‘ও-রকম কিছু বলিনি আমি। শুধু বলেছিলাম, আমার চেয়ে বেশি অ্যাশলিইয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল ড্যামিয়েনের মায়ের। আর কিছু না।’
‘অ্যাশলিই কোথায়?’
‘হাউনস্লো-তে, আমার বাবা-মায়ের কাছে। এখান থেকে বাসায় ফেরার সময় ওকে নিয়ে যাবো ওখান থেকে।’ বারের উপর মদের গ্লাসটা নামিয়ে রাখল গ্রেস। আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল এক ওয়েইটার, তার ট্রে থেকে আরেকটা গ্লাস তুলে নিল।
‘তার মানে মিসেস ক্যুপারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আপনার,’ বলল হোথর্ন।
সে-কথাও তো কখনও বলিনি,’ কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল গ্রেস। ‘আমাদের জীবনে অ্যাশলিই আসার আগে ড্যামিয়েনের সঙ্গে অল্প কিছু সময় একা কাটাতে পেরেছি আমি। ড্যামিয়েনের মা একটু নার্ভাস ছিলেন… অ্যাশলিইয়ের কারণে হয়তো ভাটা পড়তে পারে ড্যামিয়েনের ক্যারিয়ারে। কথাটা শুনতে আপনাদের কেমন লাগছে বুঝতে পারছি, কিন্তু ড্যামিয়েনের মা ছিলেন আসলে নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। লরেন্স মারা যাওয়ার পর আপন বলতে এক ড্যামিয়েনই ছিল তাঁর জীবনে। এবং ওর প্রতি মানসিকভাবে অনেকখানি ঝুঁকে পড়েছিলেন তিনি। ড্যামিয়েনের যে- কোনো সাফল্য তাঁর জন্য ছিল সব কিছু।
‘তার মানে ড্যামিয়েন আর মিসেস ক্যুপারের মাঝখানে চলে এসেছিল অ্যাশলিই?’
‘অ্যাশলিইয়ের এই পৃথিবীতে চলে আসাটা আসলে পরিকল্পিত ছিল না… আপনি যদি সেটাই বোঝাতে চেয়ে থাকেন তা হলে বলছি। তবে ড্যামিয়েন এখন ভালোবাসে মেয়েটাকে।’
‘আর আপনি? অ্যাশলিইয়ের কারণে আপনার ক্যারিয়ারের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না?’
‘মিস্টার হোথর্ন, আপনি এমন সব কথা বলেন, শুনলে মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার বয়স মাত্র তেত্রিশ। আমি অ্যাশলিইকে অনেক ভালোবাসি। আর… যদি আগামী কয়েক বছর কাজ না-ও করি, তাতে তেমন কিছু আসে-যায় না আমার। এখন যেভাবে চলছে আমার জীবন, তাতে খুবই খুশি আমি।’
কেন যেন সন্তুষ্ট হতে পারলাম না কথাটা শুনে।
‘লস অ্যাঞ্জেলস কেমন লাগে আপনার?’ জিজ্ঞেস করল হোথর্ন।
‘ওখানে থিতু হতে একটু সময় লেগেছে আমার। হলিউড হিলসে একটা বাড়ি আছে আমাদের। সেখানে যখন থাকি… যখন সকালে ঘুম থেকে উঠি, আমি যে আছি সেখানে, মাঝেমধ্যে বিশ্বাসই হয় না। যখন নাটকের স্কুলে ক্লাস করতাম, তখন থেকেই একটা স্বপ্ন ছিল আমার… কখনও এ-রকম কোনো বাসায় থাকবো, যেখানে ঘুম থেকে উঠে চোখ মেললেই দেখা যাবে ‘হলিউড’ লেখাটা।’
‘আপনার নিশ্চয়ই নতুন নতুন অনেক বন্ধু আছে, তা-ই না?’
