বছর গড়ায়। ভিন্স ইতিমধ্যে দারুণ সমৃদ্ধি অর্জন করে ফেলেছে। সে আর এখন সেই আগের রোগা ভোগা ভীত কিশোরটি নেই যখন সিজলের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়েছিল। সে এখন দামী পোশাক পরে, ব্যাংকার এবং ব্রোকারদের সঙ্গে স্টেক ও লবস্টার দিয়ে লাঞ্চ করে।
পুরানো বাসা ছেড়ে ভিন্স বর্তমানে জাসিট চেরি হিলের কাছে প্রাসাদোপম র্যাঞ্চ স্টাইলের একটি বাড়িতে উঠে এলেও এখনও প্রতি রোববারে সকালে ম্যাস এ যোগ দিতে এপিক্যানি চার্চে যায়। সে চার্চের লিটল লীগ বেসবল টিমের স্পন্সর এবং চার্চের বার্ষিক লটারিতে সে প্রতি বছর একটি টয়োটা গাড়ি দান করে।
এসব চ্যারিটির বিষয়ে সহকর্মীদের কাছে ভিন্স ব্যাখ্যা দেয় এগুলো হলো এক ধরনের ইনসিওরেন্স। সে এসময় ওপর দিকে মাথা তুলে তাকায়। তার সঙ্গীরা ভাবে সে স্বর্গের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু ভিন্স তখন সিজলকে খুঁজছে যে কিনা খুব একটা দূরে থাকে না।
সত্যি, ভিন্স। মুখ টিপে হাসে ড্রাগন। আমাকে তুমি এখনও বিশ্বাস করতে পারলে না। এতগুলো বছর বাদে তোমার আত্মার আমার প্রয়োজন। নেই। সত্যি বলছি চাই না।
ভিন্স তারপরেও চার্চে যায় এবং চ্যারিটিতে টাকা ঢালে।
অবশেষে লুই, বুড়ো এবং ভঙ্গুর, ভিন্সকে ফ্যামিলির উত্তরাধিকার বানিয়ে একদিন ঘুমের মধ্যে শান্তিতে মারা গেল। মৃত্যুকালে তার পাশে তার কোনো আত্মীয় স্বজন কিংবা ফ্যামিলির কেউ ছিল না। ফ্যামিলির ইতিহাসে এ সত্যি বিরল ঘটনা।
ভিন্স এখন ফ্যামিলির কাপু বা কর্তা। তার বয়স এখনও চল্লিশ পেরোয়নি। সুঠাম দেহ, চুলে পাক ধরেনি, একটু মুটিয়ে গেছে। তার এখন ব্যক্তিগত দর্জি রয়েছে, আছে নিজস্ব নাপিত এবং অপূর্ব সুন্দরী নারীদের সান্নিধ্য সে উপভোগ করছে যা তার কল্পনাতেও ছিল না।
কাপ্ত হিসেবে তার এ আরোহণে লুইর অন্যান্য সাগরেদরা চ্যালেঞ্জ করে বসল। কিন্তু তাদের কয়েকজন কোনো চিহ্ন না রেখে বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ায় অন্যরা দ্রুতই ভিন্সের সঙ্গে স্থাপন করল শান্তি।
ভিন্স বিয়ে করেনি। তবে সে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করছে জীবন।
তুমি বড্ড বেশি মোটা হয়ে যাচ্ছ, ভিন্স, এক রাতে ওকে সতর্ক করে দিল সিজল। দুজনে মিলে অন্ধকার এবং জনশূন্য ওয়াটারফ্রন্টের সামনে হাঁটতে বেরিয়েছে। এখানেই ওদের প্রথম দেখা হয়েছিল। হার্ট অ্যাটাক ফ্যাটাকের ভয় নেই তোমার?
