মনে হচ্ছে, ওই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আরও অনেক কিছু জানার আছে আমার! ‘ঠিক আছে,’ নামিয়ে রাখলাম কলমটা। ‘দেখান।
মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে ছেলের কাছে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ডায়ানা ক্যুপার; হোথর্নের হাতে এখন যে-কাগজ আছে, সেটা ওই মেসেজেরই স্ক্রীনশট।
যে-ছেলেটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল, তাকে দেখেছি আমি এবং আমার ভয় লাগছে
‘কী জানতে পারলেন এই মেসেজ থেকে?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘মেসেজটা লিখে শেষ করার আগে, যে-কোনো কারণেই হোক না কেন, বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মিসেস ক্যুপার। কারণ বাক্যের শেষে কোনো ফুলস্টপ নেই। কেন ভয় লাগছিল তাঁর, সেটা বলে যেতে পারেননি তিনি।’
‘অথবা… এ-রকমও হতে পারে, শুধুই ভয় লাগছিল মিসেস ক্যুপারের, অর্থাৎ বিশেষ কোনো কারণ ছিল না ব্যাপারটার।’
‘মিডোস হয়তো ঠিকই বলেছে। এই মেসেজের কোনো মানে নেই।’ আরও তিনটা কাগজ বের করল হোথর্ন। আজ থেকে দশ বছর আগে খবরের কাগজে প্রকাশিত আলাদা তিনটা আর্টিকেল।
.
ডেইলি মেইল, শুক্রবার, ৮ জুন ২০০১
সড়ক-দুর্ঘটনায় এক বালক নিহত
তার যমজ ভাইয়ের অবস্থা গুরুতর, তবে ডাক্তাররা বলছেন, বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে ছেলেটার।
আট বছর বয়সী একটা ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। একই দুর্ঘটনায় মারা গেছে তার যমজ ভাই। তাদের দু’জনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে ক্ষীণ দৃষ্টির অধিকারী এক গাড়িচালক।
বেঁচে যাওয়া ছেলেটার নাম জেরেমি গডউইন। তবে তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এমনকী চিড় ধরেছে খুলিতেও। মস্তিষ্কেও আঘাত পেয়েছে বেচারা। আর তার ভাই টিমোথি প্রাণ হারিয়েছে ঘটনাস্থলেই।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে ঘটে ওই দুর্ঘটনা। কেন্টের ডিলের কোস্টাল রিসোর্টে, দ্য মেরিনে ঘটেছে ঘটনাটা।
ওই দুই ছেলে, প্রত্যক্ষদর্শীরা যাদেরকে ‘অবিচ্ছেদ্য’ বলে বর্ণনা করেছে, তাদের আয়া ২৫-বছর-বয়সী মেরি ও’ব্রায়ানের সঙ্গে হোটেলে ফিরছিল। মেয়েটা পুলিশকে জানিয়েছে, রাস্তার একটা কোনা ঘুরে হঠাৎ হাজির হয় গাড়িটা। গতি কমানোর কোনো চেষ্টাই নাকি করেনি চালক। ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এক মহিলা; দুই ভাইকে চাপা দিয়ে চলে যান তিনি।
গত তিন বছর ধরে জেরেমি আর টিমোথির দেখভাল করছিল মেরি। গাড়িচালক ওই মহিলা যে চাপা দিয়ে চলে গেছেন ছেলে দুটোকে, সেটা বিশ্বাসই করতে পারছে না সে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫২ বছর বয়সী এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
.
দ্য টেলিগ্রাফ, শনিবার, ৯ জুন ২০০১
ক্ষীণ দৃষ্টির অধিকারী এক গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
টিমোথি গডউইন নামের আট-বছর-বয়সী একটা ছেলেকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই একই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছিল টিমোথির যমজ ভাই। গ্রেপ্তারকৃত মহিলার নাম ডায়ানা ক্যুপার। ৫২ বছর বয়সী মিসেস ক্যুপার অনেক বছর ধরে বাস করছেন কেন্টের ওয়ালমারে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, রয়্যাল সিঙ্ক পোর্টের গল্ফ ক্লাব থেকে ফিরছিলেন গাড়ি চালিয়ে, আর তখনই ঘটে দুর্ঘটনাটা।
জানা গেছে, ওই ক্লাবে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন মিসেস ক্যুপার। তবে গতিসীমা ছাড়িয়ে যাননি তিনি গাড়ি চালানোর সময়। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছে, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না তিনি। তবে সে-সময় চশমা ছিল না তাঁর চোখে। পরে পুলিশি এক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চশমা ছাড়া ২৫ ফুট দূরের রেজিস্ট্রেশন প্লেট পড়তে পারেন না তিনি।
এ-ব্যাপারে তাঁর উকিলরা যে-বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা নিম্নরূপ:
‘দুর্ঘটনাটা যেদিন ঘটেছে, সেদিনের বিকেলটা ওই ক্লাবে গল্ফ খেলে কাটিয়ে দিয়েছেন আমাদের মক্কেল। গাড়ি চালিয়ে যখন বাসায় ফিরে যাচ্ছিলেন তিনি, তখনই ঘটে ঘটনাটা। দুর্ভাগ্যবশত এবং ভুলক্রমে চশমা ফেলে যান তিনি, কিন্তু ভেবে নিয়েছিলেন, ওটা ছাড়াই গাড়ি চালাতে পারবেন, কারণ ওই ক্লাব থেকে তাঁর বাসার দূরত্ব বেশি না। পরে অবশ্য স্বীকার করেছেন, যখন টের পান দুর্ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেলেছেন, তখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন; আর তাই তাড়াহুড়ো করে সোজা ফিরে গিয়েছিলেন বাসায়। তারপরও ঘটনাটার গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল আছেন তিনি। এবং সেদিন রাতেই, অর্থাৎ ওই ঘটনার দু’ঘণ্টার মধ্যে, স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে যোগাযোগ করেছিলেন পুলিশের সঙ্গে।’
১৯৮৮ সালের রোড ট্রাফিক অ্যাক্টের সেকশন ১ এবং ১৭০ (২) ও (৪)-এর অধীনে মিসেস ক্যুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। সে-অভিযোগে বলা হয়েছে, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে নিষ্পাপ ও নিরপরাধ একটি শিশুর প্রাণহানির কারণ হয়েছেন তিনি। যখন ঘটেছে ঘটনাটা, তখন থামাতে পারেননি গাড়িটা।
ওয়ালমারের লিভারপুল রোডের একটা বাড়িতে থাকেন মিসেস ক্যুপার। কিছু দিন আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন ওই ভদ্রলোক। তাঁদের একমাত্র সন্তান ২৩ বছর বয়সী ড্যামিয়েন ক্যুপার। জানা গেছে, তিনি একজন অভিনেতা। রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানির হয়ে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ওয়েস্ট এন্ড স্টেজে দ্য বার্থডে পার্টি নামের নাটকে।
