বাঘের খাঁচা পরিস্কার করি।
কী? হেঁটে আসছে লোকটা। চেহারায় বিস্ময়।
গতরাতে কে যেন ওখানে বোতল ছুঁড়ে মেরেছে। ভাঙা কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে আছে খাঁচায়। নিক আশা করল চিড়িয়াখানার আসল কীপারদের চোখে পড়েনি বোতলটা এবং কাঁচটাচগুলো পরিষ্কারও করেনি। পঞ্চাশ ফুট দূর থেকে, বেড়ার ওপর দিয়ে বোতলটা ছুঁড়ে মেরেছিল ও। নিকের তাক খুব ভাল। ক্লাউডেড টাইগারের ঘরের এক কোণে পড়ে শতধা বিভক্ত হয়েছে বোতল।
ঘুরল পাহারাদার। দেখতে পেল ভাঙা কাঁচের টুকরো এবং পায়চারীরত বাঘকে। কোন্ হারামজাদা এমন কাজ করল! আমার আবার খবরটা জানাতে হবে।
নৈশ পাহারাদার আগেই জানিয়েছে খবর।
তাই নাকি? তাহলে ঠিক আছে। ঘুরল সে। খাঁচার সামনের আউটার রেইলিং টপকে পার হলো নিক।
হঠাৎ কী মনে পড়তে পাহারাদার বলল, তোমার কাছে পরিচয়পত্র আছে তো? তোমাকে ঠিক চিনতে পারছি না আমি।
পরে দেখাচ্ছি, বলল নিক। আগে হাতের কাজটা শেষ করি। সে শরীর দিয়ে খাঁচার তালা ঢেকে রেখেছে। তালার সঙ্গে লাগানো শিকলটা শক্তিশালী ওয়্যার কাটারের এক চাপে কেটে ফেলল।
কী…?
খাঁচার দরজা খুলতে শুরু করেছে, নিক আশা করল জেনি তার ট্রাক নিয়ে পজিশন মতো দাঁড়াবে।
তুমি ওয়্যার কাটার দিয়ে খাঁচা পরিস্কার করবে? কে হে, বাপু, তুমি?
নিক ভারী যন্ত্রটা মাথার ওপর তুলল এবং পাহারাদারের চাদি বরাবর খটাশ করে নামিয়ে আনল। আর্তনাদ ছাড়ল পাহারাদার। পড়ে যাচ্ছে, নিক মুক্ত হাত দিয়ে তার পকেট থেকে কী যেন বের করে নিল।
জেনি উদয় হলো ট্রাক নিয়ে, পজিশন নিতে পিছিয়ে যাচ্ছে। চেঁচিয়ে উঠল কে যেন। নিক ঘুরে দেখে এক কীপার ছুটে আসছে ওদের দিকে। দূরে, গেটের কাছে আরেক গার্ড ফিরল এদিকে।
নিক এক মুহূর্ত সময় নিল বাতাসের গতি প্রকৃতি ঠাহর করে নিতে। তারপর এগিয়ে আসা লোক দুটোকে লক্ষ্য করে এক জোড়া স্মোক বম্ব ছুঁড়ে দিল।
নিক!
জলদি! আমাদের হাতে মাত্র এক মিনিট সময় আছে! সে ট্রাক থেকে একটি প্ল্যাঙ্ক বা কাঠের তক্তা বের করে রেইলিং থেকে খাঁচার দরজা বরাবর বিছিয়ে দিল। এরপর আরেকটা স্মোক বোমা খাঁচার মধ্যে ছুঁড়ে দিয়ে পুরোপুরি খুলে ধরল দরজা।
ভীত, সন্ত্রস্ত বাঘ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তার আস্তানায় সেঁধুতে যাচ্ছিল, কিন্তু ওখানে ধোঁয়া উড়তে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে খাঁচা থেকে লাফ মেরে বেরিয়ে এল। কাঠের তক্তা বেয়ে উঠে গেল অপেক্ষমাণ ট্রাকের ভেতরে। কাজ শেষ! চেঁচাল নিক। তক্তাটি টেনে নিয়ে পিকআপ ট্রাকের ইস্পাতের দরজা বন্ধ করে দিল দড়াম করে। এখন ভাগো!
