–আর ভাইঝি জামাইকে?
–যতদূর জানি, তাকেও।
–কবে, ওঁকে আপনি কখন শেষবারের মত জীবিতাবস্থায় দেখেন?
দাঁড়ান মশাই ভেবে দেখি। এডনা মনে আছে তোমার?
অসহায়ের মত দরজার পেছনে দাঁড়ানো এডনা তাকালো।
দাঁড়ান, দাঁড়ান। মৃত্যুর দিন কি? না, তার আগের আগের দিন। সোমাবার ছিল সেদিন আর বুধবার খুন হন উনি। এখানে সোমবার উনি এক বোতল কালি কিনতে এসেছিলেন।
-কালি কিনতে আসেন এক বোতল!
বোধহয় চিঠি লেখার জন্য তা হতে পারে।
-আচ্ছা উনি কি সেদিন কথাবার্তা বেশ স্বাভাবিক বলেছিলেন?
-না, আমার তা মনে হয়নি। এডনা এবার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে যোগ দিল ওদের কথায়। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন মিসেস সুইটিম্যান। সেদিন কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল ওঁর আচরণ। মানে বেশ উত্তেজিত ভাব আর কি।
–এডনা ঠিক বলেছে তবে ততটা আমি লক্ষ্য করিনি। আপনি জিজ্ঞেস করাতে খেয়াল হচ্ছে এখন।
–মনে করতে পারেন সেদিন উনি কি বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন।
–সবটা না পারলেও হয়ত কিছু কিছু পারব। যেমন বেন্টলীর সম্বন্ধে কিছু বলেননি। তবে কার্পেন্টারদের আর মিসেস আপওয়ার্ড সম্বন্ধে কিছু বোধ হয় বলেছিলেন। ওর তো মনিব দুজনেই।
–ও হ্যাঁ, বলুন তো উনি কোথায় কোথায় কাজ করতেন?
–সোম আর বৃহস্পতিবার সামারহেসদের বাড়িতে। আপনি তো ওখানেই আছেন?
–হ্যাঁ, এখানে মনে হয় থাকবার মত আর কোনো জায়গার ব্যবস্থাও নেই?
-না, ঠিক ব্রডহিনিতে কোথাও তেমন ভালো পাবেন না। একটু অসুবিধে হচ্ছে ওখানে আপনার না? অবশ্য মিসেস সামারহেস খুবই ভালো তবে ওঁর ঘর গেরস্থালী সম্পর্কে জ্ঞান বেশ কম। সেরকমই বলতেন মিসেস ম্যাগিনটি। অস্থির হয়ে যেতেন ঘরদোর গুছোতে। মঙ্গলবার সকালে উনি যেতেন ডাঃ রেগুলের ওখানে আর মিসেস আপওয়ার্ডের বাড়ি বিকেলে। মিসেস ওয়েদারবি প্রতি বুধবার ওখানে যেতেন। শুক্রবার ছিল যাবার দিন মিসেস সেলকার্কের কাছে অবশ্য বর্তমানে উনিই মিসেস কার্পেন্টার। মিসেস আপওয়ার্ড বৃদ্ধা-উনি থাকেন ছেলের সাথেই। একটি কাজের মেয়ে আছে ওদের। মিসেস ওয়েদারবি বাতে প্রায় পঙ্গু। কিছুই পারেন না করতে। মিসেস কার্পেন্টার আবার মাত্রাছাড়া শৌখিন। মিসেস ম্যাগিনটিকেই সব ঝক্কি পোহাতে হত।
জানার ছিল না আর কিছু। ডাকঘর থেকে পোয়ারো বেরিয়ে এলেন। চুপচাপ মন্থরগতিতে লংমিডোস-এর সামারহেসেদের বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন। প্রার্থনা করছিলেন মনে মনে ওই অখাদ্য বীনসেদ্ধ আর টিনের খাবারগুলো যেন সাবাড় হয়ে গিয়ে থাকে মধ্যাহ্নভোজে। কিন্তু শিকে কি আর ছিঁড়বে বেড়ালের ভাগ্যে? উঃ একবারে যাচ্ছেতাই ওই আস্তানাটা।
