.
দ্য টাইমস, মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর ২০০১
ঘাতক চালক মুক্ত, দুর্ঘটনার শিকার পরিবার দাবি জানাল আইন পরিবর্তনের সড়ক-দুর্ঘটনায় নিহত আট বছর বয়সী এক ছেলের মা আজ মুখ খুলেছেন সাংবাদিকদের কাছে। অথচ ওই দুর্ঘটনা যার কারণে ঘটেছিল, ঘাতক সেই চালককে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। কেন্টের সমুদ্র-তীরবর্তী শহর ডিলে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপা পড়ে মারা যায় দুর্ভাগা ছেলেটা।
ওই ছেলের নাম টিমোথি গডউইন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। একই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয় তার যমজ ভাই জেরেমি। গাড়িচালক ৫২ বছর বয়সী ডায়ানা ক্যুপার নাকি দেখতেই পাননি ছেলে দুটোকে। জানা গেছে, মিসেস ক্যুপার সেদিন গল্ফ খেলতে গিয়েছিলেন নিকটস্থ এক ক্লাবে, আর সেখানেই নিজের চশমা ফেলে এসেছিলেন ভুলক্রমে। চশমা ছাড়া বিশ ফুট দূরের জিনিসও ঠিকমতো দেখতে পান না তিনি।
কেন্টারবারি ক্রাউন কোর্ট রায় দিয়েছে, চশমা না-পরে আইনবিরোধী কোনো কাজ করেননি মিসেস ক্যুপার। জাজ নাইজেল ওয়েস্টন বলেছেন, ‘চশমা ছাড়া গাড়ি চালানো বুদ্ধিমানের কাজ না, কিন্তু প্রচলিত আইনের কোথাও বলা হয়নি, ক্ষীণ দৃষ্টির অধিকারী কাউকে অবশ্যই চশমা পরে গাড়ি চালাতে হবে। আর সে-কারণেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অভিযুক্ত মানুষটার বিরুদ্ধে যদি কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তা হলে সেটা যথোপযুক্ত হবে না।’
তবে মিসেস ক্যুপারকে আগামী এক বছরের জন্য সব ধরনের মোটরযান চালানোর ব্যাপারে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। নয়টি পেনাল্টি পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্সের সঙ্গে। এবং তাঁর জন্য জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ৯০০ পাউন্ড।
আদালতকক্ষের বাইরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় দুর্ঘটনার শিকার-হওয়া ছেলেটির মা জুডিথ গডউইনের। তিনি বলেছেন, ‘চোখে দেখে না এমন কারও বসা উচিত না গাড়ির ড্রাইভিং সিটে। ব্যাপারটা যদি আইনবিরোধী কিছু না-হয়ে থাকে, তা হলে অবশ্যই আইন পরিবর্তন করা উচিত। আমার ছেলে মারা গেছে। আরেক ছেলে বলতে-গেলে পঙ্গু হয়ে গেছে। ওদিকে নামকাওয়াস্তে কিছু জরিমানা ধার্য করে বেকসুর খালাস দিয়ে দেয়া হয়েছে ঘাতক ওই মহিলাকে। এটা মোটেও ঠিক না।
এদিকে রোড সেফটি চ্যারিটি ‘ব্রেক’-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘গাড়ি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এমন কারও গাড়ি চালানো উচিত না।
.
আর্টিকেল তিনটার তারিখগুলোর উপর আরও একবার নজর বুলালাম আমি, ওগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে বেশি সময় লাগল না আমার। বললাম, ‘ঠিক দশ বছর আগের ঘটনা এসব।’
‘ন’বছর এগারো মাস,’ আমার ভুল শুধরে দিল হোথর্ন। ‘জুনের শুরুর দিকে ঘটেছিল ওই দুর্ঘটনা।
‘দশ বছর পূর্তি হিসেবেই ধরে নেয়া যায় ঘটনাটাকে। …বেঁচে যাওয়া ছেলেটা… জেরেমি গডউইন… আর্টিকেল পড়ে বোঝা গেল মস্তিষ্কে বড় রকমের কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে বেচারার।’ ডায়ানা ক্যুপারের টেক্সট মেসেজের কপিটা তুলে নিলাম হাতে। ‘যে-ছেলেটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল…’
‘কী মনে হচ্ছে আপনার? ওই দুর্ঘটনা আর মিসেস ক্যুপারের হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে?’
‘জুডিথ গডউইন কোথায় থাকেন, জানা আছে আপনার?’ জবাব না-দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।
ফাইলের কাগজপত্র কিছুক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি করে হোথর্ন বলল, ‘হ্যারো-অন-দ্য- হিলের একটা ঠিকানা পাওয়া গেছে।’
‘তার মানে কেন্টে না?’
‘গডউইন পরিবার হয়তো ছুটিতে ছিল। জুনের প্রথম সপ্তাহ… তার মানে তখন গ্রীষ্মকাল চলছিল।
‘ওই মহিলার সঙ্গে কি দেখা করতে যাবো আমরা?’
‘তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তা ছাড়া মিস্টার কর্নওয়ালিসের সঙ্গে মিটিং করার কথা আছে আমাদের।’
সহসা মনে করতে পারলাম না নামটা। কথাটা বললাম হোথৰ্নকে।
‘আন্ডারটেকার,’ মনে করিয়ে দিল সে। কাগজপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে, সব ঢোকাচ্ছে ফাইলের ভিতরে।
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি ওর কাজ। ভাবছি, ওকে যতটা অপছন্দ করে ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর মিডোস, ঠিক ততটাই পছন্দ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ একজন অথবা একাধিক কর্মকর্তা। নইলে ওর কথামতো ক্রাইমসিন ওভাবে রাখত না পুলিশ, ওর অনুরোধে আমাকেও ঢুকতে দেয়া হতো না সেখানে।
সিগারেট শেষ করে উঠে দাঁড়াল হোথর্ন। ‘চলুন।
কফির দাম আরও একবার চুকাতে হলো আমাকে।
১৪ নম্বর বাসে সওয়ার হয়ে আমরা দু’জন পৌঁছে গেলাম ফুলহ্যাম রোডে। ডায়ানা ক্যুপার যেদিন খুন হয়েছেন, সেদিন তিনিও চড়েছিলেন এই বাসে। সেই ফিউনারেল পার্লারে যখন ঢুকছি, ঘড়িতে তখন বারোটা ছাব্বিশ।
যে-রকম বর্ণনা করেছিলাম আগে, পার্লারটা সে-রকমই। আইরিন লযের সামনে গিয়ে হাজির হলো হোথর্ন, পরিচয় দিল নিজের। ওই মহিলা আমাদেরকে সোজা নিয়ে গেল রবার্ট কর্নওয়ালিসের কাছে। করিডরের শেষপ্রান্তে কর্নওয়ালিসের অফিস।
আমাদেরকে অফিসরুমে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে গেল না আইরিন, বরং বসে পড়ল একধারের একটা চেয়ারে। এমন একটা ভাব ফুটে আছে তার চেহারায় যে, দেখে মনে হচ্ছে, তার দোষেই অকালমৃত্যুর শিকার হয়েছেন ডায়ানা ক্যুপার। হয়তো ভাবছে, কর্নওয়ালিসের পাশাপাশি তাকেও কিছু-না-কিছু জিজ্ঞেস করা হবে।
একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম। আমাকে কর্নওয়ালিস অথবা আইরিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল না হোথর্ন। ওই দু’জন হয়তো আমাকে হোথর্নের সহকারী ভেবে নিল।
