আমার কিছু ইকুইপমেন্ট লাগবে।
মাথা দোলাল ইংরেজ। আমরা ছোট আকারের একটি পিকআপ ট্রাক জোগাড় করেছি। জেনি হবে তার ড্রাইভার। বাঘটিকে খাঁচা থেকে বের করে এনে ওই ক্লোজড পিকআপ ট্রাকে আপনি তুলবেন এবং ট্রাক নিয়ে চিড়িয়াখানা থেকে কেটে পড়বেন।
সিগারেট ধরাল নিক। চিড়িয়াখানায় পাহারার ব্যবস্থা আছে?
মাথা ঝাঁকাল করমিক। প্রাইভেট পাহারার ব্যবস্থা আছে। তবে বাচ্চাকাচ্চাদের লাইন ঠিক রাখার জন্য এদের সাধারণত ব্যবহার করা হয়। গত বছর নাকি পোলাপানগুলো জন্তুজানোয়ারদের বিরক্ত করেছে।
মানুষের কবল থেকে জন্তু জানোয়ার রক্ষার চেষ্টা, এই প্রথম হাসল নিক। পেশীতে ঢিল পড়ল। সফল হওয়ার সেই পুরানো অনুভূতি শিরায় শিরায় যেন প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। তবে খুব সহজে সাফল্য ধরা দেয় বলে বিশ্বাসী নয় সে। বরং কোনো কাজ সহজ মনে হলে ওর কেমন অস্বস্তি বোধ হয়। কথাটি যেন হঠাৎই মনে পড়ে গেছে এমন ভঙ্গিতে নিক যোগ করল, আমি জেনিকে নিয়ে সকালে বেরুব। একা একজন পুরুষ মানুষ চিড়িয়াখানায় ঘোরাঘুরি করলে সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এক মুহূর্ত দ্বিধাগ্রস্ত দেখাল করমিককে। তারপর মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে বলল, প্রয়োজন হলে নেবেন। তা ছাড়া সোমবার তো ও আপনার সঙ্গে থাকছেই।
আপনারা দুজন কোথায় থাকবেন? জানতে চাইল নিক।
এই ট্রেইলারেই, আপনাদের জন্য অপেক্ষা করব। প্লেন রেডি থাকবে জানোয়ারটাকে কানাডা উড়িয়ে নিয়ে যেতে। তারপর ওখান থেকে মিডল ইস্ট।
করমিক হাসল কি হাসল না বোঝা গেল না। আমরা কি জানতে চেয়েছি আপনি কীভাবে বাঘ চুরি করবেন?
আরেকটি সিগারেট ধরাল নিক। জিজ্ঞেস করেননি বলে খুশি হলাম। এ মুহূর্তে আমি নিজেও জানি না কাজটা কীভাবে করব।
.
শনিবার সকাল। ফুরফুরে হাওয়া বইছে। অনেক উঁচুতে সাদা সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। গাড়ি থেকে নেমে জেনিকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঢুকল নিক। ছুটির দিন বলেই চিড়িয়াখানায় বেজায় ভিড়। টিকিট সিকি ডলার।
আমাদের সময় চিড়িয়াখানায় ঢুকতে পয়সা লাগত না। বলল নিক।
ছোট কিছু শহরে এখনও ফ্রিতে চিড়িয়াখানায় ঢোকা যায়। বলল জেনি। এখানে গার্ডদের বেতন দিতে হয়। মেরু ভালুকের খাঁচার কাছে দাঁড়ানো উর্দিধারী এক লোকের দিকে ইঙ্গিত করল। লোকটার কোমরে রিভলভার, বুকে স্থানীয় সিকিউরিটি সার্ভিসের রূপোলি ব্যাজ।
ওদের কি সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র রাখতেই হয়?
ত্যাগ করল জেনি। বোধহয় গুলি ভরা নেই।
আশা করি। আচ্ছা, এই ক্লাউডেড টাইগারটি কোথায়?
এদিকে। চলুন, আগে বানরদের খাঁচার ধারে যাই। যদি গার্ড। আমাদের লক্ষ করে থাকে!
