ওরা ট্রেইলারে এসে দেখে মদ্য পানে ব্যস্ত করমিক। সে হেসে নিকের দিকে একটি গ্লাস উঁচু করে বলল, ভেবেছিলাম বাঘটাকে সঙ্গে নিয়েই আসবেন।
ওটা তো আপনাদের সোমবার পাবার কথা।
একটি চেয়ারে বসল হ্যারি স্মিথ। হুম, সোমবার সকাল পৌনে দশটায়।
ঠিক ওই সময়েই কেন?
করমিক মদের গ্লাসে চুমুক দিল। ওই সময়েই প্লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা। তখন কি বাঘটাকে নিয়ে আসতে পারবেন?
রাতের বেলা হলে সুবিধে হতো, বলল নিক।
তখন গার্ডদের পাহারা থাকে। আপনি ফ্রন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে ঢুকতেই পারবেন না। অন্তত দিনের বেলায় কারও মনোযোগ আকর্ষণ না করে খাঁচার কাছে যেতে পারবেন।
দেয়ালে হেলান দিল নিক, জেনি লম্বা পা ছড়িয়ে চেয়ারে বসেছে সেদিকে চোখ রেখে বলল, মাঝে মধ্যে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্দ হয় না। এখন বলুন, বাঘটিকে হাতে পাবার পরে আপনাদের প্ল্যান কী।
জেনি পিকআপ ট্রাক চালাবে, বলল করমিক। আপনি চিড়িয়াখানা থেকে বেরুনো পর্যন্ত ও আপনার হুকুম মাফিক কাজ করবে। তারপর আপনাকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাবে মিটিং প্লেসে। আমরা সেখানে আপনার বাকি পাওনা পরিশোধ করে দেব এবং ট্রাক নিয়ে চলে যাব। প্লেনে করে জানোয়ারটাকে কানাডা নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের।
ওই ট্রাকে বাঘটিকে রাখা যাবে?
ইস্পাতে মোড়া পাত আছে ভেতরে, এয়ার হোলসহ। বাঘ এঁটে যাবে দিব্যি।
সায় দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল নিক। আমার কিছু জিনিসপত্র জোগাড় করা দরকার। সন্ধ্যার আগেই ফিরব।
ও জেনির গাড়ি নিয়ে শহরে গেল। টু মারল শনিবারেও ভোলা থাকে এমন একটি ল্যাবরেটরি সাপ্লাই হাউসে। তারপর কুৎসিত দর্শন একটি পেলেট গান কিনল যা দিয়ে ট্রাংকুইলাইজিং তীর ছোঁড়া যায়। এ দিয়ে অজ্ঞান করা হয় জন্তু জানোয়ার। অপহরণের সময় ব্যাঘ্র মশাই যদি অস্থির হয়ে ওঠেন…
.
রোববার বিকেলে নিক আবার চিড়িয়াখানায় গেল কীপারদের ইউনিফর্ম পরখ করতে। সঙ্গে জেনিকেও নিল কারণ মেয়েটির বিষয়ে কিছু খোঁজ খবর দরকার।
করমিকের সঙ্গে কী করে পরিচয় হলো তোমার? সাপের ঘরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করল ও জেনিকে।
এসব পরিচয় কীভাবে হয়? আমি ব্রডওয়ের ছোটখাট একটি থিয়েটারে নাচতাম। স্বপ্ন ছিল একদিন নিজেই নিজের কোরিওগ্রাফি করব। ও বলল আমাকে সাহায্য করবে–কিছু টাকা পয়সা বিনিয়োগ করবে।
করেছিল বিনিয়োগ?
এ কাজটির পরে দেবে বলেছে। কিন্তু একটার পর একটা কাজ শেষ হয়–দেয় না। তবে তোক মন্দ নয় সে। হ্যারিকে সে তার উপযুক্ত জায়গাতেই রেখেছে।
কতদিন ধরে তোমরা তিনজনে একসঙ্গে কাজ করছ?
