গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দারার কথা অনেক ভেবেছি আমি… তার মৃত্যু সত্যিই কী প্রয়োজনীয় ছিল কিনা। আমাদের ভাই ছিল সে। অন্য কোন পথ নিশ্চয়ই ছিল… দেশান্তরী বা মক্কায় তীর্থযাত্রী হিসেবে পাঠিয়ে দেয়া?
সবসময় একটা শিশুর মত ভাবো তুমি। ব্যাপারটা ছিল সে অথবা আমরা। যদি তাকে বেচে থাকার সুযোগ দিতাম, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত সে। পুরো সংঘর্ষ আবারো দানা বেঁধে উঠে, আরো কতকগুলো জীবন ধ্বংস হত।
মনে হয় তুমি ঠিকই বলছ।
আমি জানি আমি তাই। যাই হোক, হয়ে গেছে সবকিছু। এখন তোমার মাথা থেকে তাড়িয়ে দাও এসব। সিদ্ধান্ত আমি একাই নিয়েছি, জবাবও আমিই দেব।
ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত, তাই না? পিতা আমাদের দুজনকেই ভর্ৎসনা করেছিলেন উত্তরের অভিযানে ব্যর্থতা নিয়ে অথচ শেষতক আমরাই বিজয়ী হলাম। হতে পারে এখন পিতা পস্তাবেন এতটা রূঢ় হবার জন্য। আরো একবার চুমুক দিয়ে বলে চলল মুরাদ, পরিতাপের বিষয় যে শাহ সুজা আমাদের সাথে নেই। এটা তো তারও বিজয় আর আমাদের সাথে উদযাপনও করতে পারত। হতে পারে এর ফলে মেরুদণ্ডে বল ফিরে পাবে সুলাইমানের সাথে যুদ্ধ করার জন্য।
মেরুদণ্ডে বল?
হ্যাঁ। সুলাইমানকে তাকে পরাজিত করার সুযোগ দিয়ে আর পালিয়ে গিয়ে আমাদের কাছে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে সে।
কিন্তু এক অর্থে এতে আমাদের সুবিধা হয়েছে। শাহ সুজা আগ্রায় আসার পরিবর্তে পূর্বদিকেই আটকে রেখেছে সুলাইমানকে। যদি সুলাইমান তার পিতার সাথে সামুগড়ে যোগ দিত, ফলাফলও ভিন্ন হত হয়ত।
হতে পারে… যদিও চূড়ান্ত রূপ পেত না। সুলাইমানের নিজের কিছু ভুল ছিল যেমনটা ছিল তার পিতার… অসহিষ্ণু, অতি আত্মবিশ্বাসী আর চিন্তার কোন ধার ধারত না।
তো সে কোন হুমকি নয়?
বেশি গুরুত্ব দেবার মত নয়। একবার দারার মৃত্যুসংবাদ সুলাইমানের শিবিরে পৌঁছালেই, আমার ধারণা তার কিছু সৈন্য চলে যাবে আর বাকিরা মনোবল হারিয়ে ফেলবে। ভালো হয় যদি এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে শাহ সুজা তাকে পরাজিত করে। কিন্তু যদি শাহ সুজার মনে হয় যে তার জনবল কমে গেছে তাহলে আমি বলব যেন নিজের সৈন্য নিয়ে সোজা আগ্রাতে চলে আসে। এখন সময় হয়েছে আমাদের তিনজনের একত্রিত হবার। যেন একসাথে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে সাম্রাজ্যের প্রদেশগুলো কীভাবে নিজেদের মাঝে ভাগ করে নেব। কিন্তু অনেক গুরুগম্ভীর কথা হয়েছে… চলো, খাবার গ্রহণ করা যাক।
