থাক, চেঁচাতে হবে না আর, বলল কিশোর। বেড়াল-টেড়াল কিছু নেই।
হাঁ হয়ে গেছে মুসা। তুমি করেছ ওই শব্দ!
মাথা ঝাঁকাল কিশোর।
বিশ্বাস করতে পারছে না রবিনও। সত্যি!
আবার মাথা ঝাঁকাল কিশোর।
সন্দেহ প্রকাশ করল না কেবল ফারিহা। তার ধারণা, পৃথিবীতে এমন কোন কাজ নেই যেটা কিশোর পাশা করতে পারবে না।
যাই হোক, আবার আগের কথার খেই ধরল কিশোর, আমার প্রশ্ন, একটা আধুনিক পুতুলের রুমালে প্রাচীন গ্রীক ভেনট্রিলোকুইস্টের নাম লেখা কেন? আর এটা এত দামীই বা হয়ে উঠল কেন?
হাত নাড়ল মুসা, আমি বলতে পারব না। তুমিই বলো।
কোন রুমালে যখন কোন নাম লেখা হয়, সাধারণত সেটা হয় ওটার মালিকের নাম, এক এক করে সবার দিকে তাকাল কিশোর, তাই না?
মাথা ঝাঁকাল সবাই।
এখন দুটো ব্যাপার হতে পারে, কিশোর বলল, হয় রুমালটা পুতুলটারই নামে, নয়তো ওটার মালিকের–যে একজন ভেনট্রিলোকুইস্ট।
তাই তো! কিশোরের মতই ব্যাপারটা অনেকখানি আঁচ করে ফেলেছে রবিন। আগে ভাবলাম না কেন? পুতুলটা আসলে স্টেজে ব্যবহার করা হতো, থিয়েটার কিংবা পুতুলনাচ, এ ধরনের কোন শো-বিজনেসে, যে জন্যে এত বড় করে বানানো হয়েছে। পোশাক-আশাকগুলোও তাই এতটা নিখুঁত।
মাথা ঝাঁকিয়ে তার স্বভাবসিদ্ধ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল কিশোর, প্রাচীন সেই ভেনট্রিলোকুইস্টের নামানুসারে রুমালের মালিকের স্টেজ নেম রাখা হয়েছিল ইউরিক্লেস। পুতুলটাকে নিয়ে খেলা দেখাত যে। দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে আসছে এখন সবকিছু।
কিন্তু আমার কাছে এখনও অমাবস্যার রাতের মতই অন্ধকার, মুসা বলল, পোশাকগুলো কাকে পরানো হত, তা নাহয় জানলাম; পুতুলের মালিকের নামও জানা গেল। কিন্তু তাতে আমাদের রহস্যের কিনারাটা কিভাবে হলো?
মিস্টার ইউরিক্লেসকে খুঁজে বের করতে পারলেই হয়ে যাবে, জবাব দিল কিশোর। হুবারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করব পুতুলের এই পোশাকগুলো তার কাছে কেন, কেন এত দামী হয়ে উঠল এগুলো যে নেয়ার জন্যে তার বাড়িতে হানা দিল চোর, কেনই বা রাত দুপুরে ব্যাগে ভরে নিয়ে গিয়ে এগুলো নদীতে ফেলে দিয়ে আসা লাগল তার? এই জবাবগুলো পেয়ে গেলেই সমাধান করে ফেলতে পারব আমরা ইউরিক্লেস রহস্যের।
কিন্তু ওই ইউরিক্লেসকে খুঁজে বের করব কিভাবে আমরা? কোন সূত্র নেই আমাদের হাতে। সূত্র ছাড়া ওকে খুঁজে বের করা অসম্ভব। তা ছাড়া হাতেও আমাদের সময় নেই আর বেশি। তিন দিন পরেই স্কুল খুলে যাবে। না গিয়ে তো আর পারব না।
অত নিরাশ হচ্ছ কেন? দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল কিশোর, যুগ যুগ লাগবে না ইউরিকেসকে খুঁজে বের করতে। অল্প সময়েই হয়ে যাবে। শো-বিজনেস যারা করে, তাদের অফিস আছে। ওখানে ফোন করে খোঁজ নিলেই জানা যাবে ইউরিক্লেস নামের ভেনট্রলোকুইস্টকে কোথায় পাওয়া যাবে।
হুবারকেও জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, রবিন বলল।
তা পারে। তবে জবাব সে নাও দিতে পারে। দিক আর না দিক, তার কাছে আমি যাবই। আজ বিকেলে দল বেঁধে সবাই গিয়ে হাজির হব তার বাড়িতে। আমি দেখতে চাই, পোশাকগুলো দেখলে তার মুখের অবস্থা কি হয়। চমকে যদি যায়, সামলে নেয়ার আগেই প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে নাস্তানাবুদ করে দেব। ভুল কোন জবাব দিলেই হয় কেবল, চেপে ধরৰ কাঁক করে।
পোশাকগুলো আবার জুতোর বাক্সে ভরে ফেলতে লাগল কিশোর।
ফারিহা বলল, রুমালটা খুব সুন্দর। এটা আমি আমার পকেটে রেখে দিই?
