হ্যাঁ। আমার নতুন খামারবাড়ি ওই পাহাড়টার পেছনে।
*
সকাল হয়ে গেছে। বজ্রাঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত খামারবাড়ি এখন স্রেফ অঙ্গারের এক স্তূপ। পোড়া আবর্জনার ফাঁকে লকলকে জিভ বের করছে অগ্নিশিখা। ইতিমধে দমকলের একটা গাড়ি চলে এসেছে। কি ঘটেছে অল্প কথায় দমকল অফিসারকে জানিয়ে দিল হ্যারিসন। তারপর ফিরল তিন গোয়েন্দার দিকে।
এখানে আর কিছু করার নেই আমাদের। আমার বাড়িতে চলো। নাস্ত খাবে।
মুচকি হাসল মুসা, নাস্তা পেলে মন্দ হয় না। রবিনের দিকে তাকাল। কি বলো?
নীরবে ঘাড় কাত করে সায় জানাল রবিন। মুখে হাসি।
কিশোর বলল, খিদেয় আমারও পেট চোঁ চোঁ করছে। সারাটা রাত যব খেতে যে হারে ছোটাছুটি করলাম।
হ্যারিসন ওদের নিয়ে পিকআপে উঠল। সামনে জায়গা হলো না চারজনের রবিন বসল সামনে। কিশোর আর মুসা পেছনের খোলা জায়গায়।
ড্রাইভিং সীট থেকে মুখ বের করে পেছনে তাকিয়ে হ্যারিসন বলল, নাস্ত খেয়ে তোমাদের গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।
শুনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল তিন গোয়েন্দা।
যাবার পথে রবিন বলল, কাল রাতে যব খেতে কার যেন চিৎকার শুনলাম।
আমার চিৎকার শুনেছ, হ্যারিসন জানাল। কুকুরটাকে ডাকবে বেরিয়েছিলাম আমি। খরগোশ দেখলেই তাড়া করে ওটা।
মাঠে যা একটা কাকতাড়ুয়া বসিয়েছেন না!
হেসে উঠল হ্যারিসন। কেউ ভয় পায় না। এমনকি কাকেরাও না।
তবে আমরা পেয়েছি!-মনে মনে বলল রবিন।
কাকতাড়ুয়ার পোশাকটা কিন্তু অদ্ভুত, আলাপ চালিয়ে গেল সে।
মজা করার জন্যে ওগুলো পরিয়েছি ওটাকে, বলল হ্যারিসন। নিলামে পাওয়া কোট-প্যান্ট, জুতোজোড়াও।
এরপর বাকি রাস্তাটুকু আর বিশেষ কথা হলো না। বাইরের দিকে তাকিয়ে গত রাতের কথা ভাবতে লাগল রবিন। ঘটনাগুলো যে সত্যি ঘটেছে, দিনে আলোয় এখন বিশ্বাস করা কঠিন।
মিসেস হ্যারিসন তাঁর স্বামীর মতই ভাল মানুষ। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালে গোয়েন্দাদেরকে। পেট পুরে নাস্তা খাওয়ালেন। রকি বীচ চেনেন তিনি ছোটবেলায় বহু বুছর থেকেছেন। সে-সব নিয়ে গল্প করলেন ওদের সঙ্গে।
নাস্তা খেয়ে মিসেস হ্যারিসনকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বেরোল ওরা মিস্টার হ্যারিসন আবার ওদের নিয়ে এল ওদের গাড়ির কাছে।
স্পোর্টস সেডানটা আগের মত ঠায় দাঁড়িয়ে আছে খাদের পাশে। কম্পট ওদের গাড়ির সামনের বাম্পারে একটা রশি বাধলেন। রশির অন্য প্রান্তটা বেঁধে নিলেন নিজের গাড়ির পেছনে। তারপর টেনে নিয়ে রওনা হলেন গ্যারেজে। মুসা বসল তাদের গাড়িতে, হুইল ধরে। কিশোর আর রবিন উঠল পিকআপের পেছনে। দুই পাশের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে চলল।
