গাজনের দিকে তাকিয়ে গ্র্যাঞ্জ বলে ওঠেন, তাহলে এই পর্যন্তই তোমার স্মরণে আছে?
গাজন–হ্যাঁ স্যার, সবকিছুই বেশ স্বাভাবিক ছিল। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
গ্র্যাঞ্জ–লোমের তৈরি একটা জিনিস আমাদের হাতে এসেছে। সেটা হয়তো এখানে উপস্থিত কোনো মহিলার হবে।
গাজন–আপনি স্যার প্ল্যাটিনাম ফক্সের কথা বলছেন? ওটা আমি গতকাল তাঁবু থেকে গ্লাসগুলো নিয়ে আসার সময় পাই। কিন্তু স্যার, ওটা এখানকার কোনো মহিলার হবে না।
গ্র্যাঞ্জ–তাহলে এটা কার হতে পারে?
গাজন–ওটা খুব সম্ভব মিস ক্রের হবে। মিস ভেরোনিকা ক্রে, এক সিনেমা অভিনেত্রী, ওনার হলেও হতে পারে স্যার। আমার যতদূর মনে আছে ওরকম একটা জিনিষ তার গায়ে চাপানো ছিল।
গ্র্যাঞ্জ–কখন?
গাজন–গতরাতের আগের রাতে তিনি হঠাৎ এখানে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন স্যার।
গ্র্যাঞ্জ–তিনি এখানকার অতিথি ছিলেন না। মিস ক্রে ‘ডাভকোট’-এ বাস করতেন, ঐ দিকে লেনের মধ্যে। সে রাতে ডিনারের পর তিনি এখানে এসেছিলেন একটা দেশলাই নিতে।
পৈরট বলে ওঠে–তিনি কি ছটা দেশলাই নিয়েছিলেন?
গাজন–পৈরটের দিকে একবার তাকিয়ে) আপনার অনুমানই ঠিক স্যার। আমাদের গৃহকত্রী অনেক অনুসন্ধান করার পর জানালেন যে, আমাদের কাছে অনেক দেশলাই আছে, তখন তিনি ক্রে’কে ছ’টা দেশলাই বাক্স নিয়ে যাবার জন্য অযথা জিদ ধরে বসলেন।
পৈরট–তাবুতে তিনি সেগুলো ফেলে চলে গেলেন।
গাজন-হ্যাঁ স্যার, গতকাল সকালের দিকেই সেগুলো আমি তাবুতে স্বচক্ষে দেখে আসছি।
গাজন চলে যাবার পর দরজা বন্ধ করতে করতে পৈরট বলে ওঠে, এমন কিছু আছে বলে তো মনে হয় না যে, ঐ লোকটার দৃষ্টিতে কিছু এড়িয়েছে বলে।
ইন্সপেক্টর গ্র্যাঞ্জ শুধু বলেন, চাকরেরাই সব শয়তানির মূলে। প্রফুল্ল মনেই গ্র্যাঞ্জ বলে ওঠে, রান্নাঘরের ঝিও-তো আছে, তার কথাবার্তার ধরন-ধারণ এমন উঁচুদরের চাকরদের মতো নয়।
গ্র্যাঞ্জ আবার তার বক্তব্য শুরু করে, হার্লি স্ট্রিটে অনুসন্ধানের জন্য অমি সেখানে একজন লোক নিযুক্ত করেছি, আমি পরে একদিন সময় করে চলে যাব। আমাদের সেখানে অবশ্য কিছু না কিছু পাওয়া খুবই প্রয়োজন। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ক্রিস্টোর স্ত্রীকে নাকি অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মুখ বুজে সেগুলো তাকে সহ্য করতে হয়েছে..
