আত্মতুষ্টিতে ভরপুর পোয়ারো। তাহলে আপনিও আমার নাম শুনেছেন?
–নিশ্চয়ই শুনেছি। কে না জানে বলুন আপনার কথা। এবার পোয়ারো সংযত হলেন। ডাঃ রেগুল; আমার সৌভাগ্য যে আপনাকে বাড়িতেই পেয়েছি।
বাড়িতেই ডাক্তারকে পাওয়ার সঙ্গে সৌভাগ্যের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। উনি এ সময় বাড়িতেই থাকেন। খুশীমনে উনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, ঠিক সময়েই আপনি এসেছেন। অবশ্য আমাকে মিনিট পনেরোর মধ্যেই বেরোতে হবে। বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি? মশাই আমি তো কৌতূহলে মরে যাচ্ছি যে, এখানে আপনার মত লোক কেন? নিছক বিশ্রামের জন্য না খুনটুনের ব্যাপার।
–অতীতের অপরাধ।
–অতীতের? কিছুই তো আমার মাথায় ঢুকছে না।
মিসেস ম্যাগিনটি।
–ও হা হা। ভুলেই গিয়েছিলাম আমি। তা এতদিন বাদে মাথা ঘামাচ্ছেন আপনারা। ব্যাপার কি বলুন দেখি?
তা হলে শুনুন, আমি এসেছি পুলিশের তরফ থেকে, পূর্ণতদন্তের জন্য।
তীক্ষ্ণস্বরে ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু নতুন তথ্যই বা কি থাকতে পারে?
–আপনাকে সেটা এখুনি জানাবার অধিকার নেই রেগুল।
–ও, মাপ করবেন আমায়।
–আপনাকে অবশ্যই এটুকু বলতে বাধা নেই যে এমন অনেক তথ্যের সন্ধান আমি পেয়েছি যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ডঃ রেগুল, আপনার কাছে এসেছি কারণ আমি শুনেছি যে মিসেস ম্যাগিনটি টুকিটাকি কাজের জন্য আপনার এখানে মাঝে মাঝে আসতেন।
দুজনের জন্য ডঃ রেগুল দু গ্লাস শেরী নিয়ে এলেন।
সপ্তাহে একদিন করে উনি আমার এখানে আসতেন। ঘরের কাজ করার জন্য আমাদের অন্য যে মেয়েটি আছে সে বেশ ভালো কিন্তু পেতলের জিনিস, রান্নাঘরের মেঝে ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য আমরা নিয়োগ করেছিলাম মিসেস ম্যাগিনটিকে।
–আচ্ছা কি মনে হয় আপনার ভদ্রমহিলা সত্যি কথা বলতেন?
-সেটাও ঠিক বলতে পারব না। ওকে সেরকম ভাবে জানবার সুযোগ কখনো হয়নি আমার। তবে যতদূর মনে হয় সত্যি কথাই উনি বলতেন।
তার মানে যদি উনি কারো কাছে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেন তবে তা সত্যি হতেও পারে, কেমন?
একটু বিব্রত দেখালো ডাক্তারকে।
–অতটা তো ঠিক আমি বলতে পারব না। অনুমতি যদি করেন বরং আমি আমাদের কাজের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারি।
-না না, কোনো দরকার নেই তার।
–আপনি তো মশাই আমার কৌতূহল বাড়িয়েই তুলছেন, কি বলেছিলেন ভদ্রমহিলা বলুন তো? নিশ্চয়ই আজেবাজে কথা?
মাথা নাড়লেন পোয়ারো, দুঃখিত ডাক্তার। কিছু বলার হুকুম নেই আমার ওপর। অত্যন্ত গোপনীয় সব ব্যাপারটাই আর সবে তদন্ত শুরু করেছি আমিও।
ডঃ রেগুল শুকনো গলায় বললেন, তাড়াতাড়ি তো আপনাকে তদন্ত করতে হবে।
–ঠিক বলেছেন, বিশেষ সময় নেই হাতে।
–একথা স্বীকার করতে আমি বাধ্য যে, আমায় অবাক করেছেন আপনি। এখানকার সকলে তো আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে এ কাজ বেন্টলীই করেছে। এতে কোনো সন্দেহ আছে বলে তো শুনিনি?
–আপনাদের সকলের মতে এটা একটা সাধারণ ঘটনা মাত্র?
