কলাই করা ঘন্টির কাছে পৌঁছলেন শাহজাহান, যেন ডেকে পাঠাতে পারেন কোন পরিচারককে। তারপরই থেমে গেলেন। হৃদয়ে মমতাজের জায়গা কেউ কখনো নিতে পারবে না…যতবারই তিনি কোন নারীকে বিছানায় নিয়ে যান, ততবারই নিজেকে আরো বেশি করে বঞ্চিত মনে হয়। তারপরও নারী দেহের সান্নিধ্যে খুঁজে পান ক্ষণস্থায়ী আরাম। এছাড়াও অন্য নারীদের সাথে ভালোবাসাবাসির সময় স্পষ্টতই বুঝতে পারেন যে এরা মমতাজের তুলনায় কতটা নিকৃষ্ট মন আর শরীরের দিক দিয়ে। আবারো প্রমাণিত হয় অকৃত্রিম আর একনিষ্ঠ ভালোবাসা রয়ে গেছে তাদের মাঝে।
শাহজাহান বিস্ময় নিয়ে ভাবতে লাগলেন যে খাজাসারা যখন তাকে সম্রাটের বিছানায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন কী চলছে কলিমার মনে। এটা তো নিশ্চিতভাবেই বোঝা গেছে যে সে-ও আগ্রহী। কলিমার চোখের দৃষ্টি স্মরণ করে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহই রইল না তাঁর। কলিমা কি নার্ভাস বোধ করছে? অথবা সম্ভবত ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা শুরু করে দিয়েছে যে কীভাবে এই অবস্থার ফায়দা নেয়া যায়? আর তিনি নিজে? নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য পুরুষের স্ত্রীকে হস্তগত করছেন ঠিক যেভাবে ডেভিড বাথশেরাকে চুরি করেছিল। এটা কি একজন সম্মানীয় লোকের মত কাজ? হয়তো বা। যদি কলিমা রাজি হয় তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে যে স্বামীর ভালোবাসা পাবার যোগ্য নয় সে। তার মানে তিনি স্বামী বা স্ত্রী কারো ভালোবাসাতেই অনধিকার প্রবেশ করছেন না, যেমনটা তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। মমতাজের মৃত্যু।
মধ্যরাতের খানিক আগে দরজায় শোনা গেল মৃদু করাঘাতের শব্দ। প্রবেশ করল খাজাসারা। একেবারে পিছনেই কলিমার লম্বা দেহ ঢেকে আগে ক্রিম রঙা আলখাল্লায়, লম্বা করে টানা ঘোমটায় ঢেকে আছে মুখ। আমি কলিমা বেগমকে নিয়ে এসেছি জাহাপনা। জানালো খাজাসারা। আপনি আবার ডেকে না পাঠানো পর্যন্ত কি হারেমে ফিরে যাবো?
না, বাইরে অপেক্ষা করো।
তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীকে দেখে আবারো ফিরে এলো শাহজাহানের বিস্মিত ভাব। দ্বিধায় পড়ে ভাবতে লাগলেন তিনি কেন করছেন এমনটা? দুজনে একাকী হতেই এগিয়ে গেলেন কলিমার দিকে। আস্তে করে ফেলে দিলেন ঘোমটা। এইবার বেণী না করা থাকাতে দুই কাঁধের উপর আলতো করে ছড়িয়ে আছে উজ্জ্বল কেশরাজি। যেরকম আত্মবিশ্বাসী ছিল মীনা বাজারে ঠিক সেভাবেই ম্রাটের দিকে তাকিয়ে হাসলো কলিমা। ডান হাতে গলার কাছ থেকে নিজের পোশাকের রুপালি সুতা খুলতে শুরু করে দিল।
না, এখনি না।
জাহাপনা? হাত ছেড়ে দিল কলিমা।
আজ রাতে তোমাকে কেন ডেকে পাঠিয়েছি, কী মনে হয় তোমার?
কারণ আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করেছি। দেখেছিলাম যে বাজারে তাকিয়ে ছিলেন আমার দিকে।
তোমার নিজের কী অনুভূতি? স্বেচ্ছায় নিজেকে তুলে দিচ্ছ আমার হাতে?
