না, তবে—
আর তোমার আত্মারও আমার দরকার নেই, বোকা ছেলে।
আমাকে কোনো কিছুতে তা হলে সই টই করতে হবে না?
অবশ্যই না।
এবং তুমি এই আবর্জনা পোড়ানোর কাজটা এমনি এমনি করে দেবে?
তার চেয়েও বেশি কিছু করব, ভিন্স। ফ্যামিলির শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছতে আমি তোমাকে সাহায্য করব। আমরা ক্রাইম পার্টনার হব! হিসপিস খালার শিকাগো ফায়ারের ঘটনার পরে এটিই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে মজার ঘটনা।
অ্যাই, আমি শুধু এই গুদামঘরটিতেই আগুন লাগাতে চাই।
তা তো বটেই।
কোনো শিকাগো ফায়ার বা এরকম অন্য আর কিছু নয়।
কথা দিচ্ছি।
মনস্থির করতে বেশ সময় লাগল ভিন্সের। তারপর বলল, ঠিক আছে। চলো কাজটা করি।
সিজল মাথাটা এক দিকে কাত করল। তার আগে গুদামঘর থেকে তোমার বেরিয়ে যাওয়া উচিত নয় কি, ভিন্স?
হাহ্? ও হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
তুমি বরং গাড়ি নিয়ে তোমার বাড়ি চলে যাও, কিংবা আরও ভালো হয় সেই রেস্টুরেন্টে চলে যাও যেখানে তোমার বন্ধুরা আছে।
মানে? আগে তো এ জায়গাটায় আগুন লাগাতে হবে।
ওটা আমার ওপর ছেড়ে দাও, ভিন্স সোনা। গুদামঘরে যখন আগুন লাগবে তখন লোকজন যদি পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেয় ওইসময় তুমি ওদের সঙ্গে ছিলে, তাহলে ব্যাপারটা ভালো হয় না, বলো?
হ্যাঁ, ভালো হয়… একটু সন্দেহ নিয়েই বলল ভিন্স।
ঠিক আছে, বলল সিজল। তুমি তোমার ছোট্ট কিউট শরীরটা নিয়ে রেস্টুরেন্টে চলে যাও, যখন বুঝব তুমি ওখানে নিরাপদে পৌঁছেছ তখন আমি এ জায়গাটা চিতার মতো পুড়িয়ে দেব।
তুমি কীভাবে বুঝবে…?
যে তুমি রেস্টুরেন্টে পৌঁছেছ কিনা? আমার টেলিপ্যাথিক ক্ষমতা আছে, ভিন্স।
কিন্তু আমি কীভাবে জানব…
যে এই ফালতু জিনিসটায় আগুন লাগল কিনা? চিন্তা কোরো না, তুমি আকাশের বুকে অগ্নিশিখা দেখতে পাবে। উত্তেজিত শোনাল সিজলের কণ্ঠ।
আপত্তি করার মতো আর কিছু না পেয়ে ধীরে এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওয়্যারহাউজের দরজায় পা বাড়াল ভিন্স। পথে সিজলের লম্বা লেজটা টপকাতে হলো।
দোরগোড়ায় পৌঁছে ঘুরল ভিন্স। বিলাপের গলায় বলল, তুমি সত্যি বলছ আমার আত্মার পেছনে তুমি লাগবে না?
হাসল সিজল ওর দিকে তাকিয়ে। তোমার আত্মার পেছনে আমি লাগব না, ভিন্স। এ বিষয়ে আমার ওপর ভরসা রাখতে পারো।
.
