‘ডায়ানার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল আমার। কিন্তু সেই আমেরিকা থেকে লন্ডন… এতটা পথ যাত্রা করে সাংঘাতিক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল অ্যাশলিই।’
‘তার মানে মিসেস ক্যুপারের সঙ্গে দেখা করেননি আপনি?’
‘না!’
গ্রেস আমার সঙ্গে এখানেই ছিল,’ বললেন মার্টিন লোভেল। ‘এবং যদি দরকার হয়, এই কথা শপথ করে বলতে পারবো আদালতে। আরেকটা কথা। ড্যামিয়েনকে যখন খুন করা হলো, তখন গ্রেস ছিল ওই লোকের মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে।
‘আর আপনি ওই শেষকৃত্যের সময় কোথায় ছিলেন, মিস্টার লোভেল?’
‘আমি অ্যাশলিইকে নিয়ে গিয়েছিলাম রিচমন্ড পার্কে… হরিণ দেখাতে।’
গ্রেসের দিকে তাকাল হোথর্ন। ‘রাডা’র ব্যাপারে যখন বলছিলেন আপনি আমাদেরকে, তখন বলেছেন, আমান্ডা লেই নামের মেয়েটার ব্যাপারে নাকি আরও কিছু কথা বলবেন। কী কথা?’
‘ওই মেয়ে ছিল ড্যামিয়েনের প্রথম গার্লফ্রেন্ড। তবে শেষপর্যন্ত ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ওদের। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় ড্যান রবার্টসের খাতিরে ড্যামিয়েনকে ছেড়ে দিয়েছিল মেয়েটা।’ দেখে মনে হলো, কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ভুগছে গ্রেস। ‘হ্যামলেটের রিহার্সেল শুরু করার আগে একদিন ড্যান আর ওই মেয়েকে চুমু খেতে দেখেছি আমি। খুবই আবেগঘন হয়ে পড়েছিল ওরা… বলতে গেলে ডুবে গিয়েছিল একজন আরেকজনের মধ্যে। ওই নাটকে… আগেও বলেছি হয়তো… অসরিচের ভূমিকায় অভিনয় করেছিল লেই। পরে বড় বড় গোটা দুয়েক গীতিনাট্যেও কাজ করেছিল। কিন্তু তারপর হুট করেই গায়েব হয়ে যায় কোথায় যেন।’
‘মানে… আপনি বলতে চাইছেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি?’ এতক্ষণে মুখ খুললাম আমি।
‘না। গায়েব হয়ে যাওয়া মানে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া। একদিন একটু বেড়াতে বের হয়েছিল, কিন্তু তারপর ফিরে আসেনি কখনও। সব পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল খবরটা। যথেষ্ট খোঁজখবরও হয়েছিল ওর ব্যাপারে। কিন্তু কী হয়েছে ওর, সেটা কেউ জানতে পারেনি কোনো দিন।’
মার্টিন লোভেলের বাসা থেকে বের হয়েই নিজের আইফোনটা হাতে নিলাম আমি। চট করে সেরে নিলাম গুগল সার্চ।
পেয়ে গেলাম আট বছর আগের একটা নিউযপেপার রিপোর্ট:
সাউথ লন্ডন প্রেস
১৮ অক্টোবর ২০০৩
অভিনেত্রী নিখোঁজ, আবেদন করলেন তাঁর বাবা-মা
স্ট্রেটহ্যামে নিজের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক নারী। তাঁকে খুঁজতে শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, তাঁর নাম আমান্ডা লেই। তিনি একজন অভিনেত্রী। ওয়েস্ট এন্ডের দুটো গীতিনাট্যে অভিনয় করেছেন তিনি… দ্য লায়ন কিং আর শিকাগো। বর্ণনায় বলা হচ্ছে, তিনি হালকাঁপাতলা দেহের অধিকারিণী, মাথায় লম্বা সাদা চুল। চোখের মণি হালকা বাদামি রঙের। চেহারায় ছুলীর দাগ আছে।
