খুঁজছিল? হাঁ হয়ে গেছে রবিন।
হ্যাঁ, নথি। ট্যাক্সি থেকে নেমে বেশি দূর যেতে পারেনি পিটার। লুকিয়ে পড়তে হয়েছে। এমন জায়গায়, যেখানে গত কদিন ধরে খাবার চুরি যাচ্ছে। চকচক করছে কিশোরের চোখ। পিটার আমাদের নাকের নিচে এই ইয়ার্ডেই লুকিয়ে আছে!
ই.ই..ইয়ার্ডে! তোতলাতে শুরু করেছে মুসা।
যেখান থেকে সে গায়েব হয়েছে সেখান থেকে মাত্র এক মাইল দূরে ইয়ার্ড, বোকা হয়ে গেছে যেন রবিন। মুসা, সেদিন তোমার খাবার ইঁদুরে খায়নি। পিটার খেয়েছে।
হ্যাঁ, মাথা ঝাঁকাল কিশোর। কিডন্যাপারদের হাত থেকে পালাতে গিয়ে এই ইয়ার্ডে ঢুকে পড়েছিল সেদিন পিটার। এখানে এত বেশি জঞ্জাল, লুকানোর। জায়গার অভাব নেই। কাজেই এখানেই, থাকবে ঠিক করেছিল সে। খাবার চুরি। করাও এখানে সহজ। প্রায় সারাটা দিনই রান্নাঘর খালি পড়ে থাকে। কিডন্যাপাররা তাকে ইয়ার্ডে ঢুকতে দেখেছে, কিংবা দেখেনি, যা-ই হোক, ওরা আশপাশে ঘুরঘুর করেছে। আমাকে দেখেই মনে করেছে আমি পিটার। আর কিছু বোঝার অপেক্ষা করেনি। পয়লা সুযোগটা পেয়েই ধরে নিয়ে যাচ্ছিল।
সারাক্ষণ এই ইয়ার্ডেই রয়েছে। বিশ্বাস করতে পারছে না এখনও মুসা।
তাতে কোনই সন্দেহ নেই। এখন আমাদের কাজ ওকে খুঁজে বের করা।
খুঁজব আর কি? বাইরে বেরিয়ে চিৎকার করে নাম ধরে ডাকি, বেরিয়ে চলে আসবে।
মাথা নাড়ল কিশোর। না, তাতে কাজ হবে না। আমাদেরকে চেনে না সে। হয়ত দুর থেকেই দেখেছে শুধু। লুকিয়েছে ভালমতই। হ্যারি আর কিংকেও নিশ্চয়। দেখেনি, তাহলে বেরিয়ে আসত। আমরা চেঁচাতে শুরু করলে আবার ভয় পেয়ে গিয়ে পালাতে পারে। তার চেয়ে খুঁজেই বের করি।
এই জঞ্জালের মাঝে সেটাও সহজ না। কিশোর, অপেক্ষা তো করতে পারি। আমরা। বেরোতে তাকে হবেই, এক সময় না একসময়। সারাক্ষণ লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
না, তা পারবে না। থাকবেও না। কিছুটা নিরাপদ বোধ করলেই বেরিয়ে চলে যাবে, সম্ভবত রেড লায়নে। ট্রেড মিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। তবে তার আগে পর্যন্ত লুকিয়েই থাকবে। সেটা কত দিন ঠিক বলা যায় না।
তাহলে কি করব? রবিনের প্রশ্ন।
একটা বুদ্ধি করেছি। আমার বিশ্বাস, শুধু রাতের বেলাতেই বেরোয় পিটার। যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে। সব কিছু শান্ত থাকে।
সে জন্যেই সারারাত থাকতে বলেছ, বুঝতে পারল মুসা।
হ্যাঁ।
একটা ফাঁদ পাততে পারি না? রবিন বলল, পেতে অপেক্ষা করে বসে থাকব।
ও বুদ্ধিটা সেটাই। খাবারের দরকার হলেই কেবল বেরোয় পিটার। চালাক ছেলে। যতটা দরকার তার চেয়ে কম নেয়, যাতে ব্যাপারটা কারও নজরে না পড়ে। মেরিচাচীর কড়া নজর তার পরেও এড়াতে পারেনি। তবে চাচী ভেবেছে পরিবারেরই কেউ খেয়েছে। ফাঁদ পাততে অসুবিধে হবে না আমাদের।
খাবারের ফাঁদ, মুসা বলল।
ইয়ার্ড নীরব হলেই বেরিয়ে আসবে সে, বলল কিশোর। বাইরে বেরিয়ে প্রচুর কথা বলব আমরা।
কোন বিষয়ে?
