–হয়ত ঠিকই বলছেন আপনি। আচ্ছা, ঘটনাস্থলের প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই চারজনকে মেলাতে গেলে কেমন হয়?
–এখন বেঁচে থাকলে ইভা কেনের বয়স ষাটের কাছাকাছি হত। ত্রিশের কোঠায় তার মেয়ের বয়স। লিলি গ্যাম্বলেরও সেই বয়স। জেনিস কোর্টল্যাণ্ডের প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই হবার কথা।
–হ্যাঁ, হিসেবটা ঠিকই করেছেন।
–এখন দেখতে হবে মিসেস ম্যাগিনটি কার কার বাড়িতে কাজ করতেন।
ফটোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন?
–হ্যাঁ দেখতে হবে। যাদের বাড়িতে উনি কাজ করতেন তাদের খুঁটিয়ে দেখতে হবে।
–নিশ্চয়ই।
মারা যান যেদিন, সেদিন ওয়েদারবিদের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ইভা কেনের মতই মিসেস ওয়েদারবির বয়স আর তার মেয়েও ইভার মেয়ের বয়সী হবে। আবার দেখা যাচ্ছে ইভার মেয়েও তার আগের পক্ষের মেয়ে ছিল।
ফটোর সঙ্গে মিলিয়ে বলছেন?
–বন্ধু, ফটোর সাথে মিলিয়ে ঠিক ঠিক বলা কখনোই সম্ভব নয়। আমার মনে হয় যতদূর এককালে মিসেস ওয়েদারবি সুন্দরী ছিলেন। হয়ত আপনারা ভাবছেন উনি অশক্ত মহিলা। কিন্তু আমরা যতক্ষণ না জানতে পারছি সঠিকভাবে যে কোন অস্ত্রটা দিয়ে খুন করা হয়েছে ততক্ষণ কারও শারীরিক শক্তি সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না।
–হ্যাঁ, অস্ত্রটা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তারপর?
–দেখুন, স্বামীর কানে যাতে অতীতের কলঙ্ক পৌঁছয়, সেজন্যও ভদ্রমহিলা খুন করতে পারেন। আবার ঐ একই কারণে খুনী হতে পারে মেয়েটিও। অন্যদিকে পারিবারিক কলঙ্ক চাপা দেবার জন্য স্বামী ভদ্রলোকটিও হত্যা করতে পারেন। একটা জিনিস ওদের বাড়িতে গিয়ে পরিষ্কার বুঝেছি মেয়েটি মাকে যথেষ্ট ভালোবাসলেও ভীষণ অপছন্দ করে সৎপিতাকে।
সানডে কম্প্যানিয়ন-এর কথা চিন্তা করলে সবচেয়ে সন্দেহজনক চরিত্র ওরাই।
-হ্যাঁ। ইভা কেনের বয়সী আর মাত্র একজনই আছেন এখানে। তিনি মিসেস আপওয়ার্ড। কিন্তু দুটো কথা থেকে যাচ্ছে বিপক্ষে। এক উনি আর্থারাইটিসের রুগী হুইল চেয়ারে ঘোরেন সর্বক্ষণই….
–সত্যি না হয়ে হুইল চেয়ারের ব্যাপারটা অভিনয়ও হতে পারে।
–দ্বিতীয়ত, হাবভাব সবই ওঁর ইভা কেনের ঠিক বিপরীত।
–তা ঠিক। খুনী হওয়া যেমন মিসেস আপওয়ার্ডের পক্ষে অসম্ভব নয়। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতাও তেমন নয়। আর জেনিস কোর্টল্যাণ্ড?
–ঠিক ওই বয়সের কেউ নেই। যদি না নাক উঁচু ভদ্রমহিলার কেউ হন।
এখানে তিনজন ত্রিশোত্তীর্ণ বা ত্রিশের কাছাকাছি ভদ্রমহিলা আছেন। একজন, ডঃ রেগুলের স্ত্রী, আরেকজন মিসেস কার্পেন্টার, শেষজন ডীডার হেণ্ডারসন। এদের মধ্যে আবার যে কেউই লিলি গ্যাম্বল হতে পারে। লম্বা না বেঁটে ইভা কেনের মেয়ে, কেমন গায়ের রং আমরা সে সব কিছুই জানি না। আমার মনে হয় কোনো কারণে মিসেস রেগুল ভয় পেয়েছেন।
-আপনার সম্পর্কে?