মুরাদ পরিচারকের কাছে পেয়ালা বাড়িয়ে দিল পূর্ণ করে দেয়ার জন্য। অন্য পরিচারকেরা একে একে ভেড়ার রোস্ট, কিসমিস দেয়া কোয়েল, কেশরের সুগন্ধিলা পাখির মাংস আর শুকনো চেরি ও অ্যাপ্রিকট ছড়িয়ে দেয়া পোলাওয়ের ডিশগুলো নিয়ে আসতে লাগল। খানিকক্ষণের জন্য চুপচাপ খেয়ে চলল দুই ভাই। মুরাদ খেল ক্ষুধার্তের মত, পরিমাণেও বেশি। অন্যদিকে আওরঙ্গজেব খেল অল্প একটু। তাঁবুর আধ খোলা ফটক দিয়ে দেখা গেল তারা ভরা আকাশ, অর্ধচন্দ্রাকৃতি চাঁদও উঠে গেছে, তৃপ্তির ঢেকুর তুলে পিছনে হেলান দিল মুরাদ, মদের পেয়ালা থেকে আরেক চুমুক মুখে দিয়ে বলে উঠল, তোমার মনে আছে আমার পছন্দের খাবারগুলো কী। আমি খুব খুশি হয়েছি…
অবশ্যই, আনন্দ পিয়াসী ভাই আমার। আর তুমি পছন্দ কর এরকম আরেকটা জিনিসেরও ব্যবস্থা করেছি আমি। আওরঙ্গজেব হাততালি দিয়ে উঠতেই তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করল মুখমণ্ডল সহ সারা শরীর ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখা, বুকের উপর হাত জড়ো করা এক নারী। তোমাকে একা রেখে যাচ্ছি আমার উপহার উপভোগ করার জন্য। আমি জানি তার এমন সব দক্ষতা আছে যে খুশি হবে তুমি। যদি চাও তোমার সেবা করতে নিয়ে যেতে পারো তাকে। অনেক রাত হয়ে গেছে। এখানেই রাত কাটাও না কেন যেন সকালবেলা আবার কথা বলতে পারি?
আওরঙ্গজেব চলে যেতেই, তাঁবুর পর্দা নেমে প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেল। ইশারা করে আগন্তুক নারীকে কাছে ডাকল মুরাদ, তোমার চেহারা দেখাও আমাকে। ওড়না সরিয়ে নিতেই বাদামি চোখ জোড়া তার দিকে চেয়ে আছে দেখতে পেল মুরাদ। আর কোন আদেশের অপেক্ষা না করেই মাথার কাপড় ফেলে দিতেই ঘন এলো চুল বেরিয়ে পড়ল।
চওড়া হল মুরাদের হাসি। সুন্দরী নারী ভালোবাসে সে, ভালোভাবেই জানে তার ভাই… আওরঙ্গজেব সত্যিই তার কৃপাদৃষ্টি বর্ষণ করেছে মুরাদের উপর।
নাম কী তোমার?
জয়নাব।
তো জয়নাব, দেখা যাক আমার ভাইয়ের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করতে পারো কিনা তুমি…
মদের প্রভাবে খানিক টলতে টলতে উঠে দাঁড়াল মুরাদ, খুলে দিল জয়নাবের কাপড়ের একটামাত্র হুক। মেঝেতে পোশাক লুটিয়ে পড়তেই বেরিয়ে পড়ল নগ্ন শরীর, মার্বেলের মত উজ্জ্বল দেহত্বক আর সোনালি উন্নত বক্ষ। কাছে এগিয়ে কৃশকায় কোমর, নরম নিতম্ব সহ শরীরের প্রতিটি বাঁকে ঘুরে বেড়াতে লাগল মুরাদের হাত, কেশগুচ্ছে মুখ ডুবিয়ে দিতেই নাকে লাগল জেসমিনের সুগন্ধ। একেবারে পরিপূর্ণ এই নারী… ডান নিতম্বে এক হাত রেখে, অন্য হাত পৌঁছে গেল দুপায়ের ফাঁকে।
অপেক্ষা করুন, শাহজাদা আগে আপনাকে মালিশ করতে দিন। এতে আনন্দ বেড়ে যাবে বহুগুণ, কথা দিচ্ছি। আপনার ভাই তো জানিয়েছেন যে আমার বিশেষ দক্ষতা আছে… তিনি চান যেন সেসব প্রয়োগ করে আপনাকে সন্তুষ্ট করি আমি… তাকে মনোকষ্ট পেতে দেবেন না।
