গ্র্যাঞ্জ–আপনি শেষ এটাকে কখন দেখেছিলেন?
হেনরি–গতকাল বিকেলে, আমরা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য বুঝে বাগানের মধ্যে গুলি ছুঁড়েছিলাম এবং আমরা যতগুলো রিভলবার ব্যবহার করেছিলাম এটাও তাদের মধ্যে একটা।
গ্র্যাঞ্জ–আসলে এটা তাহলে কে ব্যবহার করেছিল?
হেনরি–আমার মনে হয় প্রত্যেকেই একটা করে গুলি ছুঁড়েছিল।
গ্র্যাঞ্জ–মিসেস ক্রিস্টোও কি সেখানে উপস্থিত ছিলেন?
হেনরি-হ্যাঁ।
গ্র্যাঞ্জ–গুলি ছোঁড়ার পর কী করেছিলেন?
হেনরি–যথাস্থানের জিনিষ যথাস্থানেই রেখে দিলাম।
স্যার হেনরি একটা ডেস্কের দেরাজ খুলে দেখালেন। দেরাজের অর্ধেক স্থান জুড়ে রাখা আছে বন্দুক।
গ্র্যাঞ্জ–আপনার আগ্নেয়াস্ত্রের বেশ বড় সংগ্রহ দেখছি স্যার হেনরি।
হেনরি–এটা আমার বহুদিনের শখ।
ইন্সপেক্টর গ্রাঞ্জের দু’চোখের দৃষ্টি হলোয়েন দ্বীপের ভূতপূর্ব গভর্নরের দিকেই নিবিষ্ট হল! সুদর্শন, নামজাদা বিখ্যাত পুরুষ, এমন লোকের অধীনে কাজ করতে তার বড়ই ভালো লাগে–নিজের চিফ কনস্টেবলের স্থানে হেনরি থাকলে তার বরং ভালোই লাগত। এইসব ছেড়ে চকিতে সে নিজের উপস্থিত কাজেই মন দিল।
গ্র্যাঞ্জ–স্যার হেনরি, আপনি যখন তুলে রাখলেন, গুলিভর্তি তো ছিল না?
হেনরি–নিশ্চয় না।
গ্র্যাঞ্জ–আপনি গুলি ঠিক কোথায় রাখেন?
হেনরি–এখানে (স্যার হেনরি চাবি দিয়ে ছোট একটা কুঠরি খুলে গ্র্যাঞ্জকে দেখালেন)।
গ্র্যাঞ্জ ভেবে নেয়, কোথাও কোনো জটিলতা নেই, খুব সহজ ব্যাপার। ক্রিস্টো স্ত্রীলোকটি নিশ্চয়ই দেখে থাকবে কোথায় গুলি রাখা হয়। সে শুধু এসে তুলে নিয়েছে। সে ভাবে ঈর্ষা শয়তানিবুদ্ধির স্ত্রীলোকদের সঙ্গেই খেলায় মেতে ওঠে। দশটার মধ্যে একটা কেস ঈর্ষার জন্য। সব জিনিষটা একেবারে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখানকার গতানুগতিক কাজ সারা হলে হার্লি স্ট্রিটে গিয়ে না হয় অনুসন্ধানে নামবে। কিন্তু সব ব্যাপারটাই নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই সারতে হবে।
সে উঠে পড়ে আর বলে ওঠে, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, স্যার হেনরি। অনুসন্ধানের খবর আপনাকে জানাতে ভুলব না।
.
১৩.