অবশ্যই জাহাপনা।
কিন্তু, তুমি তো বিবাহিত। তোমার স্বামী?
অনেক মাস যাবত তাকে দেখি না আমি। তার কাছে আমি যেমন কিছু না, তেমনি আমার কাছে সেও। আমাকে বিয়ে করেছিল যৌতুকের কারণে। পাঞ্জাবে তার জমির পাশেই আমার পিতার জমি–এছাড়াও তার অন্য স্ত্রী আছে যাকে আমার চেয়েও বেশি পছন্দ করে।
কিন্তু তার প্রতিই বিশ্বস্ত থাকা কি তোমার দায়িত্ব নয়?
আমার সম্রাট যখন আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন সে ডাকে সাড়া দেয়াও কি আমার দায়িত্ব নয়?
একের পর এক কথা সাজাতে পটু এই নারী, ভাবলেন শাহজাহান। তাকে প্রেমকলা শিখিয়েছে যারা সেসব রাজকীয় হারেমের বেশ্যাদের চেয়ে কোন অংশে উন্নত নয় এ নারী, সে সময় তিনি ছিলেন নারী সম্পর্কে অজ্ঞ, শিখতে আগ্রহী তরুণ শাহজাদা।
তোমার পোশাক খুলে ফেল। হুক খুলে ক্রিমরঙা পোশাক মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল দেখতে পেলেন শাহজাহান। পুরোপুরি নিরাভরণ দেহে সুগন্ধি তেল মাখানো উজ্জ্বল ত্বক, কোমরে ঝুলছে ছোট ছোট সোনালি পাতাওয়ালা স্বর্ণের চেন।
ঘুরে দাঁড়াও। আস্তে করে নড়ে উঠতেই কেঁপে উঠল সোনালি পাতার দল। চৌকোণা কাঁধ জোড়া মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের সাথেই মিল বেশি। তেমনি পেছন দিক, গোলাকার পৃষ্ঠদেশ আর লম্বা পেশীবহুল পা দেখতে কামোদ্দীপক কিন্তু সুন্দরী নয়–অন্তত তার কাছে তো নয়ই।
আবারো তার দিকে ঘুরে দাঁড়াল কলিমা, আরেকটু হলেই শাহজাহান তাকে আদেশ দিতে যাচ্ছিলেন যেন পোশাক পরে নিজেকে ঢেকে নেয়। কিন্তু তার আগেই হাত দুটো তুলে মাথার পেছনে চুল হাত বুলাতে লাগল কলিমা। অসম্ভব পরিচিত এই ভঙ্গি কতবার একই ভঙ্গিমাতে তিনি দেখেছেন মমতাজকে! হঠাৎ করেই তীব্র বাসনায় হেঁয়ে গেল মন।
ওখানে শুয়ে পড়। নিচু ব্রোকেডের চাদরে ঢাকা ডিভানের দিকে হেঁটে গেল কলিমা। নিজের পোশাকের পাথরের বোতাম খুলে ফেললেন শাহজাহান। নারী দেহের উত্তাপ পেলেন শাহজাহান নিজের নিচে। মুহূর্তখানেক পরে ডান হাতে প্রস্তুত করে নিলেন ক্ষেত্র–কিন্তু কলিমার উরু জোড়া একেবারে ভিন্ন মমতাজের নরম মাংসল দেহ থেকে আনন্দে মৃদু ডাক ছাড়তে লাগল কলিমা–ভান না সত্যি বলতে পারবেন না সম্রাট–এরপর চিৎকার করতে করতে শাহজাহানের কাঁধ ঘামচে ধরল কলিমার হাতের নখ। এবারেও তার স্বর শুনতে পেলেন না তিনি, কানে বাজতে লাগল মমতাজের মোলায়েম কণ্ঠ, শাহজাহানকে ফিসফিস করে তাড়া দিচ্ছি তাকে আরো বেশি করে ভালোবাসতে।
