তদন্ত করছি আমি।
–কেন এসেছেন আমার কাছে?
–হয়ত আপনি কিছু জানতে পারেন এই ভেবে।
–কিছু জানি না আমি। উনি নিতান্তই নির্বোধ ছিলেন। কেউ টাকা রাখে মাটির নিচে? সেজন্যই তো ওঁকে কেউ খুন করল। রবিবারের কাগজের খবরের মত আজগুবি যত কাণ্ড।
-রবিবারের কাগজ মানে, সানডে কম্প্যানিয়ন?
লাফিয়ে উঠলেন ভদ্রমহিলা। চেঁচাতে লাগলেন জানলার কাছে গিয়ে গীই গীই…..
–ইভ, কি বলছ?
–একবার এস শীগগির।
বয়স বছর পঁয়ত্রিশ হবে জানলার কাছে এলেন এক ভদ্রলোক।
ইভ বললেন, বিদেশী ভদ্রলোক এসেছেন একজন। যে ভদ্রমহিলা গত বছরে খুন হয়েছিলেন সেই ব্যাপারে কি সব আজেবাজে প্রশ্ন করছেন আমায়। এসব আমি অপছন্দ করি তুমি জানো।
ভদ্রলোক জানলা টপকিয়ে ঘরে এলেন।
–কি মশাই, বিরক্ত করছেন আমার স্ত্রীকে?
–না, না, ছিঃ। তদন্তের ব্যাপারে আমি ভেবেছিলাম উনি আমায় সাহায্য করবেন।
–কিসের তদন্ত?
–মিসেস ম্যাগিনটির হত্যার ঘটনার। পূর্ণতদন্ত হচ্ছে।
–কিন্তু সে তো চুকে গেছে।
–না, যায়নি।
–পুলিশ করছে। কিন্তু আপনি তো মনে হচ্ছে পুলিশ পক্ষের নন বলেই।
–আমি নিরপেক্ষ তদন্তে নেমেছি পুলিশের অনুরোধে।
–দেখ, নিশ্চয়ই কোনো প্রেস থেকে এই ভদ্রলোক এসেছেন, কোনো রবিবাসরীয় পত্রিকার তরফ থেকে।
সতর্কতার আভাস মিঃ কার্পেন্টারের চোখে।
-আমার স্ত্রী খুব নরম প্রকৃতির মানুষ। ওই ভদ্রমহিলাকে উনি প্রায় চিনতেনই না।
ইভ বললেন, উনি নির্বোধ ছিলেন আর খুব মিথ্যেবাদী।
–তাহলে মিথ্যেবাদী ছিলেন উনি? খুব দরকারী তথ্য এটা। পোয়ারো বললেন।
–কি হিসেবে?
–খুনের কারণ হিসেবে। এ পথেই এগোচ্ছি আমিও।
–কিন্তু শুনেছি টাকাকড়ির জন্য উনি মারা যান।
–তাই কি? মিসেস কার্পেন্টারকে আমি অস্বস্তিতে ফেলার জন্য দুঃখিত।
–আমরা দুঃখিত, কোনো তথ্য আপনাকে সরবরাহ করতে না পারার জন্য।
–কিন্তু তা আপনারা করেছেন।
–আপনি কি বলছেন?
–ওই যে বললেন মিথ্যে বলতেন উনি। আচ্ছা, কি ধরনের মিথ্যে?
–কি জানি, সঠিক মনে নেই আমার। সব বেশির ভাগই আর্যাঢ়ে গল্প, নানা লোকের সম্বন্ধে।
–ওঁর কথাবার্তা তাহলে খুব সাংঘাতিক ছিল, বলুন।
–না, তা ঠিক নয়। গল্পচ্ছলে বলতেন। গল্পচ্ছলে?
বিদায় নিয়ে উঠলেন পোয়ারো, হল পর্যন্ত মিঃ কার্পেন্টার সঙ্গে এলেন।
–রবিবারের পত্রিকা আপনার কোনটা?
আপনার স্ত্রীকে সেটার কথা বলেছিলাম। তা সানডে ক্যানিয়ন।
–সানডে কম্প্যানিয়ন, আমি ওটা বিশেষ পড়ি না।
-মাঝে মাঝে ওটাতে বেশ নতুন ধরনের ঘটনার উল্লেখ থাকে। আমাকে এবার বিদায় দিন। আপনাদের বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।
পোয়ারো ফিরে যেতে যেতে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে ভাবলেন, অবাক হচ্ছি আমি, সত্যি অবাক হচ্ছি।
.
