এত খবর তো সানডে কম্প্যানিয়ন কিছুই দেয়নি। একটু মনে করে আপনি বলতে পারেন পরে কাকে উনি বিয়ে করেন?
-নাঃ কখনো সেটা শুনেছি বলে মনেও পড়ে না। কিন্তু এটুকু শুনেছিলাম যে, লোক ভালোই ছিলেন তিনি।
অবাক হয়ে সকলে ভাবছে এই চারজন মহিলা কোথায় আছেন এখন।
-বুঝতে পারছি। হয়ত কোনো পার্টিতে এঁদেরই কারো সাথে আপনার হঠাৎ দেখা হয়ে গেল। আর বাজি ফেলে বলতে পারি নিজেদের অতীত গোপন রেখেছেন এরা সকলেই। এত বিবর্ণ ছবিগুলো সে খুব শক্ত চেনা।
উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো। ডঃ রেগুল, এবার আমি উঠছি। আপনি আমার জন্য অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করলেন।
–কিন্তু বোধহয় বিশেষ কাজে লাগাতে পারলাম না। একটু অপেক্ষা করুন আমার স্ত্রীকে ডাকছি। তার দেখার খুব ইচ্ছে আপনাকে।
–শেলা, শেলা, হলঘরে গিয়ে ডাক্তার ডাক দিলেন, মৃদু সাড়া পাওয়া গেল ওপর থেকে।
–দেখ কে এসেছেন।
রোগা ফর্সা হালকা রংয়ের চুলের একজন মহিলা নেমে এলেন সিঁড়ি দিয়ে।
-শেলা, ইনি মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো।
ওহ, এত অবাক হয়ে গেলেন মিসেস রেগুল যে কোনো কথা যোগালো না ওঁর মুখে। ওকে অভিবাদন জানালেন পোয়ারো। শেলা বললেন, আমরা জানতাম এখানে আপনি এসেছেন কিন্তু….
স্বামীর দিকে চকিতে শেলা তাকালেন।
মনে মনে পোয়ারো ভাবলেন মহিলা নিতান্তই স্বামীর অনুগত। উনি বিদায় নিলেন আরও দু চার কথার পর। পোয়ারো হান্টার্স প্লেস এসে ওয়েদারবির খোঁজ করলেন। তরুণী বিদেশী পরিচারিকাটি তাকে হলে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে রেখে খবর দিতে গেল ভেতরে। ঘরটা দেশী বিদেশী নানা জিনিসে বোঝাই। সযত্নের ছাপ নেই কোনো কিছুতেই। একটি মেয়ে কিছুক্ষণ বাদে ঘরে ঢুকল।
-শুয়ে আছেন আমার মা। বলুন আপনাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি?
–আপনি মিস ওয়েদারবি?
–হেণ্ডারসন, আমার সৎপিতা মিঃ ওয়েদারবি।
ত্রিশের কাছাকাছি বয়স মেয়েটির। অত্যন্ত সাদামাটা চেহারা কিন্তু বেশ উদ্বিগ্ন চোখের দৃষ্টি।
মিস হেণ্ডারসন, এখানে আমি এসেছি, আপনাদের পরিচিতা মিসেস ম্যাগিনটির সম্বন্ধে কিছু যদি বলতে পারেন, তা জানতে। আপনাদের গৃহস্থালির কাজকর্ম উনি করতেন শুনেছি।
-মিসেস ম্যাগিনটি, কিন্তু তিনি তো মারা গেছেন।
শান্তস্বরে পোয়ারো উত্তর দিলেন, আমি জানি। কিন্তু কিছু জানতে চাই তার সম্বন্ধে।
-ও। জীবনবীমা সংক্রান্ত ব্যাপার?
–না। এখানে পূর্ণতদন্তের জন্য এসেছি।
–পূর্ণতদন্ত? মানে ওর মৃত্যুর ব্যাপারে?
সরকার পক্ষ থেকে জেমস বেন্টলীর অপরাধের সত্যতা যাচাই করতে নিয়োগ করা হয়েছে আমাকে।
–কিন্তু সে কি অপরাধী নয়?
-তাই ভেবেছে পুলিশ। কিন্তু ভুলও তো হতে পারে।
–তাহলে এমন কি হতে পারে যে, অন্য কেউ ভদ্রমহিলাকে খুন করেছে?
