‘ব্যাপারটা দেখবো, মিস্টার কর্নওয়ালিস।’
‘হয়তো এটা কিছুই না… সময়ের অপচয় আর কী।’
‘সময় অনেক আছে আমার হাতে।’
বাসার ভিতরে ঢুকে পড়ল কর্নওয়ালিস, দরজা লাগিয়ে দিল।
ভাঁজ-করা কাগজটা খুলল হোথর্ন, দেখল কী লেখা আছে সেটাতে। তারপর হেসে ফেলল। ‘এই নম্বর আমার পরিচিত।
‘কীভাবে?’
‘জুডিথ গডউইন একটা নম্বর দিয়েছিলেন আমাকে… সে-নম্বরের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে এটা। এই নম্বর তাঁর স্বামী অ্যালান গডউইনের।’
কাগজের টুকরোটা আগের মতো ভাঁজ করে পকেটে ঢুকিয়ে রাখল হোথর্ন। এখনও হাসছে।
ভাবখানা এমন, এ-রকম কিছু-একটা পেয়ে গেছে, যা আশা করছিল অনেকদিন ধরে।
১৫. হিলডার সঙ্গে লাঞ্চ
‘তুমি দেখছি নতুন একটা জুতো কিনেছ,’ পরদিন সোমবার বাসা থেকে বের হতে যাবো, এমন সময় বলল আমার স্ত্রী।
‘না, কিনিনি,’ বললাম আমি। তাকালাম জুতো জোড়ার দিকে। হোথর্ন আমাকে যে-জুতো জোড়া দিয়েছিল, সেগুলোই পরে আছি। এই জুতো দুটোর মালিক আসলে ড্যামিয়েন ক্যুপার।
জুতো জোড়া আসলে বেশ আরামদায়ক, ইটালিয়ান। কিছু না-ভেবেই এগুলো পরে ফেলেছি। ‘ওহ্, এগুলো!’ বিড়বিড় করে বললাম।
আমার স্ত্রী একজন টেলিভিশন প্রডিউসার। ওর খুঁটিনাটি দেখার ক্ষমতা সাংঘাতিক। ইচ্ছা করলেই একজন গোয়েন্দা অথবা গুপ্তচর হতে পারত। থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি, জবুথবু হয়ে গেছি। হোথর্নের ব্যাপারে এখনও কিছু বলিনি আমার স্ত্রীকে।
বললাম, ‘এই তো… গত কয়েকদিন হলো পরছি এগুলো। তবে… সব সময় পরি না।
স্ত্রীর সঙ্গে কখনও মিথ্যা কথা বলি না আমি, সে-ও আমার সঙ্গে করে না ওই কাজ। এইমাত্র যা বললাম, সেটা, ব্যাপক অর্থে, সত্যি।
‘তুমি যাচ্ছ কোথায়?’ জিজ্ঞেস করল সে।
‘হিলডার সঙ্গে লাঞ্চ খেতে।’
হিলডা স্টার্ক আমার সাহিত্য-সংক্রান্ত এজেন্ট। তাকেও হোথর্নের ব্যাপারে কিছু বলিনি।
আর দাঁড়িয়ে থাকলাম না আমার স্ত্রীর সামনে, যত জলদি সম্ভব কেটে পড়লাম।
একজন লেখক এবং তার এজেন্টের মাঝখানের সম্পর্কটা সব সময়ই অদ্ভুত লাগে আমার। এই সম্পর্ক ঠিক বুঝি কি না, সে-ব্যাপারে আমি নিজেও নিশ্চিত না। এজেন্টদেরকে দরকার লেখকদের। এজেন্টরা লেখকদের অনেক কাজ করে দেয়, বিনিময়ে লেখকরা যা আয় করে তার দশ শতাংশ গ্রহণ করে কমিশন হিসেবে। ব্যাপারটা খুবই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয় আমার। কোনো লেখকের বই যদি খুব বেশি বিক্রি হতে শুরু করে, তা হলে অবশ্য কমিশনের ব্যাপারটা অন্যরকম।
যা-হোক, লাঞ্চের পর ওয়েইটার যখন প্লেট-ডিশ ইত্যাদি পরিষ্কার করছে, তখন হিলডা বলল, ‘আমার একজন ক্লায়েন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জানেন কি না জানি না।’
‘কে লোকটা?’