নাহ, বলল ভিন্স। আমার হার্ট অ্যাটাক হবে না। বরং আমিই ওদের হার্ট অ্যাটাক করে ফেলি। নিজের ঠাট্টায় নিজেই আনন্দ পেয়ে হো হো করে হাসল সে।
তুমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছ, ভিন্স। আগের মতো আর কিউট নেই।
আমার কিউট থাকার দরকার নেই, সিজল। আমার হাতে এখন ক্ষমতা আছে। আমি যেমন খুশি যা খুশি এখন করতে পারি। কে আমার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
সিজল বিরক্ত হলো। তবে ভিন্স তার দিকে নজর দিল না। আমি যা চাই তাই করতে পারি! আকাশের দিকে মাথা উঁচিয়ে চিৎকার করল ভিন্স। আমার আছে ক্ষমতা আর ওই লুথাগুলো আমার ভয়ে মূৰ্ছা যায়! সে হো হো করে হাসতেই লাগল।
কিন্তু, ভিন্স, বলল সিজল। এই ক্ষমতা পেতে আমিই তোমাকে সাহায্য করেছি।
তা তো বটেই, তা তো বটেই। তবে পাওয়ার যখন পেয়ে গেছি তোমার সাহায্যের আর কোনো প্রয়োজন নেই আমার। আমি যা চাই ফ্যামিলির যে কাউকে দিয়ে তা করাতে পারি।
ড্রাগনরা কাঁদে না তবে সিজলের চেহারা এমন হয়ে উঠল যে কেউ দেখলেই তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যেত।
শোনো, অহঙ্কারী গলায় বলে চলল ভিন্স, আমি জানি তুমি আমাকে অনেক অনেক সাহায্য করেছ এবং সে কথা আমি কোনদিন ভুলব না। তুমি এখন আমার প্রতিষ্ঠানের পার্টনার থাকবে, সিজল, ওল্ড গার্ল। তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না।
মাস গড়িয়ে বছর যেতে লাগল, ভিন্স এখন খুব কমই সিজলের সঙ্গে দেখা করে। তার দরকারই হয় না। আর ভেতরে ভেতরে সে খুশি সিজলের সঙ্গে তার আগের মতো ঘন ঘন দেখা সাক্ষাৎ করতে হচ্ছে না বলে।
ওকে আর আমার দরকার নেই। আর আমি তো ওকে আমার আত্মা কিংবা অন্য কিছু বিক্রি করে দিইনি। আমি স্বাধীন এবং গ্লানিমুক্ত।
ড্রাগনরা টেলিপ্যাথিক, পাঠক জানেন।
ভিন্স জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করল যখন নাক গলাল অপূর্ব সুন্দরী, লালচুলের এক তরুণীর প্রতি যাকে সে পছন্দ করে। সেই মেয়েটি এক হ্যাংলাপাতলা তরুণ পাংকের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছিল। সমস্যাটি ভিন্সের কাছে বিশাল মনে হলো। সে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চিন্তা করল।
সে তরুণ পাংককে সেই রেস্টুরেন্টে ডেকে নিল যেখানে লুই ভিন্সকে জীবনের প্রথম বড় কাজের সুযোগ দিয়েছিল।
পাংক দারুণ ভয় পেয়েছে। সে শুনেছে লালচুলো মেয়েটিকে ভিন্স, বিশেষ নজরে দেখে।
শোনো, খোকা, কর্কশ গলায় বলল ভিন্স। ছোকরার সরু কাঁধের ওপর মোটা একটা হাত রাখল। তুমি টুয়েন্টি এইটথ এবং আর্কের মাঝখানের পুরানো বস্ত্র কারখানাটা চেনো?
জি-জি, স্যার,ফিসফিসিয়ে বলল পাংক। ভিন্স প্রায় শুনতেই পেল না।
ওটাতে আগুন লাগলে খুব সহজে পুড়ে যাবে, তাই না?
চোখ পিটপিট করল পাংক, ঢোক গিলল, তারপর মাথা ঝাঁকাল। জি। পুড়ে যাবে তবে…
তবে কী?
কাঁপতে কাঁপতে ছোকরা বলল, শুনেছি দুই তিনজন নাকি ওখানে আগুন লাগাতে দিয়েছিল। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেনি।
কারখানাটা তো আছে এখনও? হুঙ্কার ছাড়ল ভিন্স।
