‘ড্যামিয়েনের ব্যাপারে যদি কিছু বলতে হয়, তা হলে হ্যামলেট-এর তৃতীয় বছরের প্রোডাকশনের কথাটা বলতেই হবে। কারণ ওই প্রোডাকশনটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কথা, নাটকটা ছিল হ্যামলেট, আর দ্বিতীয় কথা, বিশেষ ওই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবে যে, তার অভিনয়-জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার সুযোগ ছিল। নাটকটা দেখতে আসার কথা ছিল শত শত এজেন্টের। ওটা পরিচালনা করছিলেন লিন্ডসে পযনার, রয়্যাল কোর্টে দারুণ কিছু কাজ করেছিলেন তিনি। নাটক পরিচালনার কাজে তিনি যে অদ্বিতীয়, ইয়ং ভিক-এ আমেরিকান বাফেলো পরিচালনার মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করেছেন। যা-হোক, কথা ছিল ওই নাটকে নাম-ভূমিকায়, মানে হ্যামলেটের চরিত্রে অভিনয় করবে ড্যান। আগের দুটো নাটকে ছোট ছোট দুটো চরিত্রে অভিনয় করেছিল সে। আমাদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, ও-রকম চরিত্রগুলোতে ওকে দিয়ে অভিনয় করানো হয়েছিল আসলে, কারণ হ্যামলেট নাটকে হ্যামলেটের চরিত্রে অভিনয় করতে দেয়া হবে ওকে।
‘এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশ উত্তেজিত ছিলাম আমরা। কিছুটা নার্ভাসও হয়ে পড়েছিলাম। রাডা ছেড়ে চলে যেতে হবে, অথচ কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে না… এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে না একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য। কাজেই আমাদের জন্য হ্যামলেটের গুরুত্ব ছিল অসীম।
‘কিন্তু শেষপর্যন্ত কী হলো, জানেন? শেষপর্যন্ত বিশেষ ওই চরিত্রের জন্য মনোনীত করা হলো ড্যামিয়েনকে। আর আমি পেলাম অফেলিয়ার চরিত্রটা। আমান্ডা পেল ছোট একটা চরিত্র… অসরিচ।
‘টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে রিহার্সেল করতে হলো আমাদেরকে। আর তখনই এমন একটা ঘটনা ঘটল, যার ফলে বদলে গেল সব কিছু। বদলে গেল আমার জীবনটাও। সপ্তাহখানেক রিহার্সেল করার পর জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ল ড্যান, ওর চরিত্রে রিহার্সেলের দায়িত্ব তখন ন্যস্ত হলো ড্যামিয়েনের কাঁধে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে একসঙ্গে কাজ করতে লাগলাম আমি আর ড্যামিয়েন। ফিরে তাকিয়ে যখন দেখি ওসব, বুঝতে পারি, আমি আসলে ওই সময়েই প্রেমে পড়েছিলাম ওর।
‘আজও সেই হ্যামলেট নাটকের প্রোডাকশন নিয়ে কথা বলে লোকে। সেটাতে কাজ করার সুবাদে এজেন্ট পেয়ে যাই আমি, ড্যামিয়েন আর ড্যান। ড্যামিয়েন যে চমৎকার কাজ দেখিয়েছিল ওই নাটকে, সে-ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই… বলতে গেলে বাজিমাত করে দিয়েছিল একাই। ভালো কাজ দেখিয়েছিল ড্যানও। যা-হোক, আমি যা বলতে চাইছি তা হলো, ড্যামিয়েনকে মানুষ হিসেবে যতটা না ভালোবেসেছিলাম, তার চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলাম অভিনেতা হিসেবে। সে আসলে… মানুষ হিসেবে…’
উপযুক্ত শব্দটা খুঁজে পাচ্ছে না গ্রেস, তাই সাহায্যের আশায় তাকাল তার বাবার দিকে।
‘একটা বেজন্মা!’ শব্দটা জোগান দিলেন মিস্টার লোভেল।
‘বাবা!’