পোয়ারো হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলেন আজকের দিনটার কথা। বোধহয় বিফলে গেল। দিনটা যেসব তথ্য জানা গেল, সেগুলোকে মনে মনে সাজালেন :
এক– একজন বান্ধবী ছিল বেন্টলীর।
দুই –তার ও মিসেস ম্যাগিনটির শত্রু ছিল না কোনো।
তিন– মহিলাটিকে মৃত্যুর দিন দুই আগে খুব উত্তেজিত মনে হয়েছিল। এক বোতল কালি কিনেছিলেন তিনি।
বিস্মিত হলে পোয়ারো। কিছুর কি ইঙ্গিত দিচ্ছে কালি কেনার ব্যাপারটা? কোনো চিঠি লেখাটেখা? চিঠি অন্য সকলের ক্ষেত্রে লেখা খুব মামুলী ব্যাপার কিন্তু তা নিঃসন্দেহে ওর পক্ষে মামুলী ছিল না অনভ্যস্ত ছিলেন তিনি নিশ্চয়ই। নইলে কি হঠাৎ কেউ এক বোতল কালি কেনে? উনি যে খুব কম চিঠিপত্র লেখালেখি করতেন তা মিসেস সুইটিম্যানের কথা থেকেই বোঝা যায়। কিন্তু মাত্র মৃত্যুর দুদিন আগে হঠাৎ ওঁর লেখার দরকার হল–হয়ত কোনো চিঠির উত্তর দিতে কাকে কেন : ব্যাপারটা এও হতে পারে তেমন কিছুই নয়। ভাইঝি বা কোনো বন্ধুকে চিঠি দিয়েছিলেন সত্যিই কালি কেনাটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়–কিন্তু এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পোয়ারোর কাছে। এটাকে ভিত্তি করেই এগোতে হবে তাকে….এক বোতল কালি….
.
০৮.
জিজ্ঞেস করছেন চিঠির কথা। বেমি মার্চ মাথা নাড়লেন, না তো, আমি পিসীর কাছ থেকে কোনো চিঠি-পত্তর পাইনি। আর আমাকে হঠাৎ লিখতেই বা যাবেন কেন?
–আপনাকে হয়ত কিছু জানাতে চেয়েছিলেন।
–কিন্তু তিনি মোটেও লেখালিখির ব্যাপারে অভ্যস্ত ছিলেন না। প্রায় বয়স হয়েছিল সত্তরের কাছে। ওদের সময় লেখাপড়ার তেমন চলও ছিল না।
–তবু উনি নিশ্চয়ই লিখতে পড়তে জানতেন।
-হা, হা একজন বিরাট পড়ুয়া ছিলেন না তিনি ঠিকই, তবে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড আর সানডে কম্প্যানিয়ন নিয়ে ওঁর দিব্যি কেটে যেত সময়। ওঁর কাছে একটু কষ্টকর ছিল লেখালেখির কাজটা। কিন্তু আমাকে জানাবার দরকার হলে যেমন ধরুন কোনো কারণে আমাদের পারস্পরিক দেখা করবার প্রোগ্রামটি বাতিল করতে হলে সাধারণত আমার পাশের বাড়ির কেমিস্ট ভদ্রলোক মিঃ বেনসনকে ফোনে বলে দিতেন। আমি খবরটা পেয়ে যেতাম ওখান থেকেই। মিঃ বেনসন এসব দিক দিয়ে খুব ভদ্র। কখনো কিছু মনে করতেন না। আর ব্রডহিনির ডাকঘর থেকে ফোন করতে পিসীর খরচ হত মাত্র দু পেনি।
পোয়ারো বুঝলেন মিসেস ম্যাগিনটি সত্যি খুব হিসেবী আর মিতব্যয়ী ছিলেন। বেশ সংযত টাকা পয়সার ব্যাপারে।
কথা চালিয়ে গেলেন উনি– কিন্তু আপনাকে তো উনি লিখতেন মাঝে মাঝে।
-হ্যাঁ, বড়দিনে যেমন কার্ড পাঠাতেন।
–হয়ত ইংলণ্ডের অন্যত্র ওর অনেক বন্ধু ছিল- যাদের সাথে চিঠিতে যোগাযোগ রাখতেন।