মাইল দশেক যাবার পরে গ্যারেজের দেখা মিলল। ওদেরকে সাহায্য করার জন্যে হ্যারিসনকে বারবার ধন্যবাদ দিল তিন গোয়েন্দা। সময় আর গাড়ির পেট্রোল খরচ করার জন্যে টাকা সাধল। কিন্তু নিলেন না হ্যারিসন। বললেন, ওদের সাহায্য করতে পেরে তিনি খুশি। তারপর পিকআপ নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন বাড়ির দিকে।
কিশোরদের ভাড়া করা গাড়িটা পরীক্ষা করে দেখল গ্যারেজের মেকানিক। সমস্যাটা ফুয়েল পাম্পে। সারিয়ে দিল ত্রুটিটা। জ্যান্ত হয়ে উঠল ইঞ্জিন। গাড়িতে উঠে পড়ল তিন কিশোর। হুইল ধরল মুসা।
আবার সেই যব খেতের সামনে দিয়েই তো যেতে হবে, তাই না? জিজ্ঞেস করল মুসা।
মাথা ঝাঁকাল কিশোর।
কাকতাড়ুয়াটাকে আবার দেখতে পারব কিনা কে জানে!
হাতের চেটো দিয়ে থুতনি ঘষতে ঘষতে বিড়বিড় করল রবিন, কিশোর, ওই কাকতাড়ুয়াটাই কিন্তু এবার আমাদের জীবন বাঁচাল।
মাথা ঝাঁকাল মুসা। যেন বাড়িটাতে বাজ পড়বে যে তা সে আগে থেকেই জানত। ওই বাড়ি থেকে আমাদের দূরে থাকতে সাবধান করেছিল। কিন্তু তারপরেও বাড়িতে ঢুকেছি দেখে কৌশলে বের করে এনেছিল।
সশব্দে নিঃশ্বাস ফেলল কিশোর। এত সব চালাকি না করে আমাদেরকে বিপদটার কথা সরাসরি জানিয়ে দিলেই পারত।
তারমানে সন্দেহ আছে তোমার? রেগে গেল মুসা। তুমি আসলেই বড় অকৃতজ্ঞ।
হেসে ফেলল কিশোর। ভূতের কাছে কৃতজ্ঞ হতে বলছ?
আর কোন কথা না বলে নীরবে গাড়ি চালাল মুসা।
যব খেতের সামনে চলে এল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কাকতাড়ুয়াটাকে কাঠের খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় আগের মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।
নামবে নাকি? ঠাট্টার সুরে বলল কিশোর। প্রাণ বাঁচানোর জন্যে ওকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে আসি?।
মুখটা গোমড়া করে রাখল মুসা। জবাব দিল না।
যব খেতের দিকে তাকিয়ে আছে তিনজনেই। পাশ দিয়ে যাবার সময় মনে হলো কাকতাড়ুয়াটা হাসছে ওদের দিকে চেয়ে। তবে ক্রুর হাসি নয়, বোকা বোকা হাসি।
জাদুর পুতুল
অলস ভঙ্গিতে আন্ডারগ্রাউন্ড আটলান্টায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন গোয়েন্দা। বেড়াতে এসেছে রাশেদ পাশার সঙ্গে। তিনি এসেছেন জরুরী কাজে।
রাস্তার মাটির নিচে কিছু দোকানপাট আর ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নিয়ে গড়ে উঠেছে জায়গাটা।
একটা দোকান থেকে লেটেস্ট হিট অ্যালবাম কিনেছে রবিন। কিশোরের হাতে বুকস্টোর থেকে কেনা একটা ব্যাগ। মুসা কিছুই কেনেনি। ইয়া বড় এক কোণ আইসক্রীম খাচ্ছে।
বাপরে, চারটে বাজে, ঘড়ির দিকে তাকাল কিলোর। চলো, হোটেলে চলে যাই। গোসল করা দরকার। চাচার সাথে সাড়ে ছটায় ডিনার। মনে আছে?