এমন সব কায়দা-দুরস্ত ডাক্তারদের তাদের রোগিণীবৃন্দের সম্পর্কে এমন সব মুখরোচক ঘটনা শুনলে আপনি আশ্চর্য না হয়ে পারবেন না। লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল অবশ্য বলেছিলেন যে, হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে ডাক্তার ক্রিস্টোর কি সব গোলমাল নাকি হয়েছিল। যদিও তিনি সঠিক কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি, বা নাম, ধাম ইত্যাদির বিবরণও তাঁর কাছে অজ্ঞাত। গুজবের মতো এই কথাটা তার কানে ভেসে এসেছিল।
ঈর্ষাপ্রণোদিত হয়ে বা অন্য কোনো সুচারুরূপে গঠিত এক সুন্দর চিত্র…ডাক্তার এবং হাসপাতালের নার্স…ডাক্তারের জীবনের সুযোগ…জার্দা ক্রিস্টোর ঈর্ষার যথেষ্ট কারণ…তার শেষ পরিণতি…হত্যা…হ্যাঁ, এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি…হার্লি স্ট্রিট হতে পারে…হলো থেকে দূরে…কিছু মুহূর্ত দূরে বা অন্যত্র হেনরিয়েটা স্যাভারনেকের জার্দার কল্পিত হস্ত থেকে রিভলবার নেবার অভিনয়…রিভলবার সুইমিং পুলের জলে ফেলে দেওয়া বা পড়ে যাওয়া থেকেও একটু পৃথক ধরনের হতে পারে…জন ক্রিস্টোর শেষ কথা…হেনরিয়েটা…অনেক কিছু হতে পারে… কোথায়…কেন..বা কে হত্যাকারী?…আধবোজা চক্ষুজোড়া হঠাৎ খুলে পৈরট জিজ্ঞাসা করে ওঠে, আপনার ছেলেরা কি মোনো বাজায়?
–এ্যা, কি? ভ্রুকুটি করে গ্রাঞ্জের চোখ চলে যায় পৈরটের দিকে। একথা কেন জিজ্ঞাসা করছেন? গ্রাঞ্জের কণ্ঠে পূর্বের মতোই বিস্ময়ের সুর। আসলে ব্যাপারটা কী হয়েছে জানেন, ওরা সবাই বেশ ছোট। কিন্তু আমার ইচ্ছা আছে বড়দিনের ছুটিতে টেডিকে এক সেট মোনো উপহার দেবার। এবারে বলুন তো আপনার জিজ্ঞাসা করার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? গ্র্যাঞ্জ সহজ কণ্ঠেই বলে যায়।
পৈরট নিঃশব্দে মাথা নাড়ে, জবাবে কিছু বলে না। সত্যি কী সাংঘাতিক চরিত্রের স্ত্রীলোক লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল। আপন মনে কী সুন্দরই না গল্প ফেঁদেছেন। এই সর্বনাশা কাহিনীর যদি এক অংশ সত্য হয় তবে অপর অংশটাও সত্য হতে বাধ্য…আপনি অনায়াসেই সত্য বলে মেনে নেবেন।…
ইন্সপেক্টর গ্র্যাঞ্জ বলে ওঠে, একটা কথা আপনাকে আমার জিজ্ঞাস্য আছে, পৈরট, এই মিস ক্রে–পেশায় অভিনেত্রী, তার দেশলাইয়ের প্রয়োজন পড়লে তিনি আপনার কাছে গেলেন না কেন? কয়েক পা গেলেই যখন আপনার বাড়ি। কিন্তু আপনার বাড়ি না গিয়ে আধমাইল দূরে যাবার কি প্রয়োজন ছিল?
হারকিউল পৈরট শুধু মাথা নাড়েন।
কারণ অবশ্যই একটা আছে। আমার বাড়ি আকারে বেশ ছোট, তাই চোখে না পড়াটাই স্বাভাবিক, আমি হপ্তাহান্তের আগন্তুক মাত্র–কিন্তু, লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল এবং স্যার হেনরি নামজাদা ব্যক্তি, এখানেই তাদের বাস, তারা পল্লীর অধিবাসী। এই মিস ভেরোনিকার হয়তো বাসনা ছিল যে, তাদের সঙ্গে পরিচিত হবার এটাই আসল পন্থা।
ইনসপেক্টর গ্র্যাঞ্জ এবার উঠে পড়ে।
সে বলে, তা হয়তো হতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যাপারকে এড়িয়ে যাওয়া চলে না এবং উচিতও নয়। আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই যে, সবকিছুই বেশ সহজ ভাবে ঘটে গেছে। স্যার হেনরি তাঁর বন্দুক সনাক্ত করতে পেরেছেন। যতদূর মনে হয়, আগের দিন ঠিক বিকেলে তারা এই নিয়ে অনুশীলনও করেছিলেন। জাদা ক্রিস্টোর চোখে সবকিছুই ধরা পড়েছে এবং শুধু বন্দুক আর টোটা তাকে তুলে আনতে হয়েছে, খুবই সহজ সাদাসিধে কাজ। হা পৈরট, সত্যিই সহজ কাজ।
