‘যা-হোক, সেদিনের সেই সন্ধ্যাটা চমৎকার কাটল আমাদের। একটু বেশিই গিলে ফেলেছিলাম আমরা। কথা বলছিলাম রাডা-য় একসঙ্গে কাটানো দিনগুলো নিয়ে। আর তখনই ওর কাছ থেকে জানতে পারলাম, অভিনয় ছেড়ে দিয়েছে ড্যান। লজ্জাজনক ছিল ব্যাপারটা, কারণ ড্যান ছিল খুব মেধাবী। কিন্তু… কখনও কখনও হয় এ-রকম। প্রতিভার অবমূল্যায়ন হলে একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি সে-কাজে লেগে থাকবে কেন? জানেন, পাইরেট্স অভ দ্য ক্যারিবিয়ান-এর প্রধান চরিত্রটা আরেকটু হলে পেয়ে গিয়েছিল ড্যান। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেটা চলে যায় ওরল্যান্ডো ক্লুমের কাছে। আইটিভি’র জন্য ডক্টর যিভাগো নাটকটা করার কথা ছিল ওর, সে-সুযোগও হাতছাড়া হয় ওর।
‘ড্যামিয়েনের কাছ থেকে সেদিন আরও জানতে পারলাম, আমান্ডা স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে। নিজের ব্যাপারে সেদিন অনেক কথা বলেছিল ড্যামিয়েন আমাকে। বলেছিল, স্টার ট্রেক থেকে যে-পরিমাণ টাকা পেয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলসে একটা বাসা কেনার কাজে ব্যবহার করতে পারবে সেটা। ওই বাসায় পাকাপাকিভাবে থাকার কথাও ভাবছিল সে।
‘সপ্তাহ তিনেকের জন্য এসেছিল ড্যামিয়েন ইংল্যান্ডে। কাজ করছিল একটা মিনি সিরিযে। ওই পুরোটা সময় একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি আমরা দু’জন। ওর সেই ব্রিক লেনের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম আমি, সেটা বিস্ময়কর মনে হয়েছে আমার। কারণ আমি তখন থাকি ক্ল্যাপহ্যামের ছোট্ট একটা বাসায়, আমার সঙ্গে থাকে আরও দু’জন অভিনেত্রী। কাজেই ড্যামিয়েনের সেই ফ্ল্যাট আমার জন্য ছিল অন্য একটা জগৎ। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম তখন… ওর ফোন ক্রমাগত বেজেই চলেছে। ওর এজেন্ট, ওর ম্যানেজার, ওর হয়ে যারা পাবলিসিটি চালায় তারা… এমনকী খবরের কাগজ আর রেডিও স্টেশন থেকে সমানে ফোন দেয়া হচ্ছে ওকে। আমি তখন বুঝতে পারি, যখন রাডা-য় ভর্তি হয়েছিলাম, তখন এ-রকম কিছুরই স্বপ্ন দেখেছিলাম।’
‘ওই স্বপ্ন এখন তোমার জন্যও সত্যি হবে, গ্রেস,’ বলে উঠলেন মার্টিন লোভেল, ‘কারণ চিরবিদায় নিয়েছে লোকটা।’
‘কথাটা ঠিক বললে না, বাবা। ড্যামিয়েন কখনও আমার রাস্তায় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়নি।
‘তোমার ক্যারিয়ার যেইমাত্র বিকশিত হতে শুরু করেছে, তখনই তোমাকে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে দিয়েছে সে।’
‘এমন না যে আমাদের দু’জনের মধ্যে যা ঘটেছে তা একতরফাভাবে ড্যামিয়েনের ইচ্ছাতেই ঘটেছে। বরং আমার প্রেগন্যান্ট হওয়ার ঘটনায় আমারও সম্মতি ছিল। ড্যামিয়েন বলেছিল, আমার মাধ্যমে একটা বাচ্চার বাবা হতে চায় সে। চেয়েছিল, আমি যেন চলে যাই ওর সঙ্গে… যেন থাকি ওর সঙ্গে। বলেছিল, আমাদের দু’জনের জন্য, এমনকী অনাগত বাচ্চাটার জন্যও যথেষ্ট টাকা আছে ওর কাছে। পরের ফ্লাইটেই আমাকে লস অ্যাঞ্জেলসে যাওয়ার কথা বলেছিল সে।’
