“আমি হলে তো খুবই বিরক্ত হতাম,” হিতোমি বললো। “একটা মাছিও মারতে পারেন না ঠিক মতন।”
মিকির এখন দু’টো কাজ করতে পারে। পুরোপুরি পিষে ফেলতে পারে মাছিটা অথবা এই অবস্থাতেই বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। জানালার দিকে এগোলো সে।
“জীবিত অবস্থাতেই তাহলে ওটাকে খেতে শুরু করবে পিঁপড়াগুলো,” হিতোমি বললো।
জানালাটা খুলেই জমে গেল মিকি।
সাবধানে মাথা বের করে বাইরে দেখলো একবার।
“কেউ এসেছে নাকি?”
স্টাডিরুমটা বাসার পেছন দিকে। সেদিক থেকেই একটা শব্দ কানে এসেছে মিকির। কিন্তু কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না। হয়তো ভুল শুনেছে।
“জানতাম, কেউ না কেউ আসবে আমাকে উদ্ধার করতে। তারা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছে আপনিই অপহরণকারী।”
হিতামিকে রেখে স্টাডি থেকে বেরিয়ে গেল মিকি।
“কোথায় যাচ্ছেন?” জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা। কিছুক্ষণ পর নিজের প্রশ্নের জবাব অবশ্য নিজেই দিল, “ওহ, বুড়োকে তো কবর দিতে হবে।”
কিছুক্ষণ আগেই তলকুঠুরিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে কানেদা।
হিতোমিকে বিছানায় নিয়ে যাচ্ছিল এসময় ইউকি বলে যে, “বুড়োর কিছু একটা হয়েছে।”
ততক্ষণে কানেদা মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
বেলচা হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো মিকি। ইটের দেয়ালটার পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ির পেছন দিকে চলে এলো।
আশেপাশে তাকালো আরেকবার। দোতলা থেকে যে শব্দটা শুনেছিল, সেটার উৎস হতে পারে এমন কিছু চোখে পড়লো না।
চারদিকে কেবল গাছ আর গাছ। নিচু ডালগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে বনের ভেতরে পা দিল মিকি। কিছুদূর হাঁটার পর কানেদাকে কবর দেয়ার মত একটা জায়গা খুঁজে পেল। বেলচা দিয়ে মাটিতে খোঁচা দিল আলতোভাবে। ঠান্ডায় একদম জমে গেছে। তবে একটু বাড়তি শক্তি প্রয়োগ করতেই সুন্দর মত উঠে আসতে শুরু করলো মাটি।
.
*
কানেদার সাথে মিকির প্রথম দেখা হয় নতুন বাড়িটায় আসার কয়েকদিন পরে। এর দুই সপ্তাহ আগে শিনিচি আর ইউকিকে তলকুঠুরিতে নিয়ে আসে সে।
সেসময় প্রতিবেশীদের সাথে খুব একটা যোগাযোগ হয় না মিকির। বাড়িটা পাহাড়ের ওপরে হওয়াতে কেউ কষ্ট করে দেখা করতে আসেনি তার সাথে। তারও কারো সাথে যোগাযোগ করার ইচ্ছে নেই। এমনভাবে থাকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে যে বাড়িটায় কেউ আছে।
তাই কানেদার বাড়ি যে পাশেই সেটা জানা হয়নি তার।
যেদিন প্রথম মিকির বাসায় আসে লোকটা, এমন ভঙ্গিতে তাকায় যেন অদ্ভুত কোন জানোয়ার দেখছে।
“এখানে কেউ থাকে সেটা জানতাম না তো,” বলে সে।
মিকি তাকে ভেতরে আসার আমন্ত্রণ জানায়। খানিকটা গাইগুই করে রাজি হয়ে যায় কানেদা।
“জুতো কি বাইরে রেখে আসবো? বাড়িটাকে দূর্গ মনে হচ্ছে।”
কানেদার শরীর বয়সের তুলনায় রোগাটে। জীর্ণ চেহারা, হাঁটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। মিকি বাড়িটায় একা একা কিভাবে থাকে আর তার আয়ের উৎস কি, সেটা জানার বেশ আগ্রহ কানেদার মধ্যে।
বাইরে হঠাৎই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বুড়ো লোকটাকে লিভিং রুমে বসিয়ে দ্রুত স্টাডিতে ছুটে গেল মিকি। খোলা জানালাটা বন্ধ করতে হবে।
এসময় নিচ থেকে একটা চিৎকার ভেসে এলো। মিকি দোতলায় আসার পর ফ্রিজে হাত দিয়েছিল কানেদা। সেখানে ডিম রাখার জায়গায় সাজানো সারি সারি কান আর আঙুল দেখে ভয় পেয়েছে সে। আগের বাড়িটা ছেড়ে আসার সময় এগুলো নিয়ে এসেছে মিকি।
*
কানেদা হাঁটুগেড়ে বসে আছে এমন অবস্থায় তার পেটে ছুরি বসিয়ে দিল মিকি। একটা পুরনো প্যাকিং টেপ দিয়ে বুড়োকে বেঁধে নিয়ে এলো বেইজমেন্টে।
পেট থেকে বেরিয়ে থাকা ছুরিটার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে কানেদা। “অদ্ভুত লাগছে,” বললো সে, চোখে আনন্দের ছটা। কাটা জায়গাটায় কোন ব্যথার অনুভূতি নেই কেন সেটা নিয়ে ভাবছে না।
বুড়োকে তলকুঠুরির একপাশের দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিল মিকি। এরপর জিজ্ঞেস করলো সে বেঁচে থাকতে চায় কিনা।
যদি বাঁচতে না চাইতো তাহলে তখনই তার মাথাটা ধড় থেকে আলাদা করে দিত মুক্তি। এর আগের এক্সপেরিমেন্টগুলো থেকে দেখেছে যে মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে মৃত্যু হয় তার শিকারদের। কিংবা বুড়োটা তার ক্ষত বুজে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করতে পারে। মিকির কারণে সৃষ্ট ক্ষত বুজে গেলে জীবনিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তখন ক্ষুধা অথবা বার্ধক্যের কারণে মৃত্যু হয় তাদের।
কানেদা বেঁচে থাকবে বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তার পেটটা ফেড়ে ফেলে মিকি। চামড়া আর মাংশপেশি কেটে সরিয়ে নেয়ার পর ভেতরের পাজর আর অন্যান্য অঙ্গগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এরপর থেকে আর একটা শব্দও করতে পারেনি বুড়ো লোকটা।
কানেদার পুরো শরীরের এই অবস্থা করে মিকি।
দেহের ভেতরের অংশ বাইরে এনে, বাইরের অংশটুকু ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। কানেদার হাত-পা এখন ভেতরের দিকে ঢোকানো, চামড়াসুদ্ধ। একটা একটা করে বুড়ো লোকটার হাড্ডিগুলো কেটে নিয়েছে মিকি, এরপর আগে যেরকম ছিল তার বিপরীতভাবে সাজিয়েছে। সেক্ষেত্রে ক্রু’র সাহায্য নিতে হয়েছে তাকে।
গোটা সময়টায় কানেদা একবারের জন্যেও জ্ঞান হারায়নি। রক্ত খুব কমই ঝরেছে। ইচ্ছেকৃতভাবেই শিরা বা ধমনীগুলো যাতে না কেটে যায়, সেদিকে খেয়াল রেখেছে মিকি। কানেদার ভেতরের অঙ্গগুলো বাইরে বের করে নেয়ার পরেও ঔজ্জ্বল্য হারায়নি সেগুলো। এমনকি শুকিয়েও যায়নি।
