ওদের সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হচ্ছে কোথায়?
সরি, নিক। তোমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
নিক হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় বন্ধ করে দিল ইগনিশন। কেঁপে উঠর ট্রাক, ঝাঁকি খেতে খেতে সরু, নোংরা রাস্তাটায় থেমে গেল। বলল, হুকুম করল ও।
জেনি ঝট করে নিজের দিকের দরজাটা খুলে লাফ মারল। মাটিতে পা পড়তে না পড়তেই দিল ছুট। নিকও লাফিয়ে নামল ট্রাক থেকে। পাই করে ঘুরল জেনি। কাঁধের ব্যাগের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে হাত।
আমি নিজেই নিজের দেখভাল করতে পারি, নিক, বলল জেনি, ছোট একটি পিস্তল তাক করল ওর পেটে। তোমার সঙ্গে আসার কোনো দরকার নেই।
ইউ ক্রেজি ফুল! বিদ্যুৎ খেলে গেল নিকের দেহে- সাইড পকেট থেকে বের করে এনেছে পেলেট গান। হাঁটু মুড়ে বসে পড়েই টিপে দিল ট্রিগার। জেনি গুলি করার ঠিক এক সেকেন্ড আগে ওর কব্জিতে ঢুকিয়ে দিল ট্রাংকুইলাইজার ডার্ট।
.
একটি মাঠে অজ্ঞান জেনিকে রেখে ট্রাক নিয়ে শপিং সেন্টারে চলে এল নিক। এখানেই জেনি ওর গাড়িটি রেখে গেছে। রেডিওতে ইতিমধ্যে প্রচার শুরু হয়েছে ডাকাতির খবর। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে খবর শুনল নিক।
আজ সকালে গ্লেন পার্ক জুতে এক ডাকাতির ঘটনায় দুই আর্মারড কার গার্ড খুন হয়েছেন। চিড়িয়াখানার পাহারাদাররা খাঁচা থেকে একটি বাঘ চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর্মারড কারের লোকদের কোনরকম সাহায্য করতে পারেননি। দুই মুখোশধারী বন্দুকবাজ আনুমানিক সাত লাখ ডলার নিয়ে পালিয়েছে। ওদিকে একজন পুরুষ এবং একটি মেয়ে বাঘ চুরি করছিল। হারানো জন্তুটি দুর্লভ প্রজাতির একটি বাঘ– অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
নিক গাড়ির রেডিওর সুইচ অফ করে দিয়ে ঘুরল শপিং সেন্টারের দিকে। ওখানে এখন না যাওয়াই ভালো ভেবে জোরে মিউজিক ছেড়ে দিল। আবার গড়গড় করতে লাগল বাঘ। এরকম একটা প্রাণীর জন্য প্রিন্স সত্যি ৩০,০০০ ডলার খরচ করতে চাইবেন কিনা ভাবছিল নিক।
জেনির গাড়ির গ্লাভ কমপার্টমেন্টে একখানা রোড ম্যাপ পেল ও। সতর্ক নজর বুলাল ওতে। পেন্সিল দিয়ে চারটে বৃত্ত আঁকা হয়েছে। ভুরু কুঁচকে চিন্তা করল করমিক এবং স্মিথ চিড়িয়াখানার আশপাশে, এয়ারপোর্টে কিংবা ট্রেইলারের কোথাও ঘেঁষবে না। তাহলে ওদের পাবার সম্ভাব্য জায়গা একটাই আছে। চতুর্থ বৃত্তের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকাল ও।
ট্রাকে ফিরে এলে এক লোক ওকে বলল, এই যে মিস্টার। আপনি গাড়িতে কোনো জন্তু জানোয়ার রেখেছেন নাকি?