মেয়েটি বেশ চালাক চতুর। শুধু সুন্দরীই নয়, মাথায় বুদ্ধিও আছে। স্বর্ণকেশী, লম্বা পায়ের মেয়েটির সঙ্গ ভালই লাগছে নিকের।
কিছুক্ষণ বাঁদরদের বাঁদরামি দেখে ওরা বাঘের ঘরের দিকে এগুল। নিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ করছে চিড়িয়াখানার কর্মকাণ্ড। বেড়াসংলগ্ন ফটক থেকে আবর্জনা বোঝাই একটি ট্রাক এল, একজন কীপার সীলদের ঘরের কাছের কংক্রিটের মেঝে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলল, এক বুড়ো বেলুনঅলা ট্যাংকের গ্যাস দিয়ে বেলুনে গ্যাস ভরছে। ফ্রন্ট গেটে চোখ আটকে গেল নিকের। জিজ্ঞেস করল, আমারড কার কীসের জন্য?
ওর কাঁধের ওপর দিয়ে উঁকি দিল জেনি। গতকালকের টিকিটের টাকা তুলতে এসেছে। ছুটির দিনে ওরা দুই তিন হাজার ডলার কামাই করে।
বাঘের খাঁচার সামনে এসে ওরা দাঁড়াল।
ক্লাউডেড টাইগার টি আকারে মস্ত বড়। গায়ে বিভিন্ন রঙের ছাপঅলা পশম। এমন বিচিত্র পশমের বাঘ আগে কখনও দেখেনি নিক। দৃপ্ত পদক্ষেপে খাঁচায় হাঁটাহাঁটি করছেন ব্যাঘ্র মহাশয়, সমস্ত অবয়ব থেকে শ্রেষ্ঠত্বের বিচ্ছুরণ ঘটছে। তার গর্জন এবং চেহারার কাছে পাশের খাঁচার। সিংহ এবং অন্যান্য বাঘগুলোকেও ম্লান লাগছে। রাতের বেলা এরকম একটি জানোয়ারের সঙ্গে সাইনো ইন্ডিয়ান সীমান্তে মুখোমুখি হওয়ার কথা ভাবলেই বুক কাঁপে। শনিবারের এই রৌদ্রকরোজ্জ্বল দুপুরেও বাঘটির সামনা সামনি হয়ে ভয় ভয় লাগছে ওদের।
ওটাকে আমার পছন্দ হয়নি, শিউরে উঠল জেনি।
মনে হচ্ছে যেন খাঁচার শিক ভেঙে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
পড়তেও পারে। তবে আমার কাজ হলো একে খাঁচার বাইরে নিয়ে আসা, সে যেভাবেই হোক।
করমিক একটা মাথা পাগলা। চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ চুরির কথা কে কবে শুনেছে?
হাসল নিক। আমি এরচেয়েও অদ্ভুত সব জিনিস চুরি করেছি– একবার দশ টন স্লট মেশিন চুরি করেছিলাম। কথা বললেও ওর চোখ জোড়া ভারি ব্যস্ত। সবগুলো খাঁচার গেট একটির সঙ্গে আরেকটি সংযুক্ত, তবে ক্লাউডেড টাইগারের খাঁচার গেট শুধু শিকলসহ তালা মারা। পেছনের দেয়ালের একটি দরজা দেখা যাচ্ছে যা দিয়ে জানোয়ারটির ঘরে প্রবেশ করা যায়। অপর এক্সিট হলো খাঁচার সামনে ছোট একটি গেট। এ গেট দিয়ে বাঘটিকে খাবার দেয়া হয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও চলে এখান। থেকেই। গেটের তালা লক্ষ করল নিক। এটা ওর জন্য কোনো সমস্যা নয়।
দেখা হলো, নিক? অবশেষে জিজ্ঞেস করল জেনি।
হুঁ।
ওরা উটের খাঁচার সামনে দিয়ে হেঁটে আসছিল। থমকে দাঁড়াল বুড়ো এক বাইসনের সামনে। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত চেহারা। বাইসনটি যেন বুঝে গেছে। তার দিন শেষ। প্রাণীটিকে দেখে এত খারাপ লাগল নিকের, তাড়াতাড়ি ফিরে এল গাড়িতে।