–তাই তো মনে হয়। নিশ্চয়ই এর কোনো তাৎপর্য আছে। হয়ত উনি ইভার মেয়ে বা লিলি। ওঁর চুলের রং গাঢ় না হালকা?
-হালকা।
–লিলিরও তাই।
–মিসেস কার্পেন্টারের চুলের রঙও হালকা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ওঁর চোখ। বড় বড় গাঢ় সুন্দর নীল চোখ। যখন উনি দুহাত বাড়িয়ে ডাকছিলেন স্বামীকে, ওকে দেখাচ্ছিল ঠিক যেন বিরাট এক প্রজাপতি।
–মিঃ পোয়ারো বড় ভাবপ্রবণ আপনি।
–মোটেই না। আমার বন্ধু হেস্টিংস, বরং ভাবপ্রবণ সে আর কল্পনাবিলাসী। বলতে চাইছি আমি যে একজন নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য তার চোখে। আচ্ছা…
পোয়ারো এই পর্যন্ত বলে লিলির চশমা পরা ছবির ওপর হাত দিলেন।
–মিঃ পোয়ারো তাহলে আপনি বলতে চান লিলি গ্যাম্বলই….
-না, শুধু সম্ভাবনার দিকটা আমি বিচার করছি। যখন মিসেস ম্যাগিনটি মারা যান, তখন মিসেস কার্পেন্টার ছিলেন বিধবা, যাকে বিয়ে করতে মনস্থ করেন মিঃ কার্পেন্টার। কিন্তু উনি যদি লিলি হন, অথবা ইভা কেনের মেয়ে তবে খোঁজখবর নেবার পর কি ওকে মিঃ কার্পেন্টার বিয়ে করতে রাজী হতেন? ভালোবাসার প্রশ্ন হয়ত তুলবেন আপনারা। কিন্তু যে প্রকৃতির মানুষ মিঃ কার্পেন্টার তাতে মনে হয় ওর কাছে মর্যাদাবোধের তুলনায় ভালোবাসা তুচ্ছ। তবে এটা খুব স্বাভাবিক হবে যে, ভদ্রমহিলা সর্বদাই কান বাঁচিয়ে চলেছেন ওর স্বামীর।
–তাহলে আপনি ওঁকেই সন্দেহ করেন?
-বারবার তো আপনাকে বলছি যে, এখনো আমি জানি না। শুধু আলোচনা করছি সম্ভাবনার কথা। অত্যন্ত সর্তক মিসেস কার্পেন্টার এবং আমায় সন্দেহের চোখে দেখেন।
–সেটা খুব খারাপ।
-হ্যাঁ। শিকারীর মত হয়েছে আমার অবস্থা। মিসেস কার্পেন্টার যে বললেন মিথ্যেবাদী মিসেস ম্যাগিনটি হয়ত এ কথারও কোনো সঙ্গত কারণ আছে।
–সত্যি সত্যি কি মনে হয় আপনার?
–কি মনে হয় তার চেয়েও বড় কথা কি জানতে হবে আমায়।
–আমরা যেটাকে খুনের কারণ বলে ভাবছি, সেটা কি সত্যিই খুনের কারণ?
–পারিবারিক ব্যাপারের ওপর তা নির্ভর করছে। ব্যক্তিগত কথা সকলেই গোপন করতে চায়। হয়ত সেইজন্যই প্রয়োজন হয়েছিল মিসেস ম্যাগিনটিকে হত্যা করার।
–ওয়েদারবিদের সন্দেহ করেন আপনি?
-না, তাদের যদিও সব কিছুই সন্দেহজনক। স্বভাবের দিক ভাবলে মিসেস ওয়েদারবির চেয়ে মিসেস আপওয়ার্ডের ওপর বেশি হয় সন্দেহটা। অতীত জীবনে হতে পারে এমন কেউ তিনি ছিলেন যা ছেলেকে জানতে দিতে চান না।
–রবিন কি কিছু মনে করবে তেমন কিছু হলে?