১১.
সুপারিন্টেডেন্ট স্পেন্স যিনি পোয়ারোর সামনে বসা তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
মিঃ পোয়ারো, আমি বলছি না যে, কোনো তথ্য পাননি আপনি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি হয়ত কিছু পেয়েছেন আপনি কিন্তু তা বোধহয় খুবই সামান্য। দরকার আরও তথ্য। ওই রবিবারের কাগজটা অনেক আগেই আমার বা আমার সহকারীর নজরে আসা উচিত ছিল।
–আপনি নিজেকে এ জন্যে দোষারোপ করতে পারেন না। যে রকম পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছিল, তাতে কাগজ দেখার কথা মনেও আসে না।
-তবুও আমাদের ওটা দেখা উচিত ছিল। আর কালির বোতলটা?
–আমি দৈবাৎ ওটার কথা জানতে পারি।
–ওটাও কি কাজের পক্ষে আপনার দরকারী?
–সেটা শুধু চিঠি লেখার কথা ভেবে।
–ঐ চারজন কাগজের মহিলার পুরনো ছবি থেকে কাউকে সনাক্ত করা শক্ত হবে বলে মনে হয়। দিনকাল সব দিক দিয়েই যা পাল্টাচ্ছে।
–আপনারও কি মনে হয় আমার মত যে ভেরা ব্লেককে বাদ দিতে পারি।
–হ্যাঁ। যদি ভেরা ব্লেক এখানে আসত, তবে তার কাহিনী সবাইকে শুনিয়ে বেড়াত।
–আর অন্য তিনজন?
–কেন দেশত্যাগী হয়েছিল ইভা। সে নাম নিয়েছিল ইভলিন হোপ।
–এরকম রোমান্টিক নাম কবিতায় পাওয়া যায়।
–তাহলে কি আসল নাম তার ইভালিন ছিল?
–হ্যাঁ, তবে সে বেশি পরিচিত ছিল ইভা নামেই।
–ইভা কেন সম্বন্ধে কি মনে করে পুলিশ।
–তখন অল্প বয়েস আমার। আলোচনা শুনে বুঝতাম কোনো প্রমাণ না থাকলেও মোটেও নির্দোষ নয় ইভা কেন। সম্ভবত হত্যার পরিকল্পনাটা তারই ছিল। মিঃ ক্রেগের অনুপস্থিতির সুযোগে নিয়েই হয়ত সে হত্যা করেছিল ভদ্রমহিলাকে। তারপর বাড়ি ফিরে মিঃ ক্রেগ ব্যাপার দেখে তাড়াতাড়ি সবকিছু চাপা দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় নিজে।
–জেনিস কোর্টল্যাণ্ড? এডিথ থাপসনকে খুনের দায়ে শাস্তি দিলেও উচিত হয়নি জেনিসকে ছেড়ে দেওয়া।
আর সেও সম্ভবত সরিয়ে দিতে চেয়েছিল স্বামীকে।
–আবার কি পরে জেনিস বিয়ে করে?
সঠিক জানা নেই।
–সে বিদেশে যায়, তারপর? –সে স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার পেয়েছিল।
–একটা ককটেল পার্টিতে কোনো সময় যে কেউ তার সাক্ষাৎ হঠাৎ পেতে পারে।
নিশ্চয়ই।
–আর লিলি গ্যাম্বল?
–শাস্তি পাবার পক্ষে ছোট ছিল যথেষ্ট। ও স্কুলে যায় এরপর চাকরি যোগাড় করে শর্টহ্যাণ্ড, টাইপিং শিখে। আর কিছু তার পরের খবর জানা নেই। মনে হয় আমার ওকেও বাদ দেওয়া যেতে পারে। ও একটা খুন করে ফেলেছিল রাগের মাথায়।
–বাদ দিতে পারতাম। কিন্তু বাদ সাধছে মাংস কাটার বড় ছুরিটাই। প্রায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মিসেস ম্যাগিনটিকেও লিলির পিসীমার মত হত্যা করা হয়েছে।