ওয়্যারহাউসে আগুন লাগার মতো দৃশ্য লোকে বহুদিন দেখেনি। এ কেসটি পুলিশকে একদম বোকা বানিয়ে দিল। ভিন্সকে তারা যথেষ্টই জেরা করল, কারণ সে চুরি করা স্টেশন ওয়াগনের পেছনে রাখা গ্যাসোলিনের ক্যান এবং পেইন্ট থিনার সরিয়ে ফেলতে পারেনি। কিন্তু ওর ওপর কোনো দোষ চাপাতে পারল না, এমনকী গাড়ি চুরির অভিযোগও নয়, লুই বিগ বলস ফ্যালকোনিকে বলে দিয়েছিল সে যেন ওয়াগনের বেজার মালিককে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে।
ফ্যামিলিতে ভিন্সের অবস্থান বৃদ্ধি পেতে শুরু করল। বেশ চোখে পড়ার গতিতেই।
ভিন্সের বিশেষত্ব হয়ে উঠল অগ্নিসংযোগ। লুই তাকে কঠিন কঠিন সব অ্যাসাইনমেন্ট দিতে লাগল এবং কাজ দেয়ার পরের রাতেই দেখা যায় ভিন্স হাওয়া, তবে কাজটি সম্পন্ন হয়ে গেছে।
সিজলের সঙ্গে তার নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ হয়, মাঝে মধ্যে পরিত্যক্ত দালানে, কখনও খালি কোনো লটে। ড্রাগন তখন অবশ্যই অদৃশ্য হয়ে থাকে। খালি লটের ধার দিয়ে হেঁটে যাওয়া দুএকজন পথচারী দেখতে পায় সাজগোজ করা এক তরুণ বাতাসের সঙ্গে কথা বলছে। তারা তরুণকে পাগল ভেবে আর দ্বিতীয়বার ওদিকে ফিরে তাকায় না।
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা শুনতে পায় তরুণটি বাতাসকে জিজ্ঞেস করছে, তুমি সত্যি আমার আত্মার ব্যাপারে আগ্রহী নও?
তবে সিজলের জবাব শুধু ভিন্সই শোনে। না, ভিন্স। আমার আত্মা দিয়ে কোনো কাজ নেই। না তোমার, অন্যের।
মাস যায়। ফ্যামিলিতে ভিন্সের দ্রুত উত্থানে স্বাভাবিকভাবেই অন্য তরুণদের চোখ টাটায় যারা ওর বিরোধী এবং প্রতিষ্ঠানে সামনের দিকে থাকতে চায়। বিরোধিতা মাঝে মাঝে শত্রুতা, হুমকি, এমনকী ভায়োলেন্সও সৃষ্টি করে।
তবে অদ্ভুত ব্যাপার, ভিন্সের সঙ্গে যেই লাগতে গেছে পরে তার আর কোনো হদিস মেলেনি। কোনো চিহ্নই থাকে না তাদের, শুধু একবার ফ্যাটস লোমবার্ডির এক পাটি পোড়া কালো জুতো পাওয়া গেল টুয়েলফথ। এবং থার্টিনথের মাঝখানে টাসকার স্ট্রিটে।
ফ্যামিলির অন্যান্য সিনিয়র সদস্য এবং লুই সমঝদারের ভঙ্গিতে মাথা দোলায়। ভন্স কেবল উচ্চাভিলাষী এবং প্রতিভাবান নয়, সে বেশ চৌকসও। নিজের দোরগোড়ায় কোনো লাশ পড়ে থাকতে দেয় না সে।
অগ্নিসংযোগ থেকে ভিন্স তার হাত বাড়িয়ে দিল লোন শার্কিঙের দিকে। এটি এখনও ফ্যামিলির অপারেশনের কলিজা। তবে কাস্টমারদের ঠিক সময়ে টাকা শোধ করার জন্য বিগ বলস ফ্যালকোনির মতো তাকে হুমকি দিতে হয় না। যেসব কাস্টমার টাকা দেয় না, তাদের গাড়িগুলো দেখা যায় পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ওদের চোখের সামনে একদিন ফুটপাতে দাঁড়ানো। একটি গাড়িতে আগুন ধরে গেল।
খুব দুঃখজনক ব্যাপার, মাথা নাড়তে নাড়তে বলে ভিন্স। পরের বারে না তোমার বাড়িটাই আগুনে পুড়ে যায়। সে রহস্যময় ইঙ্গিত দেয় এবং অদৃশ্য কাউকে লক্ষ্য করে চোখ টেপে। অন্তত উপস্থিত লোকজন কাউকে দেখতে পায় না।
বিগ বলস ফ্যালকোনি যেদিন দেখতে পেল তার ব্যবসা পড়ে যাচ্ছে, সে ভিন্সের পিছে লাগল। তার পরপরই বিগ বস আক্ষরিক অর্থেই ধোঁয়ার মেঘে পরিণত হলো।
