এডওয়ার্ড এ্যাঙ্গক্যাটেল মুচকি হাসি হেসে রহস্যের কণ্ঠে বলে উঠে, গ্যাস উঠে গিয়ে সর্বত্রই যদি বিদ্যুতের প্রসার হয়ে থাকে তবে ঐ স্ত্রীলোকরা ঘরের অন্য কী কাজে লাগবে?
ডেভিড-আমি এ বিষয়ে কিছুতেই একমত হতে পারছিলাম না, বিদ্যুতের প্রসার সর্বত্র হবেই বা কেন? কেন্দ্রের সরবরাহ থেকে সর্বত্র সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উত্তাপের ব্যবস্থা হতে পারে। প্রত্যেক শ্রমজীবীর গৃহ বাঁচানোর প্রচেষ্টাও হতে পারে।
এডওয়ার্ড–আমি এই বিষয়ে একটু কাঁচা।
ডেভিডের ঠোঁট ব্যাঙ্গের ভঙ্গিতে বেঁকে যায়।
গাজন ট্রেতে কফি এনে ধীরে ধীরে পরিবেশন করে যাচ্ছে শাকপ্রকাশের আশায়।
লেডি এ্যঙ্গক্যাটেল বলে ওঠেন, ওহে গাজন, সেই ডিমগুলোর কী ব্যবস্থা করলে, আমি বলি কি ডিমের গায়ে পেনসিল দিয়ে তারিখটা লিখে রাখতে বলবে মিসেস মেডওয়েকে।
গাজন বলে ওঠে, মহাশয়া, আপনি এ নিয়ে কিছু ভাববেন না, সন্তোষজনকভাবেই সবকিছু করা হচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা আমি নিজে লক্ষ্য রেখে চলেছি।
–তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ গাজন।
গাজন যেতে যেতে এ্যাঙ্গক্যাটেল আপনমনেই বিড়বিড় করে বকতে শুরু করে দেন, গাজন অত্যাশ্চর্য। সব চাকররাই বেশ ভালো, পুলিস এসে যাওয়ায় একে অপরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হল পুলিস। ভালো কথা, কেউ থেকে গেল নাকি?
মিডগে জিজ্ঞাসা করে, তুমি পুলিসের কথা বলছ?
–হ্যাঁ, তাঁরা সর্বদাই একজন-না-একজনকে হলে দাঁড় করিয়ে রেখে যায়। অথবা ঝোঁপের আড়াল থেকে কেউ হয়তো সামনের দরজায় পাহারায় বসে যায়–লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন।
মিডগে–সামনের দরজায় পাহারা দিচ্ছে কেন?
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল–আমি নিজেও জানি না। তবে রাতে যদি আর কারো প্রাণহানি ঘটে এই আশঙ্কায়।
মিডগে–লুসি, এমন কথা মুখেও এনো না।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল অদ্ভুতভাবে তার দিকে তাকালেন। বলে উঠলেন, আমি সত্যিই অনুতপ্ত বোন, বোকার মতোই বলে চলেছি আমি। তবে আর কারো নিহত হবার সম্ভাবনা নেই। আমি বলছি জার্দা বাড়ি চলে গেছে–ওঃ হেনরিয়েটা, আমি সত্যিই দুঃখিত, সেকথা বলার কোনো ভাষা আমার ছিল না।
হেনরিয়েটা কোনো জবাব দেয় না। সে গোলটেবিলের দিকে তাকিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, গত রাতে সে ঐ টেবিলটাতেই ব্রিজ খেলায় স্কোর করেছিল।
সে যেন তার মধ্যে হঠাৎকরে সম্বিত ফিরে আসে এবং বলে ওঠে, কী যেন বলছিলেন, লুসি?
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল–আমি এটাই জানতে চেয়েছিলাম যে পুলিস এখনও আছে কী?
হেনরিয়েটা-নীলামের ঝড়তি-পড়তির মতোই। আমার তো মনে হয় তারা সব থানায় চলে গেছে। আমরা সারাদিন ধরে যে সব কথা বলেছি তা পুলিসী ভাষায় রূপান্তরের জন্য তারা চলে গেছে।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল–তোমার চোখে কী পড়েছে হেনরিয়েটা?
