আমারও না, হতাশ মনে হল জামানকে। পড়লাম আরেক সমস্যায়, তাই না?
তাই, মাথা নাড়ল মুসা। আবার কি করে খুঁজে পাঁব বাড়িটা? বাড়িই বা ফিরব কি করে? রকি বীচ থেকে কম করে হলেও পনেরো মাইল দূরে রয়েছি আমরা। হলিউড থেকে মাইল দশেক। জায়গাটা লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলী বলেই মনে হচ্ছে।
ট্যাক্সি নিতে পারি, বলল জামান।
তা পারি, বলল মুসা। কিন্তু আমার পকেটে যা আছে তাতে কুলাবে না।
আমার কাছে আছে, আশ্বাস দিল জামান। অনেক টাকা আছে। আমেরিকান ডলার। বেশ পুরু একটা নোটের তাড়া বের করে দেখাল সে।
ভাল, উঠে দাঁড়াল মুসা। আঙুল তুলে একটা দিক দেখাল। আলো। শহর নিশ্চয়। ট্যাক্সি পাওয়া যাবে ওদিকে।
দ্রুত এগিয়ে চলল দুজনে। মোড়ের কাছে একটা ট্যাক্সি স্ট্যাণ্ড। ভাড়া দিতে পারবে? ছেলেদের দেখে সন্দেহ প্রকাশ করল ড্রাইভার। জামান নোটের তাড়া দেখাতেই নেমে এসে পেছনের দরজা খুলে ধরল।
গাড়িতে চড়ার আগে আশপাশের এলাকা সম্পর্কে একটা ধারণা নিয়ে নিল। অনুমান করল, পনেরো-বিশ ব্লক দূরে রয়েছে স্টোর-হাউসটা। ড্রাইভারকে অপেক্ষা করতে বলে এগিয়ে গেল একটা পাবলিক ফোন-বুথের দিকে।
প্রথমবারই রিঙ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশ থেকে রিসিভার তুলে নিল কিশোর।
মুসা, বলল গোয়েন্দাসহকারী। ভালই আছি। বাড়ি রওনা হচ্ছি এখনই। অনেক কিছু বলার আছে তোমাকে। বাড়ি থেকে ফোনে জানাব।
ওয়াকি-টকি ব্যবহার কর, বলল কিশোর। আমি আমার ঘরে অপেক্ষা করব। তোমার সাড়া পেয়ে খুব খুশি লাগছে, সেকেণ্ড।
কিশোরের গলা শুনেই বুঝতে পারছে, সত্যিই ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। গোয়েন্দাপ্রধান। খুশি হয়েছে এখন ঠিকই। তবে খুশি বেশিক্ষণ থাকবে না, ভাবল মুসা। কফিনটা কোথায় আছে, দেখেছে মুসা, অথচ ঠিকানা বলতে পারবে না জানতে পারলে, কিশোরের চেহারা কেমন হবে, মনের চোখে দেখতে পাচ্ছে পরিষ্কার।
গাড়িতে গিয়ে উঠল মুসা। জামান আগেই উঠে বসে আছে।
পথে আর কোনরকম কিছু ঘটল না। নিরাপদেই বাড়ি পৌঁছল মুসা। জামান নামল না ট্যাক্সি থেকে। সে চলে যাবে প্রফেসর বেনজামিনের বাড়ির কাছাকাছি, যে বাড়িটা ভাড়া নিয়েছে জলিল, সেখানে। সেখানেই উঠেছে ওরা এদেশে এসে।
গাড়ি থেকে নামতে যাচ্ছিল মুসা, খপ করে তার হাত চেপে ধরল জামান। মুসা, তোমরা সাহায্য করবে আমাকে? রা-অরকন আর তাঁর কফিনটা খুঁজে বের করতেই হবে। যদি বল, তোমাদের সার্ভিস ভাড়া করতে রাজি আছি আমি।
ভুল করছ তুমি, জামান, বলল মুসা। টাকার বিনিময়ে কারও কাজ করি না আমরা। করি স্রেফ শখে। তাছাড়া কাজটা হাতে নিয়েছি আমরা আগেই, প্রফেসর বেনজামিনের অনুরোধে।
