–তা ঠিক। তবুও মনে হয় আমার মনে রাখা উচিত ছিল আপনার; কারণ তার কয়েকদিন পরেই খুন হন উনি।
–আপনি এতক্ষণে ঝেড়ে কাসছেন মঁসিয়ে। ম্যাগিনটি, ম্যাগিনটি…. যেন চেনা চেনা লাগছে নামটা…। হ্যাঁ, মনে পড়েছে এইবার। মাথায় বাড়ি মেরে ওর বাড়ির ভাড়াটে ওকে খুন করেছিল, ঠিক কিনা, অবশ্য উত্তেজক খুন ওটা ছিল না। আপনি বলছেন ঐ ভদ্রমহিলা আমায় কোনো চিঠি লিখেছিলেন?
না, আপনাকে ঠিক কিনা জানি না। তবে সানডে কম্প্যানিয়ন এর চিঠিপত্র বিভাগে হয়ত…।
একই ব্যাপার আমার কাছেই আসত সে চিঠি। খুন হলেন ভদ্রমহিলা–তিনিই চিঠি লিখেছিলেন–তাহলে তো আমার মনে রাখার কথা। দাঁড়ান, দাঁড়ান-ব্রডহিনি থেকে ওটা নয়, ব্রডওয়ে থেকে লেখা।
-তাহলে মনে পড়েছে?
-না, খুব সঠিকভাবে কিছু মনে পড়ছে না… তবে ম্যাগিনটি…এ সবই এত মজার মনে হয় শুনতে মনে হচ্ছে যেন অন্যরকম পদবী। খুব বিশ্রী জড়িয়ে জড়িয়ে লেখা। সম্ভবত ভদ্রমহিলা তেমন শিক্ষিতা নন। তবে আমি নিশ্চিত যে ব্রডওয়ে থেকেই ওটা এসেছিল।
কিন্তু নিজেই তো আপনি বললেন জড়ানো লেখাটা। ব্রডহিনি, ব্রডওয়ে বানানের সামান্য এধার ওধার তো, আপনি ঠিকমত হয়ত পড়তে পারেননি।
–হ্যাঁ, তাও হতে পারে। ছোটোখাটো মফস্বলের জায়গার নাম তো ভুলও হতে পারে। ম্যাগিনটি হা হা, আমি এবার নিশ্চিত। খুনটা হয়েছিল বলেই স্পষ্ট মনে পড়ছে নামটা।
–আচ্ছা উনি কি লিখেছিলেন চিঠিতে মনে আছে আপনার? –কোনো একটা ছবির ব্যাপারে কিছু। সম্ভবত কাগজের ছবির মত উনি কোনো একটা ফটোগ্রাফ কোথাও দেখেছিলেন। তাই জানতে চেয়েছিলেন সেটার জন্য আমরা ওকে কত টাকা দিতে পারি।
এবং উত্তর দিয়েছিলেন আপনি?
-দেখুন, আমাদের এ ধরনের কোনো ফটোর প্রয়োজন ছিল না। চিরাচরিত প্রথায় ধন্যবাদ জানিয়ে ওর প্রস্তাব গ্রহণে অসমর্থ আমরা –একথা লিখে জানিয়ে দিয়েছিলাম ওঁকে। কিন্তু ব্রডওয়ের ঠিকানায় তো যে উত্তর লেখা হয়েছিল, যা বুঝতে পারছি এখন। হয়ত কোনোদিনই উনি সে উত্তর পেতেন না।
-উনি জানতেন কোথাও ওরকম ছবি আছে একটা ….মনে পড়ল পোয়ারোর মরিন সামারহেসের কথা। মরিন বলেছিল, একটু ছোঁক ছোঁক করার অভ্যেস ছিল মিসেস ম্যাগিনটির। সৎ ছিলেন ভদ্র মহিলা কিন্তু একটু যেন বেশি কৌতূহল ওঁর। অতীতের স্মৃতি বিজড়িত আজেবাজে তুচ্ছ জিনিষ মানুষ অনেকেই রেখে দেয়? হয় নিছক সেন্টিমেন্টের দায়ে নয় কিছু না ভেবেই পুরনো বিবর্ণ এরকম একটা ছবি কারও বাড়িতে উনি দেখেছিলেন, সেটা পরে কাগজের কোনো একটা ছবির সাথে এক বলে সনাক্ত করে। এমন কথাও উনি ভেবেছিলেন এ থেকে কিছু টাকা পয়সা যদি পাওয়া যায় মন্দ কি?
উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো, মিস হর্সফল ধন্যবাদ! ক্ষমা করবেন আমাকে কিন্তু যা যা আপনি লিখেছিলেন তা কি সবই সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে? যেমন ধরুন, আমি জানি যে ক্রেগ মামলার সালটা ভুল উল্লেখ করা হয়েছে। ওটা এক বছর পরের মামলা ছিল। জেনিসের স্বামীর নাম হার বার্চের বাদলে হু বার্চ ছাপা হয়েছে। বার্কিংহামসায়ারের বাসিন্দা ছিলেন লিলির পিসী, বার্কশায়ারের নন।
সিগারেট সমেত হাতটা পামেলা অসহিষ্ণুভাবে নাড়লেন।
–দেখুন মঁসিয়ে, বিশেষ কিছু এসে যায় না সঠিক তথ্যে। রোমান্টিক সেন্টিমেন্টে ভরা লেখার সবটাই। মোটামুটি ঘটনাটুকু ঠিক রেখে পাঠকদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করেছি মাত্র।
–না, মানে বলতে চাইছি যেভাবে ঐ মহিলাদের চরিত্রগুলো আপনি বর্ণনা করেছেন, আদপেই হয়তো তা নয়।
আবার অধৈর্য হয়ে পামেলা গলার কর্কশ আওয়াজ চুললেন, নিশ্চয়ই, আমি আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে একমত। আমার তো সন্দেহ নেই যে, ইভা কেন কুকুরীরও অধম এবং সে একটুও সরল ছিল না। কি মতলবেই বা জেসি নামের মহিলাটি আট-আটটা বছর স্বামীর অত্যাচার সহ্য করল চুপচাপ; স্বামীর অঢেল অর্থ নিশ্চয়ই ছিল আর তার পুরুষ বন্ধুটি ছিল কপর্দকহীন।
–আর লিলি?
–অবশ্য আমি ওকে আমার চারদিকে ছুরি নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখলেও গ্রাহ্য করব না। নিজের হাতের আঙুল নাড়াচাড়া করছিলেন পোয়ারো।
দেখুন মিস হর্সফল, এমন হতে পারে যে সবাই ওরা অন্য দেশে চলে গেছে, নতুন ভাবে জীবন শুরু করতে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদের কেউই এদেশে আবার ফিরে আসেনি।
-না, সে তো হতেই পারে। আমায় এবার ছুটি দিন মঁসিয়ে উঠতেই হচ্ছে আমাকে।
পোয়ারো সুপারিন্টেন্টে মিঃ স্পেন্সকে বেশ রাতে ফোন করলেন।
–মিঃ পোয়ারো আপনার কথাই আমি ভাবছিলাম কোনো তথ্য পেলেন? যা হোক কিছু? নতুন?
-তদন্ত করেছি আমি,-গম্ভীর পোয়ারোর গলা শোনা গেল।
–এবং?
–একটিই তার ফল, সকলেই ব্রডহিনির বাসিন্দারা খুব চমৎকার লোক।
–মঁসিয়ে কি বোঝাতে চাইছেন আপনি?
বন্ধু আমার, চিন্তা করুন কথাটা খুব চমৎকার লোক–তাই-ই তো তারা…. খুনের উদ্দেশ্যটা যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে।
.
০৯.
পোয়ারো স্টেশনের কাছে ক্রমওয়েল গেট পেরোতে পেরোতে আপন মনে মন্তব্য করলেন, খুব ভালো লোক সবাই।
একটা পেতলের ফলক দরজাটার সামনে জানান দিচ্ছিল যে, এখানেই ডাঃ রেগুল থাকেন।
–চল্লিশোত্তীর্ণ ডাঃ রেগুল লম্বা-চওড়া হাসিখুশী মানুষ। তিনি সাদর অভ্যর্থনা জানালেন অতিথি পোয়ারোকে।
-ধন্য হয়েছে আমাদের গ্রাম আপনার আগমনে, মঁসিয়ে পোয়ারা।
