আহ্… তোমার নাম কী?
শশ্রয্যহ, বলল সে। আমি ড্রাগন পরিবারের পোলিশ শাখার মেয়ে।
শশ্র…যয… উচ্চারণ করার চেষ্টা করল ভিন্স।
তুমি আমাকে সিজল বলে ডাকতে পারো, অহঙ্কারী গলায় বলল ড্রাগন।
সিজল। বাহ, খুব সুন্দর নাম তো।
জানতাম তুমি নামটি পছন্দ করবে।
আমি যদি ঘোরের মধ্যে থাকি ওরা এসে আমাকে এখন হোক বা পরে হোক জাগিয়ে তুলবে, ভাবল ভিন্স। ঠিক করল যতক্ষণ পারে ড্রাগনের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাবে।
তুমি বলছ আমাদের লোকেরা এ পর্যন্ত যত ড্রাগনের সঙ্গে মারামারি করেছে তারা সবাই মাগী.. মানে মহিলা ছিল?
ঠিক তাই, ভিন্স। কাজেই দেখতেই পাচ্ছ আমাদের কিশোরী কুমারীদের ধরে ধরে খেয়ে ফেলার যে গল্প ফেঁদেছে মানুষেরা তা কেমন মিথ্যা।
আ-হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে।
আরও বড় মিথ্যা হলো ড্রাগন বধ করার বিষয়টি। ডাহা মিথ্যা।
সত্যি?
তুমি কি জাদুঘরে স্টাফ করা কোনো ড্রাগন দেখেছ? কিংবা ড্রাগনের হাড়? অথবা দেয়ালে ঝোলানো ড্রাগনের মাথা?
আ.. জাদুঘরে আমার তেমন যাওয়া হয় না।
সেক্ষেত্রে আমি তোমাকে কিছু বিশেষ গুহার চমকপ্রদ কিছু প্রদর্শনী দেখাতে পারি। যদি তুমি দেখতে চাও হাড়গোড়, মাথা এবং…
না, না, ধন্যবাদ। আমি এসব দেখতে চাই না, দ্রুত বলল ভিন্স।
না দেখাই ভালো।
পুরুষ ড্রাগনরা সব কোথায়? ওরা নিশ্চয়ই আকারে অনেক বড়।
সিজল নাক দিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে ফোঁস করে একটা শাস ফেলল, ধোঁয়ার দুটো রিং ভিন্সের কানের পাশ দিয়ে চলে গেল।
আমাদের প্রজাতির পুরুষরা ক্ষুদ্রাকৃতির। তোমার চেয়ে আকারে বড় হবে কিনা সন্দেহ। ওরা সবাই ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে বাস করে। ওখানে প্রতি একশো বছর পরে আমাদের উড়ে যেতে হয় মিলনের জন্য নইলে আমাদের প্রজাতিটি তো থাকবে না।
প্রতি একশো বছর অন্তর! এক শতকে মাত্র একবার তোমরা বিছানায় যাও?
সেক্স আমাদের জন্য কৌতুকের বিষয় নয়। তোমাদের জন্যও নয়। তাছাড়া তোমরা এসেছ বানরের বংশ থেকে। বিরক্তিকর মানব প্রজাতি। সারাক্ষণ বকবক আর বকবক এবং একটা না একটা ঝামেলা পাকাচ্ছেই।
আ, ইয়ে…সিজল। বলছিলাম কী তোমার সঙ্গে আলাপ হয়ে বেশ লাগল। কিন্তু দেরি হয়ে যাচ্ছে তো। আমাকে এখন উঠতে হবে। তা ছাড়া…
তুমি এখানে কেন এসেছ সে কথা ভুলে গেলে?
