কৌতূহলী হয়ে জয়নাবকে ছেড়ে দিয়ে মাথা নাড়ল মুরাদ। ভালো। দুঃখ পাবেন না আপনি। প্রথমে, আপনার পোশাক খুলতে দিন। দ্রুত হাতে মুরাদের পোশাক খুলে নিয়ে সপ্রশংস দৃষ্টিতে খানিক তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলল জয়নাব। আপনার সাথে রাত কাটাতে পেরে ধন্য হবে যে কোন নারী… আসুন, কুশনের মাঝে মুখ ডুবিয়ে শুয়ে পড়ুন।
মুরাদ কথামত কাজ করতেই অনুভব করল তার দুই পা ফাঁক করে দিল জয়নাব। এরপর নিজের বুক দিয়ে মসৃণভাবে চাপ দিতে লাগল মুরাদের কাঁধে, দেহত্বকে ঘসতে লাগল স্তনবৃন্ত। একই সাথে নিজের কোমর আর শরীরের সবচেয়ে নাজুক অংশ দিয়ে ঘষতে লাগল মুরাদের নিতম্ব। উচ্চ স্বরে চিৎকার করে উঠল মুরাদ। দেখেছেন, আমি বলেছি না এটা কত ভালো হবে? একটু পরে আপনার পালা আসবে আমাকে তৃপ্ত করা, শাহজাদা, তবে এত শীঘ্রি না… সামনের দিকে ঝুঁকে পড়তেই জয়নাবের চুল মুরাদের উপর ছড়িয়ে পড়ল সুগন্ধি কার্পেটের মত। তাঁবুর বাইরে কোথাও থেকে ভেসে এলো হাতির ঢাকের বাজনা; কিন্তু কোন দিকে হুঁশ নেই মুরাদের। শুধু অনুভব করছে জয়নাবের মাংসল দেহ, নিজেকে তার হাতে সঁপে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল মুরাদ।
মদ আর লীলাখেলায় মত্ত সুখে খানিক সময় লাগল বুঝতে যে জয়নাব উঠে গেছে তার উপর থেকে, হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে সে। এখন কী? এখন কি আনন্দ বাড়িয়ে দেবার জন্য অন্য কোন খেলা খেলবে জয়নাব নাকি চূড়ান্ত মুহূর্ত এসে গেছে? ঘুরে গিয়ে তাকাতেই দেখতে পেল কোন বড় বড় নারী চক্ষু নয়, সরু, কালো আর পুরুষালী এক জোড়া চোখ। কী…?
আর কিছু বলার আগেই, তাঁবুর প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে কোন একটা কণ্ঠ বলে উঠল, বেঁধে ফেল! বিপদের গন্ধ বহু দেরিতে পাওয়ায় উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করতেই কালো চোখের সৈন্যটা নিজের ছুরির ফলা ধরল মুরাদের গলায় আর ছায়া থেকে বের হয়ে এসে অন্য দুজন বেঁধে ফেলল তার হাত। দেহরক্ষীদের ডাকার জন্য মুখ খুলল, আশা করল হয়ত কেউ থাকবে কাছাকাছি; কিন্তু ছুরি দিয়ে চামড়ায় খোঁচা দিল লোকটা, রক্ত বের হয়ে আসল, তার উপর নিচু হয়ে চিৎকার করে উঠল।
একটুও নড়বে না!
কত বড় সাহস! এখানে কীভাবে ঢুকলে তুমি? আমার ভাই কোথায়?