‘শয়তানটা তোমার সঙ্গে যে-রকম ব্যবহার করেছে, তোমাকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছে…’
‘সব সময় ও-রকম করেনি সে।’
‘শুরু থেকেই ওই শয়তান আর তার মা ও-রকমই ছিল। ওরা দু’জন কেউ কারও চেয়ে কম খারাপ না।
এমন এক দৃষ্টিতে মিস্টার লোভেলের দিকে তাকিয়ে আছে গ্রেস যে, দেখে মনে হচ্ছে, বাবার কথাটা মেনে নিতে পারছে না। তবে এই কথা নিয়ে তাঁর সঙ্গে তর্কে গেল না। আমাদের, মানে আমার আর হোথর্নের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যালেন্টের সঙ্গে একটা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলাম আমি… কাজ করবো জনাথন ক্রীক নামের একটা টিভি শো-তে। তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না চরিত্রটা… একজন ম্যাজিশিয়ানের অ্যাসিস্টেন্ট। তারপরও… আমার বায়োডাটার জন্য কিছু তো ছিল! এরপর টিভিতে আরও কয়েকটা কাজ পেয়ে গেলাম: ক্যাযুয়ালটি, হলবি সিটি, দ্য বিল। স্টেলা আরটিয়োসের জন্য একটা বিজ্ঞাপনও করে ফেললাম। আর সেটার জন্য বুয়েন্স আয়ার্সে একটা সপ্তাহ থাকতে হয়েছিল আমাকে। দ্য কান্ট্রি ওয়াইফ আর দ্য সী নামের নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগও পেয়ে গেলাম।
‘তারপর একদিন হুট করেই আবার দেখা হয়ে গেল ড্যামিয়েনের সঙ্গে। ঘটনাক্রমে দ্য কান্ট্রি ওয়াইফ নাটকটা দেখতে এসেছিল সে। আমি যে ছিলাম ওই নাটকে, জানত না সেটা। যা-হোক, ব্যাকস্টেজে ওর সঙ্গে দেখা হলো আমার। গলা ভেজানোর জন্য বাইরে একজায়গায় গেলাম আমরা। ওকে যে চোখের সামনে দেখছি, সেটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছিল তখন। মানে… আমি যা বলতে চাইছি তা হলো, আমরা একজন আরেকজনকে এত ভালোমতো চিনি, আমরা একজন আরেকজনের এত ঘনিষ্ঠ ছিলাম, তারপরও বছরের-পর-বছর দেখা হয়নি আমাদের দু’জনের মধ্যে।’
খেলতে খেলতে মার্টিন লোভেলের কোলেই ঘুমিয়ে গেছে অ্যাশলিই; বাচ্চাটাকে সাবধানে সোফায় শুইয়ে দিলেন তিনি। ‘ড্যামিয়েন নামের ওই শয়তান শুধু নিজের ক্যারিয়ারের দিকে খেয়াল রেখেছে। বন্ধু বলতে কেউ ছিল না তার কোনোকালে। তোমাকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে সে।
বাবার দিকে তাকাল গ্রেস। ‘এভাবে বোলো না, বাবা,’ এখনও একমত হতে পারছে না মিস্টার মার্টিনের সঙ্গে। আবারও তাকাল আমাদের দিকে। ‘আমার সঙ্গে যখন আবার দেখা হলো ড্যামিয়েনের, ততদিনে বিখ্যাত হয়ে গেছে সে। লোকে যদি ওর অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য ভিড় না-ও করত, তবুও ওকে দূর থেকে দেখে চিনতে পারত। বড় বড় বেশ কয়েকটা ছবি আর টিভি শো-তে অভিনয় করা হয়ে গিয়েছিল ওর। ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড থেকে একটা পুরস্কারও পেয়েছিল। ততদিনে সে কাজ শুরু করে দিয়েছিল হলিউডে। স্টার ট্রেক-এর শুটিং শুরু করার কথা ছিল ওর। তবে… ওর সঙ্গে দ্বিতীয়বার যখন দেখা হলো, তখন বুঝতে পারলাম, আগের চেয়ে বদলে গেছে সে… কিছুটা যেন কঠোর হয়ে গেছে। অত পয়সা কামাই করতে পারলে, অত সাফল্য পেলে যে-কেউ ও-রকম হয়ে যায় সম্ভবত। ব্রিক লেনের ফ্ল্যাটটা তখন মাত্র কিনে নিয়েছে সে।