–সে রকমই তো ভেবেছিলাম।
–আপনি জেমস বেন্টলীকে চেনেন?
ছোটোখাটো অসুখের ব্যাপারে আমার কাছে কখনো কখনো এসেছে। ও খুব ভীতু ছিল স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। ওর মা ওকে অতিরিক্ত আহ্লাদ দিয়েছেন আর কি। এখানে আরও এরকম নজীর আছে একটি।
-কি রকম?
মিসেস লরা আপওয়ার্ড। ওঃ কি আহূদই না দেন ছেলেকে। বুদ্ধিমান ছেলেটি, কিছুটা প্রতিভাবানও বটে। উঠতি নাট্যকারদের মধ্যে একজন ওই রবিন আপওয়ার্ড।
–এখানে কি ওরা অনেকদিন আছেন?
–তিন-চার বছর হবে। এ অঞ্চলে কেউই আমরা খুব বেশি দিন আসিনি। বরং লং মিডোস-এর চারদিকে কয়েকটা মাত্র বাড়িতে পুরনো কয়েক ঘর বাসিন্দা আছেন। ওখানেই তো আপনি আছেন?
-হ্যাঁ।
কৌতুক প্রিয় ডঃ রেগুল হেসে বললেন, অতিথিশালা। কিন্তু যা তড়বড়ে স্বভাবের মহিলাটি। আসলে বিবাহিত জীবনে বেশিরভাগ সময়টাই ভারতবর্ষ কাটান ওরা–দাসদাসী পরিবৃত হয়ে আমি তো মশাই বাজি ফেলে বলতে পারি আপনার বেশ অসুবিধেই হচ্ছে ওখানে। ওখানে বেশিদিন থাকতে পারে না কেউ। মেজর সামারহেস লোক ভালো কিন্তু তেমন বোঝেন না ব্যবসাপত্র, আজকাল সেটা খুব দরকার। ওদের দুজনকেই অবশ্যই আমি যথেষ্ট পছন্দ করি। খুব রাশভারী মেজাজের মানুষ ছিলেন মেজরের বাবা। মারা যাবার সময়ে বিশেষ টাকাকড়ি রেখে যেতে পারেননি। তবে নানা অসুবিধে সত্ত্বেও এখানেই শেষ পর্যন্ত সামারহেসরা রয়ে গেলেন।
ঘড়ির দিকে তাকালেন ডাক্তার। পোয়ারো বললেন, আপনার সময় আমি আর নষ্ট করব না।
-না না, আর কিছুক্ষণ আমি থাকতে পারি। আমার স্ত্রীর সাথে আলাপ করলে খুশী হবেন আপনি। ওর খুব কৌতূহল আছে আপনার সম্বন্ধে। মানে, কেন এখানে এসেছে আপনার মত মানুষ। দুজনেই আমরা গোয়েন্দা কাহিনীর দারুণ ভক্ত।
–অপরাধ বিজ্ঞান, রহস্য কাহিনী না কি রবিবারের পত্রিকাগুলো পড়েন?
–তিনটেই।
–সানডে কম্প্যানিয়ন-এর মত বাজে পত্রিকাও?
–তা কেনই বা বাদ যায় ওটা?
–ওরা একটা বিবরণ মাস পাঁচেক আগে ছাপিয়েছিল অতীতের অপরাধ জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মহিলা সম্পর্কে।
-হা হা, মনে পড়েছে। তবে খুব অস্পষ্ট বিবরণ পুরোটাই।
–তাই মনে হয় আপনার? অবশ্য ক্রেগ মামলার বিষয়টা কাগজ পড়েই জানতে পারি প্রথম। কিন্তু কোর্টল্যাণ্ডের ব্যাপারটা হলফ করে আপনাকে বলতে পারি মোটেই সরল ছিলেন ভদ্র মহিলা। আমি ঘটনাটার কিছুটা জানি কারণ আমার এক কাকার সঙ্গে কোনো ব্যাপারে ওই ভদ্রলোকের যোগাযোগ ছিল। তেমন সুপুরুষ ছিলেন না ভদ্রলোক। ওঁর স্ত্রীও তথৈবচ। স্ত্রীই তরুণটিকে প্ররোচিত করেন স্বামীকে খুন করার জন্য। তারপর হাজতে যায় তরুণটি আর ভদ্রমহিলা, পরে আবার ঐ ধনী বিধবা অন্যত্র বিয়ে করেন।