রোববার বিকেলে নিজের বাসা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন মিস লেই। তখন তাঁর পরনে ছিল ফিটফাট পোশাক… সিল্কের ধূসর একটা ট্রাউজার স্যুট পরে ছিলেন, গাঢ় নীল রঙের একটা হার্মিস কেলি হ্যান্ডব্যাগ বহন করছিলেন। লাইসিয়াম থিয়েটারে সোমবার সন্ধ্যায় একটা নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু তিনি সময়মতো সেখানে উপস্থিত হতে না-পারায় খবর দেয়া হয় পুলিশে। তারপর থেকে আজ ছ’দিন ধরে তিনি নিখোঁজ।
ইন্টারনেট ভিত্তিক কয়েকটা ডেটিং এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। জানা গেছে, বিয়ে করেননি ওই অভিনেত্রী, এবং অনলাইনে পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করার অভ্যাস ছিল তাঁর। ধারণা করা হচ্ছে, ও-রকম কারও সঙ্গেই সাক্ষাৎ করতে গেছেন তিনি। তাঁকে সেদিন সন্ধ্যায় দেখেছেন, এ-রকম যে-কাউকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা।
রিপোর্টটা দেখালাম আমি হোথর্নকে। ওটা পড়ে এমন ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল সে যে, মনে হলো, ও-রকম কিছু পড়বে বলেই আশা করছিল যেন।
‘আপনি তা হলে আমান্ডা লেইয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন?’ বললাম আমি!
জবাব দিল না হোথৰ্ন।
আমরা তখনও দাঁড়িয়ে আছি মার্টিন লোভেলের বাড়ির বাইরে। আমাদের মাথার উপর দিয়ে গর্জন করতে করতে উড়ে গেল আরেকটা প্লেন।
ওটা চলে যেতে দিলাম আমি। তারপর বললাম, ‘আপনি কি বলতে চান আমান্ডা লেইকেও খুন করা হয়েছে? কিন্তু কেন? এসবের সঙ্গে তো কোনো যোগাযোগ ছিল না ওই মেয়ের? এমনকী আজকের আগে মেয়েটার নামও শুনিনি আমরা।
বেজে উঠল হোথর্নের ফোন।
ওটা পকেট থেকে বের করল সে, কল রিসিভ করে কথা বলল মিনিটখানেক। কথা বলল মানে… ‘হ্যাঁ’ শব্দটা উচ্চারণ করল দুই কি তিনবার, তারপর বলল ‘ঠিক’ এবং সবশেষে ‘ঠিক আছে।’ এরপর লাইন কেটে দিল। খেয়াল করলাম, কঠোর হয়ে উঠেছে ওর চেহারা।
বলল, ‘মিডোস ফোন করেছিলেন।’
‘কী হয়েছে?’
‘ক্যান্টেব্রিতে ফিরে যেতে হবে আমাকে। আমার সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি।’
‘কেন?’
এমন এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল হোথর্ন যে, অস্বস্তিতে ভুগতে লাগলাম। বলল, ‘কেউ একজন গতকাল রাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে নাইজেল ওয়েস্টনের বাড়িতে। লেটার বক্সের ভিতর দিয়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছিল, তারপর আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল সেখানে।’
‘মাই গড! নাইজেল ওয়েস্টন কি মারা গেছেন?’
‘না। তিনি আর তাঁর সেই বয়ফ্রেন্ড সময়মতো বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন। আপাতত হাসপাতালে আছেন তিনি। নিঃশ্বাসের সঙ্গে ধোঁয়া ঢুকে গিয়ে কিছু ক্ষতি হয়েছে তাঁর, তবে সেটা তেমন গুরুতর কিছু না। ডাক্তাররা আশা করছেন সেরে উঠবেন তিনি।’ হাতঘড়ি দেখল হোথর্ন। ‘ট্রেন ধরতে হবে আমাকে।’
