স্বপ্ন দেখার তারিখ : মার্চ ১০
স্বপ্নে যাদের দেখা গেছে : সাওরি, ক্যাফের মালিক।
যেটা দেখে স্বপ্নের শুরু: নিজের ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। পত্রিকার একটা বিজ্ঞাপনের সাদা ফুলগুলো ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।
স্বপ্নের বিষয়বস্তু : সাওরি কথা বলছিল ক্যাফের মালিকের সাথে। কাজ করতে করতে তার হাতে পুঁতে লেগে একটা ফুলদানি উলটে যায়। ফুলগুলো মাটিতে পড়ে যায়, কাউন্টারে ছড়িয়ে পড়ে পানি। আমার কফির কাপের নিচেও পানি এসে জমা হয়।
*
স্বপ্নতে যে ক্যাফেটা দেখেছি সেটার নাম মেলানকলি গ্রোভ। কাগজটা আমার বাইন্ডারে ঢুকিয়ে রাখলাম। এই জার্নালটায় নিয়মিত লিখছি দুই সপ্তাহ হতে চললো। এই চৌদ্দ দিনে চক্রবৃদ্ধি হারে মোটা হয়েছে জার্নালটা।
সাওরি হচ্ছে কাজুয়ার বড় বোন। ক্যাফেতে খণ্ডকালীন চাকরি করে সে।
বেশ কয়েকটা স্বপ্নে ঘুরেফিরে একই মানুষদের দেখি। কিন্তু কোন শব্দ শুনতে পারি না বলে তাদের নাম জানার কোন উপায় নেই। সাওরির নাম জেনেছি তার ঘরের বাইরের নামফলক দেখে।
সাওরিকে প্রায়ই দেখি আমি। সে আর কাজুয়া যে ভাইবোন, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
কোন কোন স্বপ্নে তার বয়স একদম কম আবার কোনটায় রীতিমত পূর্ণবয়স্ক নারী। আমার দৃষ্টিকোণ ওপর নিচ হতে থাকে স্বপ্নের সাথে সাথে। কিন্তু আমাদের বয়স যা-ই হোক না কেন, প্রতিবার একই রকম আন্তরিক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায় সে। প্রথম স্বপ্নে দোলনায় যে মেয়েটাকে দেখেছিলাম, সে-ই সাওরি।
বয়সের সাথে তার চুলের দৈর্ঘ্য আর স্টাইলও পরিবর্তিত হয়। কখনো লম্বা, বেনি করা তো কখনো বব কাট। কিন্তু তার চেহারার একটা বৈশিষ্ট্য বলতে গেলে কখনোই বদলায় না। আজ অবধি যতবার তাকে দেখেছি প্রতিবারই বেচারার নাক একদম টকটকে লাল। সবসময় পানি ঝরে।
বাম চোখে প্রায় সময়েই নাক ঝরতে দেখি তাকে। পাশে টিস্যুর পাহাড় জমে যায় মাঝে মাঝে। শপিংয়ে যায় এক বাক্স টিস্যু নিয়ে। ক্যাফেতে খদ্দেরদের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে নাক ঝারে।
এই ব্যাপারটা বাদ দিলে তার চেহারা খুবই সুন্দর। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় নাক ঝরতে ঝারতে চলে যায় তার। অন্যরা তার দিকে তাকিয়ে কি ভাবছে এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায়?