‘আপনারা দু’জন কি বিয়ে করেছিলেন?’ জিজ্ঞেস করল হোথর্ন। অস্বাভাবিক হলেও সত্যি, এই যে এতক্ষণ ধরে কথা বলল গ্রেস, একটাবারের জন্যও কিছু বলেনি সে… কিছু জিজ্ঞেসও করেনি, বরং চুপ করে ছিল সারাটা সময়। মনোযোগ দিয়ে শুনেছে গ্রেসের কথা।
‘না, করিনি। বিয়ে করার পেছনে কোনো যুক্তি থাকতে পারে বলে মনে করেনি ড্যামিয়েন।’
‘মনে করবে কী করে?’ খেঁকিয়ে উঠলেন মার্টিন লোভেল। ‘ওই শয়তান তো সারাটা সময় ব্যস্ত ছিল নিজেকে নিয়েই… শুধু নিজের কথাই ভেবেছে। শয়তানটা আসলে কোনো বাঁধনে জড়াতে চায়নি। আর ওর মা-টাও ছিল একই রকম খারাপ। ছেলেকে মহামূল্যবান ভাবত, ছেলেই ছিল তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। তোমাকে একটুও সময় দেয়নি ওই মহিলা কখনও।’
‘তুমি যতটা বলছ, ডায়ানা আসলে ততটা খারাপ ছিলেন না। তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। কিছুটা হলেও দুঃখ ছিল তাঁর মনে। আর… মা হিসেবে তিনি তো তাঁর ছেলের ভালো চাইতেই পারেন, তা-ই না?’ অ্যাশলিইয়ের দিকে এগিয়ে গেল গ্রেস; মেয়েটার চোখের উপর নেমে এসেছে কিছু চুল, সরিয়ে দিল ওগুলো। ‘আমাকে যা করতে বলেছিল ড্যামিয়েন, ঠিক তা-ই করেছিলাম আমি। প্লেনের টিকিট পাঠিয়ে দিয়েছিল সে আমার কাছে…’
‘প্রিমিয়াম ইকোনোমি ক্লাস,’ আবারও বাগড়া দিলেন মার্টিন লোভেল। ‘তোমার জন্য এমনকী বিযনেস ক্লাসের টিকিটও পাঠায়নি লোকটা।
‘…আমি গিয়ে উঠলাম ওর কাছে,’ বলছে গ্রেস। ‘ওর এজেন্ট ভিসার ব্যবস্থা করে দিল। অ্যাশলিই জন্ম নিল আমেরিকায়, ওই দেশের নাগরিকত্ব আছে ওর। ড্যামিয়েন ততদিনে স্টার ট্রেকের শুটিং শুরু করে দিয়েছে। তাই ওর সঙ্গে খুব একটা দেখা হতো না আমার। তবে আমি কিছু মনে করতাম না ওই ব্যাপারে। বরং যে-বাসা সে কিনেছিল লস অ্যাঞ্জেলসে, সেটা কেনার কাজে ওকে সাহায্য করেছিলাম। দুটো মাত্র বেডরুম ছিল ওই বাসায়, তারপরও বাসাটা ছিল চমৎকার… একটা পাহাড়ের উপরে অবস্থিত, দারুণ সব দৃশ্য দেখা যেত সেখান থেকে, ছোট্ট একটা পুলও ছিল সেখানে। আমি রীতিমতো প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম ওই বাসার। যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলাম ওই বাসা, ওটা আমাকে সেভাবে সাজাতে দিয়েছিল ড্যামিয়েন। অ্যাশলিইয়ের জন্য একটা বেবি রুম সাজিয়ে নিয়েছিলাম আমি। যখন বাজার করার দরকার হতো, তখন কোথায় যেতাম, জানেন? ওয়েস্ট হলিউড আর রডিয়ো ড্রাইভে। বাসায় ফিরতে কখনও কখনও বেশ রাত হয়ে যেত ড্যামিয়েনের, তবে উইকএন্ডটা একসঙ্গেই কাটাতাম আমরা। ওর সব বন্ধুর সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সে। আমি তখন ভেবেছিলাম, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