তিনি তোমার মুখ দেখতে চান না। আমরা তাঁরই লোক। তিনি চলে গেছেন তোমার শিবিরের দায়িত্ব নিতে। আর তুমিও ভ্রমণে বের হবে– দীর্ঘ ভ্রমণ। এরপর তাড়াতাড়ি নিজের লোকদের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল মুরাদকে নিচে চেপে ধরে আছে, বলে উঠল, তাড়াতাড়ি দাঁড় করাও।
মানুষ দুটো অবষন্ন আর প্রতিরোধবিহীন মুরাদকে তুলে ধরতেই কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেয়া হল। আধো চেতনে মুরাদ বুঝতে পারল এগুলো তার কাপড় নয়, কোন প্রহরীর পোশাক। ছুরি দিয়ে তাঁবুর পর্দা একটু উঁচিয়ে ধরে কালো তে-কোনা রাতের আকাশের দিকে তাকাল লোকটা। আস্তে করে উঁকি দিয়ে চারপাশ দেখে নিল দ্রুত।
ভালো। মাথা নেড়ে দুই প্রহরীকে জানালো, বাইরে নিয়ে এসো। হাতিরা অপেক্ষা করছে। তোমরা জানো কী করতে হবে।
*
আমার তলোয়ার নিয়ে এসো, আলমগীর! বিস্মিত কর্চিকে আদেশ দিতেই এস্তভাবে ব্যক্তিগত কামরা ছেড়ে চলে গেল পরিচারক। যদি এর আগে শাহজাহান ভেবেছিলেন মোগলদের পারিবারিক, প্রাচীন তলোয়ার–হিন্দুস্তানে এই অস্ত্র প্রথম নিয়ে এসেছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ বাবর–দারাকে দেবেন; কিন্তু তিনি এখনো ময়ূর সিংহাসনে আসীন, এই অবস্থায় এটিকে কাছছাড়া করাটা অমঙ্গল হতে পারে ভেবে, থেমে যান আবার।
কয়েক মিনিট পরে নিজের হাতে আবারো তলোয়ার নিয়ে অনুভব করলেন এটির সুদৃশ্য ঈগলের হাতল–যতটা শক্ত, ততটাই সুন্দর, পাখিটার লাল রুবির চোখ দেখেই সপ্রশংস দৃষ্টিতে খুশি হয়ে উঠলেন। আগামীকাল আলমগীরের সাথে, কোমরে তলোয়ারের রত্নখচিত খাপ আর আঙ্গুলে তৈমুরের ভারী সোনার আংটি পরে যুদ্ধে যাবেন তিনি হয়ত শেষ বারের মত। যাই ঘটুক না কেন তাঁর–এমনকি মৃত্যু হলেও–আরো একবার একজন পুরুষ আর যোদ্ধা হতে পেরে, এই সুনিপুণ অস্ত্র নিয়ে খেলতে পারার অনুভূতি মন্দ হবে না। আগেও বহুবার কোন এক সংঘর্ষের শুরুতে যেমন করতেন ঠিক সেভাবে ইস্পাতের ফলার একপাশে আঙুল বুলাতে লাগলেন। যদি চামড়া কেটে যায় বুঝতে পারবেন এখনো ধার আছে। ডান তর্জনী দিয়ে চাপ দিলেন কিন্তু কোন রক্তের কুড়ি দেখা গেল না। আমার অস্ত্র নির্মাতার কাছে পাঠিয়ে দাও তীক্ষ্ণ করে তোলার জন্য। কর্চিকে আদেশ দিলেন শাহজাহান।
তরুণটা গেছে বেশিক্ষণ হয়নি, আবারো দরজা খুলে গেল জাহানারার জন্য। মেয়েটার কী প্রতিক্রিয়া হবে তার পরিকল্পনা শোনার পর বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন শাহজাহান; কিন্তু কিছুতেই দমে যাবেন তিনি। হতে পারে তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন কিন্তু এখনো একজন সম্রাট আর যোদ্ধা হিসেবে নিজের বিদ্রোহী সন্তানদের দেখিয়ে দিতে পারেন–পুত্র আর কন্যা উভয়কেই সত্যিকারে এর অর্থ কী।
এটা কি সত্যি যে আওরঙ্গজেব অবশেষে চিঠি লিখেছে? শোনার সাথে সাথে হারেম থেকে এখানে এসেছি আমি।
মাথা নাড়লেন শাহাজাহান। এক সপ্তাহ আগে আগ্রাতে ফিরে এসেছে আওরঙ্গজেব-পুত্রের গর্বিত আগমন, উড়ন্ত ব্যানার, ঢাকের বাজনা সবই নিজের চোখে দেখেছেন তিনি গুলি করার জন্য প্রাচীরের ফোকার দিয়ে কিন্তু এতদিন লেগে গেল যোগাযোগের ক্ষেত্র স্থাপনে।