প্রায় বছর খানেক। হ্যারির একটি কাজের মেয়ে ছিল। কিন্তু সে চলে গেছে। হ্যারি প্রায়ই মেয়েটির গায়ে হাত তুলত। সইতে না পেরে কাজ ছেড়ে দিয়েছে।
করমিক আমার কথা জানল কী করে?
নিকের দিকে ফিরে হাসল জেনি। নির্দিষ্ট কিছু সার্কেলে তুমি খুবই বিখ্যাত মানুষ, নিক ভেলভেট। তবে কল্পনাও করিনি তুমি এত হ্যান্ডসাম।
নিক জানে সে কোনো ম্যাটিনি আইডল নয়। জেনির পায়ের দিকে নজর দেয়া বন্ধ করল ও। চলো, ফিরি।
ফেরার পথে বেলুনঅলার স্টলের সামনে দাঁড়াল ও। দুটো বেলুন কিনল। একটা নীল, আরেকটা লাল। নীল বেলুনটা জেনিকে দিল নিক, লাল বেলুনটা উড়িয়ে দিল বাতাসে। দেখল মৃদু মন্দ হাওয়া হেলে দুলে ওপরে উঠে যাচ্ছে বেলুন। অনেকক্ষণ ওদিকে তাকিয়ে থাকল নিক। ভেলভেট। তারপর দুজনে মিলে বেরিয়ে পড়ল চিড়িয়াখানা থেকে।
.
সোমবার শুরু হলো বৃষ্টি। নিজের ভাগ্যকে অভিসম্পাত করল নিক। ভাবছিল আজ স্থগিত রাখবে কিনা কাজ। তবে সকাল আটটার দিকে হালকা হয়ে এল বর্ষণ। গুঁড়িগুঁড়ি ঝরছে।
চূড়ান্ত কনফারেন্সে মিলিত হলো ওরা। করমিক হ্যান্ডশেক করল নিকের সঙ্গে।
গুডলাক, নিক। বাকি টাকাটা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
তোমরা কোথায় থাকবে বলা যাবে না?
জেনি তোমাকে জানাবে। আজ বিকেলেই দেখা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানার কর্মীরা যে ধরনের পোশাক পরে সেরকম একটা উর্দি পরে নিল ঝটপট। তারপর জেনির পিছু নিল পিকআপ ট্রাকে চড়ে। জেনি। তার গাড়ি পার্ক করল শহরতলীর একটি শপিং সেন্টারের কাছে।
অলরাইট, বস, ট্রাকের ড্রাইভিং সিটে উঠে পড়ল জেনি। আমার জন্য কী হুকুম?
সার্ভিস গেট খোলা থাকবে। আমরা ওখানে ড্রাইভ করে যাব। তারপর তোমাকে ছেড়ে দেব। ওখান থেকে তুমি বাঘের খাঁচাটা দেখতে পাবে। আমি ওখানে পৌঁছা মাত্র তুমি ট্রাক নিয়ে এগোবে ওদিকে। ধীর গতিতে ট্রাক ঘুরিয়ে নিয়ে খাঁচার রেইলিংয়ের ধারে চলে আসবে। দুরূহ কাজের অংশটা ওখানেই।
গার্ডরা তখন কী করবে?
নিক বলল ওকে।
তুমি একটা লোকই বটে, নিক ভেলভেট। এতে কাজ হবে?
এতে কাজ না হলে আমাকে বাঘের থাবা খেতে হবে।
নিশ্চিত হওয়ার জন্য কি আরেকটি বেলুন কিনব?
এক মুহূর্ত আকাশ পরখ করল নিক, ফুলো ফুলো তুলতুলে সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে। না, বাতাসের গতি গতকালকের মতোই। সে তার ইউনিফর্মের অসংখ্য ফোলা পকেটগুলো একবার হাতড়ে নিল। ওরা এখন রেডি।
সার্ভিস গেট দিয়ে পিকআপ ট্রাক নিয়ে ধীরে সুস্থে ঢুকছে জেনি, এগিয়ে এল চিড়িয়াখানার উর্দিধারী এক পাহারাদার। নিক ট্রাক থেকে দ্রুত নেমে সামনে পা বাড়াল।
তুমি এখানে কাজ করো? হাঁক ছাড়ল পাহারাদার।