‘রেমন্ড ক্লুন্স।
‘মঞ্চনাটকের প্রযোজক?’
মাথা ঝাঁকাল হিলডা। ‘সঙ্গীতধর্মী একটা নাটকের জন্য গত বছর কিছু টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। নাটকটার নাম ছিল ‘মরোক্কান নাইটস’। আশা করা হয়েছিল বেশ ভালো ব্যবসা করবে ওই নাটক, কিন্তু বাস্তবে ঘটেনি তেমনটা। যারা টাকা দিয়েছিল নাটকটার জন্য, তারা অভিযোগ করেছে, তাদেরকে নাকি ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে। পুলিশ তাই জালিয়াতি তদন্তের কাজে নেমেছে মিস্টার ক্রুন্সের বিরুদ্ধে।’
তার মানে, মিসেস ক্যুপারের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পর ব্রুনো ওয়াং যে-গল্প শুনিয়েছিল আমাদেরকে, সেটা সত্যি।
আশ্চর্য হলাম। হিলডা যে মঞ্চনাটকের-প্রযোজকদেরও কাজ করে, জানতাম না। সে-ও কি টাকা বিনিয়োগ করেছিল বিশেষ সেই নাটকের পেছনে? কে জানে! কথাটা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হলো, কিন্তু সাহসে কুলাল না। হিলডাকে যতটা পছন্দ করি, ঠিক ততটা ভয়ও পাই।
যা-হোক, কুন্সের প্রসঙ্গ যখন এসেই গেছে, তার মানে কথা বলার সুযোগ পেয়ে গেছি; এবং সে-সুযোগ কাজে লাগিয়ে বলে ফেললাম, কুন্সের সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার সম্প্রতি… ডায়ানা ক্যুপারের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে। চলে এল হোথর্নের প্রসঙ্গ, জানিয়ে দিলাম ওর হয়ে একটা বই লিখে দিতে রাজি হয়েছি।
ভেবেছিলাম রেগে যাবে হিলডা, কিন্তু সে-রকম কিছু ঘটল না। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কখনোই রাগারাগি করে না সে। বলল, ‘আপনার কথাটা বুঝলাম না আসলে। বলেছিলেন বাচ্চাদের বই লেখার কাজ থেকে সরে আসবেন আস্তে আস্তে, এবং সে- ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথাও হয়েছিল আমার। নিজেকে বড়দের বই লেখার কাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন…’
‘এ-বই বড়দের জন্যই! ‘
‘ট্রু ক্রাইম অথবা সত্যিকারের অপরাধ বলতে যা বোঝায়, এ-বই হচ্ছে সে- রকম। কিন্তু আপনি কোনো ট্রু ক্রাইম রাইটার না। তা ছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, সত্যিকারের অপরাধের কাহিনি নিয়ে যেসব বই লেখা হয়, সেসবের কাটতি নেই বললেই চলে।’ হাত বাড়িয়ে নিজের ওয়াইনের গ্লাস তুলে নিল হিলডা। ‘আমার মনে হয় না আপনার আইডিয়াটা ভালো। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আপনার হাউস অভ সিল্ক বইটা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এবং আপনি জানেন ওই বই কতখানি ভালো লেগেছে আমার। বইটার সিকুয়েল লিখবেন আপনি… এ-রকম একটা ব্যাপারে একমতও হয়েছিলাম আমরা।’
‘লিখবো তো!’
সেক্ষেত্রে ওই সিকুয়েল নিয়েই কাজ করা উচিত ছিল আপনার। লোকে কিন্তু হাউস অভ সিল্কের পরবর্তী কাহিনিই পড়তে চাইবে আপনার লেখায়। কেউ কেন ওই লোকের… কী যেন নাম বললেন তাঁর?’