সত্যি বলতে কী ভুলেই গিয়েছিল ভিন্স। এখন মনে পড়ল। এই ওয়্যারহাউসে আমার আগুন লাগাবার কথা।
ঠিক। এবং তোমার ছোট্ট, সুন্দর মাথাটির ভেতরে যে চিন্তাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি, তা হলো, তুমি যদি আজ রাতে এখানে আগুন লাগাতে না পার তাহলে লুই তোমার ওপরে ভয়ানক খেপে যাবে।
হুঁ। ওটাই আমার সমস্যা। মানে বলছিলাম তুমি তো এখানে থাকতে চাও এবং ঘুমাতে চাও, তাই না? অন্যদের মতো আমি তোমাকে বিরক্ত করব না। ধরো, তুমি যখন ভারত মহাসাগরে গেলে কিংবা অন্য কোনো কাজে বেরিয়ে পড়লে তখন আমি আসতে পারি…।
বোকার মতো কথা বোলো না, ভিন্স, বলল সিজল, গদাই লস্করি চালে চার থাবায় ভর দিয়ে উঁচু করল শরীর।
আমি যেকোনো জায়গাতেই ঘুমাতে পরি। আর ঈশ্বরের কৃপায় আগামী বেশ কয়েক দশকের মধ্যে আমার মিলনের কোনো অবকাশ নেই। আর ওই লোকগুলোর কথা বলছ… ওরা আমাকে বিরক্ত করছিল। কিন্তু তুমি খুব কিউট। খুব ভালো।
ধীরে ধীরে খাড়া হলো ভিন্স, দেখে অবাকই হলো তার কম্পমান হাঁটুজোড়া তাকে সিধে করে রেখেছে। সিজল লম্বা, চকচকে শরীর দিয়ে ভিন্সকে কুণ্ডলী পাকিয়ে জড়িয়ে ধরে হাসল। তার দাঁতগুলো যেন কসাইয়ের ধারাল ছুরি।
সিজল বলল, এই পুরানো জায়গাটায় থাকতে থাকতে আমি ক্লান্ত। এটাকে দুজনে মিলে পুড়িয়ে ফেললে কেমন হয়?
কী?
তোমার চেয়ে আমি অনেক ভালভাবে এ জায়গাটা পুড়িয়ে দিতে পারব, ভিন্স কিউটি, বলল সিজল। এবং আমি পেছনে গ্যাসোলিনের কোনো চিহ্ন রেখেও যাব না।
কিন্তু…
তুমি একদম ক্লিয়ার থাকবে। আর কোনো পুলিশকে আমার ধারে কাছে আসতে দেখলেই আমি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারব।
অদৃশ্য?
নিশ্চয়ই। দেখবে? এবং অদৃশ্য হয়ে গেল সিজল।
অ্যাই, কোথায় গেলে?
এই তো আমি, ভিন্স। প্রকাণ্ড চকচকে শরীর নিয়ে পুনরাবির্ভাব ঘটল সিজলের।
ভিন্স হাঁ করে তাকিয়ে থাকল, তার কালো কোঁকড়ানো চুলের মাথার নিচে চিন্তাভাবনাগুলো যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।
তার দিকে তাকিয়ে হাসল সিজল। তুমি কী বলো, কিউটি? একসঙ্গে দুজনে মিলে দুষ্কর্ম করি? তুমি আর আমি মিলে দারুণ কিছু করতে পারব, ভিন্স। আমি তোমাকে শীঘ্রি ফ্যামিলির শীর্ষে তুলে দিতে পারব।
ভিন্সের ধীরগতিতে উত্তেজিত হতে থাকা মনে ভয়ঙ্কর একটা চিন্তা খেলে গেল। এক মিনিট। আমি এরকম ঘটনা টিভিতে দেখেছি। তুমি আমাকে সাহায্য করবে, বদলে আমার আত্মা তোমাকে বিক্রি করে দিতে হবে, তাই না?
তোমার আত্মা? তোমার আত্মা দিয়ে আমি কী করব?
তুমি শয়তানের পক্ষে কাজ করছ এবং তুমি আমার তিনটে ইচ্ছে পূরণ করবে, তবে বিনিময়ে মৃত্যুর পরে আমার আত্মা তোমাকে দিয়ে দিতে হবে।
গুরুভার মাথাটি নাড়ল সিজল, তাকে খানিকটা অপমানিত মনে হলো। ভিন্স– স্বীকার করছি হাজার বছর ধরে ড্রাগন এবং মানুষদের মধ্যে তেমন সুসম্পর্ক নেই, তবে আমরা শয়তানের পক্ষে কাজ করি না। এমনকী আমি নিশ্চিতও নই শয়তান বলে কিছু আছে কি-না। আমি কোনোদিন শয়তান দেখিনি। তুমি দেখেছ?
