে।