‘নতুন বন্ধুর কোনো দরকার নেই আমার। কারণ ড্যামিয়েন আছে আমার সঙ্গে।’ হোথর্নকে ছাড়িয়ে দূরে তাকাল গ্রেস। ‘যদি কিছু মনে না-করেন, এখানে আরও কয়েকজন লোকের সঙ্গে হাই-হ্যালো করতে হবে আমাকে। কথা ছিল, এখানে যাঁরাই এসেছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে হবে, তাঁদের সবার খেদমত করতে হবে। আর… এখানে বেশিক্ষণ থাকতেও চাই না আমি।’
আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল মেয়েটা। ওকে দৃষ্টি-দিয়ে অনুসরণ করল হোথর্ন। চেহারা দেখেই বুঝলাম, একরাশ চিন্তা ভর করছে ওর উপর।
‘এবার?’ জানতে চাইলাম আমি।
‘ডাক্তার,’ বলল হোথর্ন।
‘তিনি কেন?’
আমার দিকে ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকাল হোথর্ন। ‘কারণ ডায়ানা ক্যুপারকে খুব ভালোমতো চিনতেন তিনি। আমরা যদি ধরে নিই কোনো একটা সমস্যায় ভুগছিলেন ডায়ানা ক্যুপার, তা হলে আমরা এটাও ধরে নিতে পারি, সে-সমস্যার ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তিনি সেই ডাক্তারের সঙ্গে। সবচেয়ে বড় কারণটা হচ্ছে,
ওই ডাক্তার নিজেও খুন করে থাকতে পারেন ডায়ানা ক্যুপারকে!
মাথা নাড়ল হোথর্ন, গ্রেসের দেখিয়ে দেয়া সেই তিন-পিসের-স্যুট পরিহিত লোকের উদ্দেশে পা বাড়াল। কাছে গিয়ে বলল, ‘ডক্টর বাটারওয়ার্থ।
‘বাটিমোর,’ হোথর্নের সঙ্গে হাত মেলালেন ডাক্তার। তিনি বিশালদেহী, গালে দাড়ি আছে। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। হোথর্ন যে তাঁর নাম ভুল বলেছে সেজন্য মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন, কিন্তু দোষ আসলে হোথর্নের না, বরং গ্রেসের– নামটা সে-ই বলেছিল আমাদেরকে। যা-হোক, হোথর্ন যখন বলল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ আছে ওর, তখন দেখলাম চেহারায় আগ্রহ দেখা দিয়েছে তাঁর।
ব্যাপারটা আগেও অনেকবার লক্ষ করেছি আমি। কোনো খুনের তদন্তের সঙ্গে যখন জড়িয়ে ফেলা হয় সাধারণ কোনো লোককে, তখন তারা সেটা উপভোগ করে। কেউ কেউ সাহায্য করার চেষ্টা করে, তবে তাদের সে-চেষ্টা আসলে ভান ছাড়া আর কিছু না।
‘কবরস্থানে ওটা কী ঘটল, বলুন তো?’ হোথর্নকে জিজ্ঞেস করলেন বাটিমোর। ‘বাজি ধরে বলতে পারি, মিস্টার হোথর্ন, ও-রকম কিছু আগে কখনও দেখেননি আপনি। কী মনে হয় আপনার? কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে কাজটা?’
‘আমার মনে হয়, কফিনের ভিতরে অ্যালার্ম ক্লক ঢুকিয়ে দেয়াটা কোনো দুর্ঘটনা না, স্যর,’ বলল হোথর্ন।
‘একদম ঠিক। ঘটনাটা তদন্ত করে দেখবেন আশা করি।
‘আসলে… মিসেস ক্যুপারের হত্যাকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
‘আমি ভেবেছিলাম দোষী লোকটাকে ইতোমধ্যেই শনাক্ত করতে পেরেছেন আপনারা।’
‘চোর ছাড়া আর কারও কাজ না ওটা,’ বলে উঠলেন ডাক্তারের স্ত্রী। আকারে তিনি তাঁর স্বামীর অর্ধেক, বয়স পঞ্চাশের ঘরে।
‘নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে আসার আগে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে আমাদেরকে,’ বলল হোথর্ন, তাকাল ডক্টর বাটিমোরের দিকে। ‘জানতে পেরেছি, মিসেস ক্যুপারের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আপনি। তাঁর সঙ্গে শেষ কবে দেখা হয়েছিল আপনার, সেটা যদি বলতে পারেন, ভালো হয়।’