হাসল নিক। হ্যাঁ, আমার কুকুর। বিশালদেহী।
আওয়াজ শুনে তেমনই মনে হলো।
হাসতে হাসতে ট্রাক নিয়ে হাইওয়েতে উঠে পড়ল নিক। আশা করল ট্রাংকুইলাইজার বন্দুকটি আবার ওকে ব্যবহার করতে হবে না।
ম্যাপের চতুর্থ বৃত্তটি নির্দেশ করছে একটি ট্রেইলার ক্যাম্প। তবে করমিক কিংবা হ্যারিকে সেখানে পাওয়া গেল না। নিক জঙ্গলের ধারে ট্রাক থামিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। প্রায় সন্ধ্যা হয় হয় এমন সময় দুই মূর্তির আবির্ভাব ঘটল ক্যাম্পের কাছে। হাসল নিক।
রাত হলে সে ট্রাকটি নিয়ে আস্তে চলে এল ট্রেইলারের পাশে। নেমে পড়ল বাহন থেকে। কীসের যেন গর্জন হচ্ছে? শুনল হ্যারি স্মিথ বলছে ক্যাম্পের ভেতর থেকে। নিক ট্রাকের পেছনের দরজার ছিটকিনি খুলে দিল।
হাতে পিস্তল, ট্রেইলারের দরজায় চেহারা দেখাল করমিক। কে। ওখানে? জেনি, তুমি?
বাঘটিকে নিয়ে এলাম, করমিক। যেভাবে অর্ডার করেছিলে।
ভেলভেট!
ক্ষুধার্ত এবং হিংস্র, তবে শরীর স্বাস্থ্য ঠিকই আছে, ট্রাকের পেছনের দরজা খুলে ফেলল নিক।
আলোকিত ট্রেইলার দেখে আকর্ষিত হয়েছে বাঘ। লাফ দিল এবং করমিকের ঘাড়ে গিয়ে পড়ল। তার পেছনে দাঁড়ানো হ্যারি স্মিথ ত্রাহি চিৎকার দিতে লাগল। তবে বাঘের বিকট হুঙ্কারে তার আর্তনাদ চাপা পড়ে গেল।
.
বাঘটিকে অচেতন করতে ট্রাংকুইলাইজার গান ব্যবহার করতে হলো নিক ভেলভেটকে। সে লুঠের মাল জড় করল একটা ব্যাগে। বাঘের গর্জন শুনে হাজির হয়েছে লোকজন। ভয়ার্ত চোখে অজ্ঞান বাঘ আর ছিন্নভিন্ন লোক দুটোকে দেখছিল তারা। তাদের ভিড় ঠেলে বেরিয়ে এল নিক। দূরে শোনা যাচ্ছে পুলিশের গাড়ির সাইরেন। সে পিকআপ ট্রাকে উঠে চম্পট দিল।
.
মোড়ের দোকান থেকে ছটা ঠাণ্ডা বিয়ার কিনল নিক। ধীরেসুস্থে হাঁটছে। রাতের বাতাসটা উপভোগ করছে। বাড়ির কাছাকাছি এসে দেখে গ্লোরিয়া দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। হাসল সে। দ্রুত হলো হাঁটার গতি।
হ্যালো, নিকি, বলল গ্লোরিয়া। বাড়িতে থাকছ তো এবার?
দেখি, জবাব দিল সে। খুলল একটি বিয়ারের ক্যান।
দ্য বাথ – ট্রাস্টিন ফরচুন
ফেনা মেশানো উষ্ণ পানিতে গোসল করার মজাই আলাদা। বাথটাবে শুয়ে প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিল মেলিটা। চটকা ভেঙে ডেল ডোরবেলের শব্দে। নিশ্চয় জেমস, ওর স্বামী। চাবি নিতে ভুলে গিয়েছিল। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে ওদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকীতে ওকে সারপ্রাইজ দিতে। দ্রুত বাথটাব থেকে উঠে পড়ল মেলিটা। গলা উঁচিয়ে বলল, জেমস তুমি?
সরি, সোনা। আমার কাছে চাবি নেই। জবাব এল।
গা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরছে, হানিমুনে তাইওয়ান থেকে কিনে আনা রোবটি দ্রুত গায়ে চড়িয়ে দরজার দিকে ছুটল মেলিটা।
জেমস, তোমার চেহারা এরকম দেখাচ্ছে কেন? কাজটা হয়নি? দরজা খুলে দিয়ে জিজ্ঞেস করল মেলিটা।