হেনরিয়েটা–না, কিছুই নয়। হেনরিয়েটা অগ্নিকুণ্ডের উপরের কারুকার্য করা তাকের কাছাকাছি চলে গেল। সে জিজ্ঞাসা করে ওঠে, আজ রাতে ভেরোনিকা ক্রে কী করছে বলে তোমার অনুমান?
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেলের মুখের ওপর বিষাদের করুণ ছায়া নেমে আসে। তিনি বলেন, তোমার কী মনে হয় বোন, সে কি এখানে থাকতে চাইবে? এতক্ষণে হয়তো তার কানে সব পৌঁছে গিয়ে থাকবে।
হেনরিয়েটা–আমারও তাই মনে হয়। সে নিশ্চয়ই সব শুনে থাকবে।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল–আচ্ছা, আমি যদি ক্রের কাছে টেলিফোনে আগামীকাল লাঞ্চের জন্য নিমন্ত্রণ করি, কিছুই যেন হয়নি এই ভেবে, তবে কেমন হয়?
ঘর ছেড়ে তিনি চলে যান।
আত্মীয়রা ডেভিডের চোখে ঘৃণার পাত্র। বলে, সে গিয়ে হয়তো এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা দেখবে। সে ভেবে নেয় লাইব্রেরিটা সত্যিই শান্তিপূর্ণ স্থান।
হেনরিয়েটা ফরাসি জানলার কাছটায় এগিয়ে যায় এবং জানলা খুলে চলে যায়। মিনিট কয়েক ইতস্তত করে এডওয়ার্ড তাকে অনুসরণ করল। সে দেখল, হেনরিয়েটার দৃষ্টি এখন বাইরের আকাশপানে। সে বলে, গতরাতের মতো গরমের প্রকোপ নেই, তাই না?
সান্তনার সুরে এডওয়ার্ড বলে ওঠে, না বেশ ঠান্ডা!
হেনরিয়েটা একদৃষ্টে বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে, তার দুচোখের দৃষ্টি এক ছুটে জানলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, পরে সে দৃষ্টি রাখে বনের পানে। তার মন কি ভাবে, সে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। সে খোলা জানলার দিকে একবার চলতে শুরু করে দেয়।
এডওয়ার্ড বলে ওঠে, ভেতরে চলো, বাইরে বেশ শীত।
হেনরিয়েটা নিঃশব্দে মাথা নাড়ে। সে বলে, আমি সুইমিং পুলের ধার থেকে একবার না হয় ঘুরে আসি। এডওয়ার্ড এক পা এগিয়ে গিয়ে বলে ওঠে, আমি সঙ্গে আসব নাকি?
হেনরিয়েটা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, না কোনো দরকার নেই, তোমাকে অজস্র ধন্যবাদ এডওয়ার্ড। আমি মৃতের সঙ্গে একাকী থাকতে চাই।
-হেনরিয়েটা! আমি কিছু বলিনি। তুমি তো জান আমার কাছে এটা কত বড় একটা আঘাত হয়ে এসেছে।
হেনরিয়েটা–দুঃখিত! জন ক্রিস্টো ইহজগৎ ত্যাগ করেছে বলে? তার স্বরে সেই পুরোনো কথা বেশ।
এডওয়ার্ড-আমি বলছি, তোমার জন্য আমি আন্তরিকভাবেই দুঃখিত হেনরিয়েটা–আমি বুঝি এটা তোমার কাছে কত বড় একটা আঘাতের বিষয়।
হেনরিয়েটা–আঘাত? আমি মনের দিক থেকে যথেষ্ট শক্ত এডওয়ার্ড। আঘাত সহ্য করার মতো ক্ষমতা আমার আছে। তোমার কাছে এটা কোন আঘাত? তুমি যখন জনকে ঐভাবে পড়ে থাকতে দেখলে তোমার মনে তখন কী হয়েছিল? আমার কেন জানি না, মনে হচ্ছে তুমি খুশি হয়েছিলে, কারণ তুমি তাকে একদম সহ্য করতে পারতে না।