হতে পারে।
আচমকা মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কে?
–সেটাই তো জিজ্ঞাস্য। মৃদুস্বরে পোয়ারো জবাব দিলেন।
–কিছুই তো আমি বুঝতে পারছি না।
–কিন্তু আপনি মিসেস ম্যাগিনটি সম্বন্ধে কিছু তো বলতে পারেন?
–হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কি জানতে চান?
–এই ধরুন, ওঁর সম্বন্ধে আপনি কি ভাবতেন?
–তেমন কিছু নয়। উনি ছিলেন আর পাঁচজনের মতই।
-খুব কথাবার্তা বলতেন, না চুপচাপ? কৌতূহলী না নির্বিকার? হাসিখুশী না দুঃখী দুঃখী, খুব ভালো না অন্য রকম ভদ্রমহিলা? একটু চিন্তা করলেন মিস হেণ্ডারসন।
-উনি ভালোই কাজকর্ম করতেন। তবে কথা বলতেন বড় বেশি। এমন সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা….। সত্যি বলতে কি ওকে আমি তেমন পছন্দ করতাম না।
–ওদের পরিচারিকাটি দরজা খুলে মুখ বাড়ালো।
–মিস, আপনার মা বলছেন তার কাছে ভদ্রলোককে নিয়ে যেতে।
পেয়ারার দিকে তাকালেন মিস হেণ্ডারসন।
–দেখা করতে চান আমার মায়ের সাথে?
–নিশ্চয়ই।
মিস ডীডার হেণ্ডারসন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে পোয়ারোকে বলল, এইসব বিদেশীরা…
বুঝতে পারলেন পোয়ারো যে, তাদের কাজের মেয়েটির কথা বলছে ডীডার। তাই নিজে বিদেশী হওয়া সত্ত্বেও রাগ করলেন না তিনি। তার খুব সহজ সরল মেয়ে বলেই মনে হল ডীডারকে।
নানা টুকিটাকি জিনিসে ভর্তি ওপরের ঘরটা। দেখলেই বোঝা যায় অনেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন ভদ্রমহিলা এবং ঝোঁক খুব বেশি পছন্দসই জিনিস কেনার দিকে। যেন আসবাবপত্রও বেশি বেশি ঘরে। একটা সোফায় মিস ওয়েদারবি আয়েস করে শুয়ে ছিলেন। চার পাশে তার বই কেনার সরঞ্জাম, কমলালেবুর রস গ্লাসে আর চকোলেট আর এক গ্লাস।
ভদ্রমহিলা বললেন, নিজে আমি উঠে গিয়ে আপনাকে অভ্যর্থনা করতে পারিনি সেজন্য ক্ষমা করবেন। আমাকে ডাক্তার আজ পূর্ণ বিশ্রাম নিতে বলেছেন। আর কথা না শুনলে আমায় বাড়ির লোক বকাঝকা করে।
পোয়ারো তার সাথে করমর্দন করলেন। ডীডার পেছন থেকে বলে উঠল, উনি জানতে চান মিসেস ম্যাগিনটি সম্বন্ধে কিছু।
পোয়রোর হাতের মধ্যে ধরা মিসেস ওয়েদারবির হাত শক্ত হয়ে উঠল মুহূর্তের জন্য। ভদ্রমহিলাই তারপরই হাসলেন।
–ডীডার, তুমি কি অদ্ভুত কথাবার্তা বলছ, মিসেস ম্যাগিনটি আবার কে?
–ওহ মা, মনে পড়ছে না তোমার, আমাদের বাড়িতে উনি কাজ করতেন… আরে যিনি খুন হলেন।
চোখ বন্ধ করে ভদ্রমহিলা একটু শিউরে উঠলেন।
-আমাকে আর ও কথা মনে করিয়ে দিও না। আমি ভালোভাবে কতদিন পর্যন্ত ঘুমোতে পারিনি। বেচারা বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা। কেউ মেঝের নিচে ওভাবে টাকা রাখে? ব্যাঙ্কে রাখা উচিত ছিল। এইবার সব মনে পড়েছে আমার। আসলে মনে করতে পারছিলাম না ওর নামটা।