যেন বাইরে চলে যাচ্ছি আমরা। কাল রওনা হব। তিনটে প্যাকেট লাঞ্চ তৈরি করে রাখতে হবে সে জন্যে। ওগুলো রান্নাঘরে না রেখে রাখব পাশের বারান্দায়। যাতে সকালে সহজেই নিতে পারি। কথাগুলো তার কানে যাবেই এমন না-ও হতে পারে। তবে যেতেও পারে। সে জন্যেই বলব।
বুঝলাম। তিনটে প্যাকেটে অনেক সময় পার করতে পারবে সে। কাজেই লোভী হয়ে উঠবেই। আকর্ষণটা এড়াতে পারবে না।
মাথা ঝাঁকাল কিশোর। ভাববে, আমরা কিছু বুঝতে পারব না। ইঁদুরকে দোষ। দেব, কিংবা কোনও ভবঘুরেকে। রাত দশটায় ইয়ার্ড থেকে সরে যাব আমরা। খাবারের তিনটে প্যাকেট রেখে চলে যাব শোবার ঘরে। দুজন ঘরেই থাকব। আরেকজন পা টিপে টিপে নেমে চলে আসব নিচে। রান্নাঘরে বসে নজর রাখব। বারান্দার দিকে, যেখানে টেবিলে খাবারগুলো রাখব। দুই ঘণ্টা পর পর পালা করে পাহারা দেব আমরা।
ইমারজেন্সি সিগন্যালগুলো সঙ্গে রাখতে হবে। পিটারকে দেখলেই সঙ্কেত দেব অন্য দুজনকে। যদি ঘুমিয়েও পড়ি, জোরাল সঙ্কেত জাগিয়ে দেবে। আমাদেরকে।
তারপর? জিজ্ঞেস করল রবিন।
দৌড় দেব দুজনেই। দুদিক থেকে গিয়ে পিটারের পালানোর পথ বন্ধ করে দেব। তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলা হবে তাকে। যাওয়ার একটাই পথ থাকবে তার তখন। সামনের দিক। গেট থাকবে তালা দেয়া। যাবে কোথায়? ধরা তাকে। পড়তেই হবে।
তার পর আর কি? উপসংহার টানল মুসা। তাকে আমাদের পরিচয় দেব। শান্ত থাকতে বলব। হ্যারি আর কিংকে ফোন করব।
মাথা ঝাঁকাল কিশোর। তবে বেশি হৈ চৈ করা চলবে না আমাদের। চাচা চাচী যেন জেগে না যায়। চল এখন। সিগন্যালগুলো বের করে নিয়ে কাজে লেগে। যাই।
ওয়ার্কশপে এসে কাজে লাগল তিন গোয়েন্দা। আসলে কাজের ভান করতে লাগল। অনেক কথা বলল ওরা, জোরে জোরে। শব্দ করল। মেরিচাচী আর রাশেদ চাচা তখনও ঘুমাননি। কাজেই অসুবিধে হল না তাদেরকে নিয়ে। ওয়ার্কশপ থেকে বেরিয়ে লাঞ্চ প্যাকেট তৈরি করতে বসল তিনজনে। সেগুলো নিয়ে গিয়ে রাখল। বারান্দার টেবিলে, এমন জায়গায়, যাতে রান্নাঘর থেকে সহজেই চোখে পড়ে। দশটা বাজার কয়েক মিনিট আগে ইয়ার্ডের বাইরের আলোগুলো সব নিভিয়ে দিল। তারপর রওনা হল কিশোরের শোবার ঘরের দিকে।
প্রথম পাহারা দিতে নামল রবিন। লুকিয়ে রইল এসে অন্ধকার রান্নাঘরে। মেরিচাচী আর রাশেদ পাশা ওপর তলায় শোবার ঘরে চলে গেছেন। সঙ্কেত দেয়ার যন্ত্রগুলো শার্টের পকেটে ভরে নিয়েছে কিশোর আর মুসা। রবিনেরটা তার হাতে।