নৈশভোজনের জন্য হাঁসের মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, ঠান্ডা মাংস। সেই সঙ্গে ছিল ক্যারামেল কাস্টার্ড। লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেলের মতে মিসেস মেডওয়ের মনোভাবের প্রতিফলন প্রস্ফুটিত হয়েছিল তাদের ব্যবস্থাপনায়। তার মতে রাঁধুনীর সদিচ্ছার প্রতিফলন থাকে রন্ধনে।
ক্যারামেল কাস্টার্ড সাধারণভাবে বেশ উপভোেগ্য, কিন্তু তেমন মনের মতো প্রিয় খাদ্য নয়।
কোনো বন্ধুবান্ধব মারা গেলে প্রিয় আহারগুলো খাওয়া যায় না, তাই এগুলো ব্যবহৃত হয়।
দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে তিনি বলে ওঠেন, জাদাকে বাড়িতে বাড়িতে পাঠিয়ে একদিকে ভালো। কাজই করা হয়েছে।
হেনরির সঙ্গে ওর যাওয়া বোধহয় ঠিক কাজই হবে।
স্যার হেনরি নিজে গাড়ি চালিয়ে জার্দাকে হার্লি স্ট্রিটে পৌঁছে দেবার জন্য অযথা জিদ ধরেন।
ক্যারামেল কার্ড খেতে খেতে তিনি বলে ওঠেন, তাকে অনুসন্ধানের জন্য এখানে একবার আসতেই হবে। সে তার সন্তান-সন্ততিদের কাছে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলতে চায়–কারণ কাগজ দেখামাত্র তারা ভেতর ভেতর অস্থির হয়ে পড়বে–তাদের সান্ত্বনা জানাবার মতো কেউ নেই। ফরাসি এক মহিলা এবং ঘরকন্নার পরিচারিকা ছাড়া। হেনরি ঠিকঠাকভাবেই ব্যবস্থা নেবে এবং আমার মনে হয় জার্দা তার মনের ব্যাধি কাটিয়ে সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে উঠবে। সে বোধহয় তার আত্মীয়দের–বোধহয় দিদিদের সংবাদ পাঠাবে। জাদার নিশ্চয়ই তিন-চার বোন থেকে থাকবে–খুব সম্ভব তারা টুমব্রিন ওয়েলস্-এ থাকে।
মিডগে–তুমি অত্যন্ত দরকারী কথাগুলো বলেছ, লুসি।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল-হা প্রিয় বোন, টর্কওয়েও হলে হতে পারেন, না টকওয়ে নয়।
টর্কওয়েতে উপস্থিত থাকলে তাদের বয়স অন্ততপক্ষে বছর পঁয়ষট্টি তো হবেই। ইস্টবোর্ন বা সেন্টলিওনার্ডসও হতে পারে। ডেভিড শুধু সুস্বাদু আহার খাবারেই বেশি ভক্ত, বিষণ্ণ মন নিয়ে সে তার খালি প্লেটের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল উঠে পড়েন। তিনি আবার বলতে শুরু করেন, আমার মনে হয় আজ সকাল সকাল শুতে যাওয়া উচিত।
অনেক কিছুই ঘটে গেছে, তাই না? কাগজ দেখে এই খবর চোখে পড়লে সত্যি বড় খারাপ লাগে-খবরের কাগজগুলো সত্যি বড় একঘেয়ে। আমার মন বলে কিছু না করে মাইল পনেরো হাঁটাও বোধহয় একপক্ষে ভালোতবে বসে থাকা মোটেই ভালো কথা নয়–অবশ্য এটাও বিরক্তিকর, কিন্তু খবরের কাগজ পড়া বা বইপড়া–অনেকের কাছেই সুখের নয়–এটা বড়ই নির্দয়। আমি যদিও মনে করি যে, অবজার্ভার-এর প্রবন্ধ ঠিকই, কিন্তু ‘নিউজ অব দি ওয়ার্লড’-এ ঠিক নয়। আমার সঙ্গে তোমার মনের মিল নাও হতে পারে, ডেভিড? আমার জানতে বড় ইচ্ছা হয় তরুণেরা এ সম্বন্ধে কীভাবে এর সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।
রুক্ষকণ্ঠে ডেভিড বলে ওঠে যে, ‘নিউজ অব দি ওয়ার্ড’ সে পড়ে না।
লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল বলে ওঠেন, আমি সর্বদাই তার করে যাই, ভান করে বলে থাকি, চাকরদের জন্যই ঐ কাগজ রাখা হয়। গাজন অবশ্য এটা বোঝে, চায়ের পর ছাড়া এটাতে হাত লাগায় না। এই কাগজটা মেয়েদের কাছে বড় মজার–তাদের কথাতেই ওটাতে থাকে গ্যাসচুল্লীতে যারা মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে–তাদের সংখ্যা অবিশ্বাস্য হলেও সংখ্যাও একটু বেশি।
