জি-জি।
কাল সকালের মধ্যে হয় ওই কারখানার কোনো চিহ্ন থাকবে না অথবা তোমার কোনো চিহ্ন থাকবে না।
ছেলেটা মাথা ঝাঁকিয়ে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল রেস্টুরেন্ট থেকে। মুচকি হাসল ভিন্স। যেভাবেই হোক সে একটা সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে।
.
পুরানো কারখানাটি পুরো দেড়দিন ধরে দাউ দাউ করে জ্বলল। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের লোকেরা দেড়দিন বাদে আগুন নেভাতে পারল। ভিন্স হাসতে হাসতে ফোন করল তার ইনসিওরেন্স ব্রোকারকে।
তবে সেই রাতে সে তার চেরি হিলের বাড়ির ড্রাইভওয়েতে নিজের লিমুজিন থেকে নেমেছে, দেখল চকচকে আঁশের বিরাট একটা কুণ্ডলী তার বাড়ির অর্ধেকটা জড়িয়ে রেখেছে।
মুখ তুলে চাইতেই ভিন্স দেখল সিজল হাসছে তার দিকে তাকিয়ে।
হাই, ভিন্স। লং টাইম নো সি।
ওহ্, হাই, সিজল, ওল্ড গার্ল। কী খবর? বাম হাতের অধৈর্য ইঙ্গিতে সে তার ড্রাইভারকে চলে যেতে বলল। লোকটা লিমুজিন ঘুরিয়ে চলল শহরের গ্যারেজ অভিমুখে। বসকে বাতাসের সঙ্গে কথা বলতে দেখে যারপরনাই বিস্মিত।
তুমি দিন দুই আগে চমৎকার একটি কিউট ছেলেকে পাঠিয়েছিলে কারখানা জ্বালিয়ে দিতে, আদুরে গলায় বলল সিজল।
ও কিউট? ও তো একটা পাংক।
কিন্তু আমার তো ওকে দারুণ কিউট লাগল।
তাহলে তুমি ওখানে ছিলে, অ্যাঁ? আন্দাজ করেছিলাম তুমি ওখানে আস্তানা গেড়েছ। কারণ আমার কয়েকজন লোক গিয়ে আর ফিরে আসেনি।
ওহ, ভিন্স, তুমি এখন আর কিউট নেই। তুমি এখন মোটা এবং কুৎসিত হয়ে গেছ।
তুমি কিন্তু কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জিততে পারবে না, সিজল।
সে সদর দরজায় পা বাড়াল কিন্তু সিজল তার সামনে নখরযুক্ত প্রকাণ্ড একটি থাবা রাখল। ভিন্স ওপরে তাকাল এবং ড্রাগনের চেহারার ভাব দেখে চিৎকার দিল।
ধোঁয়া কেটে গেলে সিজল তার চেরা জিভ বের করে ঠোঁট চাটল।
সুস্বাদু, বলল সে। ওর গায়ে মেদ মাংস একদম ঠিকঠাক মতোই ছিল। অথচ বেচারা এতদিন ভেবেছে আমি ওর আত্মা দখল করে নেব!
দ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি থিফ – এডোয়ার্ড ডেনটিংগার হক
বাড়ির সিঁড়িতে বসে, হাতে বিয়ারের ক্যান নিয়ে সামনের ব্লকে ইলেকট্রনিক্স প্ল্যান্টের শ্রমিকদের কাজ দেখছিল ও অলস চোখে। কামলার কাজ করে খেতে হয় না বলে সে মনে মনে খুশি। কিছুক্ষণ পরে, সাপার শেষ করে গ্লোরিয়া যোগ দেবে ওর সঙ্গে। দেখবে রাস্তার ওপাশে ছেলেদের সঙ্গে তাদের বাবারা বল খেলছেন। খেলা শেষে পিতৃদেবগণ মোড়ের দোকানে যাবেন বাড়ির জন্য রুটি মাখন কিনতে কিংবা সিগারেট ফুঁকতে। নিরিবিলি, শান্তিময় একটি মহল্লা– এ কারণেই জায়গাটা পছন্দ ওর। পড়শীরা কেউ অনর্থক কৌতূহল দেখায় না, ব্যক্তিজীবনে উঁকি মারে না।
নিকি?