তা দাও। না হারালেই হবে।
ঘড়ি দেখল রবিন। বিকেল হতে এখনও অনেক দেরি। সময়টা কিভাবে কাটানো যায়? কি করা যায়, বলো তো?
চলো, গিয়ে কোনখান থেকে চকলেট খেয়ে আসি, প্রস্তাব দিল মুসা।
মনে ধরল সবারই। সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
পথে ফগের সঙ্গে দেখা। কিশোরকে দেখে এগিয়ে এল। হাত তুলে থামার ইঙ্গিত করল ওদেরকে।
টিটকারির সুরে কিশোর বলল, আজ তো আপনার কাছে কোন ব্যাগট্যাগ নেই। কিছু ঢোকাবেন না আমার শার্টের মধ্যে?
গভীর ভাবটা একেবারেই নেই ফগের মধ্যে। কোমল গলায় বলল, ঝামেলা! কাল তুমি ব্যথা পাওনি তো, কিশোর?
অবাক হয়ে গেল ওরা। টিটুকে ঝুড়িতে আটকে রেখেছে কিশোর। সুতরাং সে কোন গোলমাল করতে পারল না। বলল, আজ পুবের সূর্য পশ্চিমে উঠল নাকি, মিস্টার ফগর্যাম্পারকট? এত ভাল ব্যবহার যে?
রাগে ঝিক করে উঠল ফগের চোখ। সেটা পলকের জন্যে। কঠিন কিছু বলতে গিয়েও সামলে নিল। জোর করে হাসি ফোঁটাল মুখে। ঢোক গিলল। তারপর বলল, ক্যাপ্টেন রবার্টসনের কাছে রিপোর্ট করেছিলাম। তাতে হুবারের বাড়ির কুকুর, ওয়োর আর বাচ্চা শিশুর ডাকের কথাও উল্লেখ করেছিলাম।
কৌতূহলী হয়ে উঠল কিশোর, তারপর?
অহেতুক কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করল ফগ। এদিক ওদিক তাকিয়ে দ্বিধা করল। শেষে বলেই ফেলল, ক্যাপ্টেন একবর্ণও বিশ্বাস করেননি। তোমার কথা লিখেছিলাম রিপোর্টে। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন, তোমাকে সহকারী করে নিতে।
ও, এই ব্যাপার। এ জন্যেই এত ভাল ব্যবহার। মিটিমিটি হেসে জিজ্ঞেস করল কিশোর, সহকারী করার নির্দেশ দিয়েছেন, নাকি সহকারী হবার?
আবার জ্বলে উঠল ফগের চোখ। দাঁত কিড়মিড় করল। কিন্তু কঠোর কিছু বলার সাহস পেল না কিশোরকে। আরেকদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে শুধু বলল, ঝামেলা! উফ, ঝামেলা!
এতে আর ঝামেলার কি দেখলেন, কিশোর বলল। ক্যাপ্টেন যখন সাহায্য করতে বলেছেন আপনাকে, নিশ্চয় করব। আবার কথা হলে তাকে আমার সালাম জানাবেন। এখন আমরা চকলেট খেতে যাচ্ছি। পরে সময় করে কথা বলব।