স্বপ্নে প্রায়ই একসাথে হাঁটতে বের হই আমরা। একসাথে কার্ড খেলি। একবার স্বপ্নে দুই ভাইবোনকে ঝগড়া করতে দেখি। দু’জনের চোখ দিয়েই পানি ঝরছে। নাকের পানি চোখের পানি মিশে একাকার অবস্থা সাওরির।
বেশিরভাগ স্বপ্নেই সাওরি আমার চেয়ে লম্বা, কিন্তু একবার একটা স্বপ্নে কাজুয়াকে লম্বা মনে হয়। অর্থাৎ বড় হয়ে গেছে সে, বোনকে ছাড়িয়ে গেছে। আমার নিজের চেয়েও লম্বা কাজুয়া। এমন একটা উচ্চতা থেকে পৃথিবীটাকে দেখি সেটা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।
স্বপ্নের ঘটনাগুলো ঘুরেফিরে একই এলাকায় সংঘটিত হয়। আশপাশ দেখলেই বোঝা যায় সেটা। মনে হয় যেন কারো দৈনন্দিন জীবনের ভিডিও করে রাখা কিছু অংশ দেখছি। স্বপ্নগুলোকে আপন করে নেই আমি। এগুলো হচ্ছে স্মৃতি-অতীতের টুকরো অংশ। আমার নিজের যেহেতু কোন স্মৃতি নেই, এগুলোই সই।
*
স্বপ্ন দেখার তারিখ : মার্চ ১৩
স্বপ্নে যাদের দেখা গেছে : সাওরি, আমাদের বাবা-মা।
যেটা দেখে স্বপ্নের শুরু : বইয়ের শেলফের রাখা একটা কটন বাড।
স্বপ্নের বিষয়বস্তু : সাওরি আর আমি একে একে মার কোলে মাথা রাখছি (খুব সম্ভবত মিডল স্কুলে পড়ি দু’জনেই)। কটন বাড দিয়ে আমাদের কান পরিষ্কার করে দিচ্ছেন তিনি। সাওরির পালা আসলে একটু দূরে গিয়ে একটা ট্রাক দিয়ে খেলতে শুরু করি। সাওরি মাথা স্থির রাখতে পারছিল না কিছুতেই, বার বার হেসে মাথা সরিয়ে নিচ্ছিল। ওর সর্দিতে মা’র কোল ভিজে গেছে।
স্বপ্ন দেখার তারিখ : মার্চ ১৪
স্বপ্নে যাদের দেখা গেছে : আমার (কাজুয়া’র) বাবা, তার সহকর্মী।
যেটা দেখে স্বপ্নের শুরু : সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ট্রাক। স্বপ্নটা দেখতে শুরু করার কারণে রাস্তা পার হতে পারিনি আমি।
স্বপ্নের বিষয়বস্তু : হাতে মোটা গ্লোভস পড়ে একটা কাঠের মিলে কাজ করছিল বাবা। আমার দৃষ্টিকোণ বিবেচনায়, কাজুয়া তখন বেশ ছোট। বাবার পরনের কাপড়ে ছোপ ছোপ তেলের দাগ। ট্রাক ভর্তি মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি। পাশে তার যে তরুণ সহকর্মী দাঁড়িয়ে আছে, তার পরনেও একই পোশাক। বাবার উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলাম আমি, কিন্তু হাত উঠিয়ে আমাকে থামিয়ে দিল সে। মুখ নড়ে উঠলো একবার। যেন বলছে ‘এখানে এসো না। খুব বেশি বিপজ্জনক।’
স্বপ্ন দেখার তারিখ : মার্চ ১৫
স্বপ্নে যাদের দেখা গেছে : সাওরি, এক মাঝবয়সী দম্পতি।
যেটা দেখে স্বপ্নের শুরু বাবার ফেলে দেয়া একটা সিগারেটের মাথা।
স্বপ্নের বিষয়বস্তু : স্বপ্নে অচেনা একটা লোকের বাসায় এসেছি আমি আর সাওরি। লোকটা মাতাল। মহিলার হাত থেকে ট্রেটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল সে। বাটি আর গ্লাস উল্টে পড়লো মেঝেতে। সাওরি জড়সড় হয়ে বসে আছে।
*
সাওরি আর কাজুয়া ফুইয়ুতসুকির বসবাস এক পাহাড়ি এলাকায়। অনেকগুলো স্বপ্নেই পাহাড়ি রাস্তায় আবিষ্কার করি নিজেকে। পাশ দিয়ে নেমে গেছে গভীর খাদ।
বাবা-মা’কে নিয়ে চারজনের পরিবার সাওরির। একটা স্বপ্নেও তাদের দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে দেখিনি। একটা নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণে পৌঁছুনোর পর স্বপ্নে কাজুয়ার বাবা-মাকেও আর দেখা যায় না। হয়তো অন্য কোথাও চলে যায় তারা।