উ, গ্লোরিয়ার দিকে মুখ তুলে চাইল সে। বারান্দায় রেইলিংয়ে এসে বসেছে মেয়েটি; লম্বা, সুঠাম পদযুগল দোলাচ্ছে ছন্দায়িত ভঙ্গিতে। গ্লোরিয়া মেয়ে হিসেবে চমৎকার, তবে বড্ড বেশি কথা বলে।
নিকি, তুমি যখন বাইরে কোথাও যাও, তখন কী করো?
বললামই তো ট্রাভেল করি। কোম্পানিগুলো আমাকে ভাড়া করে নতুন নতুন প্ল্যান্ট সাইট খুঁজে বের করার জন্য। বেতনও দেয় ভাল। সে গর্ত হওয়া ক্যানে চুমুক দিল। আশা করছে গ্লোরিয়া বকবক না করে সাঁঝবেলার মৃদুমন্দ হাওয়াটা তাকে উপভোগ করতে দেবে।
তোমাকে ওরা আবার কবে বাইরে পাঠাবে, নিকি?
তা জানি না।
বিয়েশাদী করে সংসার করার সৌভাগ্য কি কখনও আমাদের হবে?
গ্লোরিয়াকে বিয়ে করার কথা প্রায়ই ভাবে সে। মাঝে মাঝে কল্পনা করে বাকি জীবনটা এ পাড়াতেই কাটিয়ে দেবে, সন্ধ্যাবেলায় মোড়ের দোকানে গিয়ে বিয়ার কিনে নিয়ে আসবে। তবে কল্পনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। একদিন হয়তো হবে, বলে সে। সকল প্রশ্নের জবাব আছে এতেই।
রাত দশটার দিকে ফোন বাজল। ঊরুর ওপর থেকে তার হাতটি সরিয়ে দিয়ে অন্ধকারে উঠে দাঁড়াল গ্লোরিয়া সাড়া দিতে। তোমার ফোন, হাঁক ছাড়ল ও।
এসে ফোন ধরল সে। অপরিচিত কণ্ঠ। নিক ভেলভেট বলছেন?
জি।
একটি কাজের ব্যাপারে আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই।
আজ রাতেই?
আপনি যদি আসতে পারেন। ফস্টার হোটেল। রুম ২২৯।
হাসল নিক। আমি হোটেল রুমে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করি না। ওগুলো। শুধু রাত কাটানো আর প্রেম করার জন্য।
ঠিক আছে। তাহলে আপনিই বলুন কোথায়?
হোটেলের সামনের পার্কে। ঝর্ণার ধারে।
এই অন্ধকারে? অনিশ্চিত শোনাল লোকটার গলার স্বর।
আমি অন্ধকারেই আমার সেরা কাজগুলো সেরে ফেলি। এগারোটায়– এবং একা আসবেন।
আপনাকে চিনব কী করে?
আবার হাসল নিক। আমি আপনাকে চিনে নেব। ফোন রেখে দিল। ও এসব লোককে চেনে। এদের চেহারা সুরত, আচরণ সবসময় একইরকমের হয়।
বারান্দা থেকে চলে এসেছে গ্লোরিয়া। কার ফোন, নিকি?
একটা কাজের অফার পেলাম। আমার ফিরতে দেরি হবে। খোলা দরজা দিয়ে বেরোবার সময় সে গায়ে জ্যাকেট চড়াল। মাঝে মাঝে রাতগুলো হয় মধুর।
.
নিউ ইয়র্কের গ্রীনউইচ ভিলেজের মানুষ নিক ভেলভেট। সে এমন একটা যুগে জন্মগ্রহণ করেছে যখন ইটালিয়ান আমেরিকান জনসংখ্যা বোহেমিয়ানদের সীমালঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ব ফলাত। সে তার মূল নামটি হেঁটে ছোট করে নিয়েছে, অন্যান্য হাইস্কুল ড্রপআউটদের মতো পড়াশোনা শেষ না করেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে।
কয়েক বছরের মধ্যে তার কাজের ধরন একটি আকার পেতে থাকে এবং বর্তমানে তার বয়স যখন চল্লিশের কাছাকাছি সে পরিচিতি পেয়ে গেছে একজন এক্সপার্ট হিসেবে। লোকে তাকে এখন ফোন করে এবং তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে, কারণ এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো নিক ভেলভেট ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে না। এ ধরনের কাজে তার তুল্য পৃথিবীতে কেউ নেই।