এক গার্ড ধোয়ার পর্দা ভেদ করে চলে এসেছিল, হোলস্টারে হাত রেখেছে, এমন সময় গুলির শব্দ হলো। মেইন গেট থেকে শব্দটা এসেছে, বলল নিক, হাঁচড়ে পাঁচড়ে উঠে বসল মেয়েটির পাশে। ঘটনা কী?
জবাব দিল না জেনি। সবেগে গাড়ি ছোটাল সার্ভিস গেট অভিমুখে। প্রবল একটা সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত ছিল নিক, তবে গেট এখনও ভোলা। ওদের পেছনে পাহারাদার বেহুদাই গুলি ছুঁড়ল। ওরা ততক্ষণে পগারপার।
এই ট্রাকে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না, বলল জেনি।
ট্রাক চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথের পাশ কাটিয়ে সগর্জনে ছুটে যাচ্ছে, সাইড উইন্ডো দিয়ে তাকাল নিক। আর্মারড কারটিকে দেখতে পেল। দরজা খোলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মূল গেটের পাশে। দুই উর্দিধারীকে দেখা গেল পেভমেন্টে চিৎপাত পড়ে আছে।
ট্রাকের কথা বাদ দাও, ঘোঁত ঘোত করল নিক। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কী?
মানে?
মানে তুমি ভালো করেই জানো। তোমার বন্ধুরা আমার সঙ্গে দারুণ একটা চালাকি করেছে।
দক্ষ ড্রাইভারের মতো বনবন করে হুইল ঘোরাল জেনি, সাঁৎ করে ঢুকে গেল একটা সাইড রোডে। ধুলোময়, এবড়ো খেবড়ো রাস্তা। ঝুঁকি লাগছে খুব। বাঘটার গড়গড় ডাক শোনা গেল।
তোমাকে টাকা দেয়া হয়েছে, বলল জেনি ওকে। অনুযোগ বন্ধ করো।
করমিকের আসলে বাঘটার দরকারই ছিল না! আমি ওটাকে ধরে আনতে না পারলেও তোমাদের কিছু আসত যেত না। গোটা ব্যাপারটা ছিল একটা ডাইভারশন যার ফাঁকে আমারড কারে হামলা চালিয়েছে করমিক এবং স্মিথ।
আমি জানতাম না গোলাগুলি হবে, রাস্তায় চোখ রেখে বলল জেনি।
আমি গার্ডের হাতে ধরা পড়লে তোমরা আমাকে ওখানেই ফেলে রেখে চলে আসতে। অল্প কিছু টাকার জন্য তোমরা এসব করলে?
নাক সিঁটকাল জেনি। মাথাটা খাটাও, নিক। আর্মারড কারটা প্রতি সোমবার সকালে টাকা আনতে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় যায়। ভাগ্য ভাল থাকলে আমরা মিলিয়ন ডলার পেয়ে যাব।
ওরা চিড়িয়াখানার ভেতর অপেক্ষা করছিল। আর্মারড কারের লোকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নিয়েছে। আমারড কারের দুজন লোকই কি চিড়িয়াখানায় গিয়েছিল?
ওরা সবসময় তাই করে, বলল জেনি। চিড়িয়াখানা ছিল ওদের কাছে সেফস্টপ, চার্চের মতো। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল চিড়িয়াখানার গার্ডদের অন্যত্র ব্যস্ত রাখা। আর সেজন্যই তোমাকে দৃশ্যপটে আনা হয়েছে।
এবং ভিলেন হিসেবে এখন পুলিশের তাড়া খাব আমি।
আমি দুঃখিত, নিক। ওদের পেছনে আবার হুঙ্কার ছাড়ল বাঘ।
সে তো এখন বলবেই! তুমি আমার সঙ্গে এসেছিলে দেখতে কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলাম কিনা।
ঠিক তাই। আমি ট্রাক আর ওই ছাতার বাঘসহ তোমাকে রেখে যাচ্ছি। আমার গাড়ি নিয়ে চলে যাব।