জামানের জন্যেও কাজটা কর, অনুরোধ করল জামান। রা-অরকন আর কফিনটা খুঁজে বের করে প্রফেসরকে ফিরিয়ে দাও। আবার আমি আর জলিল যাব তার কাছে। আবার চাইব তার কাছে মমিটা। অনুরোধে কাজ না হলে অন্য উপায় দেখব।
সেটা করা যেতে পারে, মাথা নাড়ল মুসা। আগামীকাল সকাল দশটায় পাশা স্যালভেজ ইয়ার্ডে হাজির থেক। কিশোরের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
সায় জানাল জামান। হাত মেলাল দুজনে। মুসা নামতেই ছেড়ে দিল ট্যাক্সি।
বাড়িতে ঢুকল মুসা। বসার ঘরে টেলিভিশন দেখছেন বাবা-মা।
এত দেরি কেন, মুসা? ছেলেকে দেখেই বলে উঠলেন মিস্টার আমান। ভাবনায় ফেলে দিয়েছিলে। তোমার মা তো অস্থির হয়ে উঠেছে।
বাবা, কৈফিয়ত দিচ্ছে যেন মুসা, একটা কেসে কাজ করছি আমরা। হারানো একটা বেড়াল খুঁজতে গিয়েছিলাম। তারপর…
হয়েছে, আর ওসব শুনতে চাই না, কড়া গলায় বললেন মা। চেহারা আর কাপড়-চোপড়ের যা হাল করেছ! খানা-খন্দে পড়ে গিয়েছিলে নাকি? যাও, জলদি গোসল সেরে ঘুমাতে যাও।
যাচ্ছি, মা, আরও কিছু গালমন্দ শোনার আগেই ছুট লাগাল মুসা। সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল দোতলায়, নিজের ঘরে। জানালা খুলে দিয়ে চেয়ার টেনে বসল। অ্যান্টেনাটা জানালার বাইরে ঝুলিয়ে দিয়ে সুইচ টিপল ওয়াকি-টকির। সেকেণ্ড বলছি-সেকেণ্ড বলছি।…শুনতে পাচ্ছ, ফাস্ট?
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জবাব এল, ফার্স্ট বলছি। তুমি কেমন আছ, মুসা? কি হয়েছিল?
দ্রুত সংক্ষেপে সব জানাল মুসা। কফিনটা কোথায় আছে, ঠিকানা বলতে পারবে না, তা জানাল সব শেষে।
ওপাশে একটা মুহূর্ত নীরবতা।
খামোকা দোষ দিয়ো না নিজেকে, বলল কিশোর। তোমার আর কিছু করার। ছিল না। কফিনটা খুঁজে বের করবই আমরা। সকালে আলোচনায় বসব। আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। রহস্যের সমাধান তো হয়ইনি, বরং আরও জটিল হয়েছে। তবে, জামান যে বলছে বেড়ালটা রা-অরকনের, তা ঠিক নয়। বেড়ালটা। সত্যিই মিসেস ভেরা চ্যানেলের। আর কোন কথা না বলে চ্যানেল অফ করে দিল ধীরে সুস্থে গোসল সেরে বিছানায় উঠল মুসা। নতুন আরেক সমস্যায় ফেলে দিয়েছে তাকে কিশোর। প্রচণ্ড কৌতূহল কিছুতেই চাপা দিতে পারছে না, অথচ কিছু করারও নেই। এত রাতে আর কিশোরের ওখানে যেতে পারবে না।
মিসেস চ্যানেলের বেড়ালের পা ছিল সাদা, পাওয়া গেছে যেটা, সেটার কালো। তাহলে ওটা ওই মহিলার বেড়াল হয় কি করে?
.
১৩.
হেডকোয়ার্টারে জড় হয়েছে ওরা। কৌতূহলে ফেটে পড়ার জোগাড় মুসা আর রবিনের। কিন্তু কিশোরের নির্লিপ্ত ভাবভঙ্গি দেখে বুঝতে পারছে, এত তাড়াতাড়ি মুখ খুলবে না গোয়েন্দাপ্রধান।
